Published : 12 Sep 2025, 09:56 AM
জয়ের জন্য শেষ বলে বারবাডোজ রয়্যালসের প্রয়োজন দুই রান। বল হাতে ছুটলেন জেসন হোল্ডার। স্টাম্পের বেশ দূর থেকে করলেন ডেলিভারি, নিখুঁত ইয়র্কার। বল লাগল ব্যাটসম্যানের প্যাডে। জোরাল আবেদনে আম্পায়ার আঙুল তুলে দিতেই খ্যাপাটে দৌড়ে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকলেন হোল্ডার। ধারাভাষ্যকার তখন চিৎকার করে চলেছেন, “বারবাডোজ থেকে এসে বারবাডোজের বিপক্ষে… প্যাট্রিয়টসের আশা বাঁচিয়ে রাখলেন জেসন হোল্ডার… হাজারো বারবাডিয়ানের হৃদয় থেকে ছিনিয়ে নিলেন তিনি প্লেঅফের আশা…।”
হ্যাঁ, বারবাডোজেরই সন্তান হোল্ডার। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ক্যারিয়ারে আগের ১০ মৌসুমের সবকটি খেলেছেন বারবাডোজ রয়্যালসের হয়েই। এবার ঠিকানা বদল করার পর তার হাতেই সমাপ্তি হলো বারবাডোজের প্লেঅফ সম্ভাবনার। রোমাঞ্চ-উত্তেজনার উথাল-পাথাল স্রোতে ভেসে ১ রানের জয়ে সিপিএলে প্লেঅফের আশা জিইয়ে রাখল সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস।
অথচ শেষ ওভারটি হোল্ডার শুরু করেছিলেন প্রথম বলে ছক্কা হজম করে। তৃতীয় বলে একটি ওয়াইড দেওয়ায় প্রবল হতাশা প্রকাশ করেছিলেন আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে। শেষ পর্যন্ত নিজেকে সামলে রেখে তিনিই দলের ত্রাতা।
ম্যাচের প্রথম ভাগে ৫ ছক্কায় ৩০ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এরপর বল হাতে দুই উইকেট ও শেষ বলের নায়ক, ম্যাচটিকে বলা যায় আসলে হোল্ডারের ম্যাচ।
বারবাডোজের ব্রিজটাউনে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালের ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস। ওপেনিংয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ান ৩৯ রান করেন ৩৬ বল খেলে। টপ অর্ডারে আন্দ্রে ফ্লেচার, এভিন লুইস ও পরে কাইল মেয়ার্স ভালো করতে পারেননি। ১২ ওভার শেষে তাদের রান ছিল ৫ উইকেটে ৭৪।
সেখান থেকেই দলকে এগিয়ে নেন হোল্ডার। পাল্টা আক্রমণে উপহার দেন ঝড়ো ফিফটি। ২৩ বলে ৩০ রান করে তাকে সঙ্গ দেন নাভিন বিদাইসি।
২০ ওভারে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস তোলে ১৫০ রান।
সেই রান তাড়ায় ওপেনিংয়ে ২২ বলে ২৯ রান করে ফেরেন ব্র্যান্ডন কিং, ২২ বলে ২২ কুইন্টন ডি কক। পরে শেরফেন রাদারফোর্ড (২০ বলে ২৫) ও রভম্যান পাওয়েল (১৩ বলে ১৬) মেটাতে পারেননি সময়ের দাবি। বারবাডোজের আশা জিইয়ে রাখেন রাসি ফন ডার ডাসেন।
শেষ দুই ওভারে ২৬ রান প্রয়োজন পড়ে বারবাডোজের। নাসিম শাহর করা ১৯তম ওভারে ১২ রান নেয় তারা। এই ওভারে ফন ডার ডাসেনের ক্যাচ ছাড়েন মিকাইল লুইস।
শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ১৪ রানের। প্রথম বলেই লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে দেন ফন ডার ডাসেন। ওয়াইডসহ পরের চার বল থেকে আসে ছয় রান। শেষ বলে স্ট্রাইকে ছিলেন ড্যানিয়েল স্যামস। হোল্ডারের ইয়র্কারে ফ্লিক করতে গিয়ে গড়বড় করে ফেলেন এই অস্ট্রেলিয়ান।
আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেওয়ার পর অবশ্য রিভিউ নেন স্যামস। তবে রিভিউয়ে দেখা যায়, বল লাগছিল মিডল স্টাম্পে। তবে আউট না হলেও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের সমস্যা ছিল না। পায়ে বল লাগার পর যে রান নিতেই ভুলে যান স্যামস!
আউট না হলেও তাই ওই বলে রান না হওয়ায় সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস ১ রানেই জিতত।
জয়ের পর সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের প্লেঅফ আশা জিইয়ে থাকলেও তা আসলে সামান্য। তাদের সব ম্যাচ শেষ, নির্ভর করতে হবে এখন অন্য দলের ওপর। তাদের সমান আট পয়েন্ট গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের। তাদের ম্যাচ বাকি আরও দুটি। গায়ানা দুটি ম্যাচই যদি হারে এবং রান রেটে পিছিয়ে পড়ে, তবেই কেবল শীর্ষ চারে থাকতে পারবে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস।