Published : 22 Mar 2026, 03:42 PM
কয়েকদিন আগে অভিষেকে দলের জয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা কনর এস্তেহেইজেন এবার পেলেন প্রথম অর্ধশতকের দেখা। সিরিজে প্রথমবার দেড়শ ছাড়ানো সংগ্রহ গড়তে পারল দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে বোলারদের সম্মিলিত অবদানে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল প্রোটিয়ারা।
ওয়েলিংটনে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ১৯ রানে। তাদের ১৬৪ রানের জবাবে শেষ দিকে খেই হারিয়ে ১৪৫ রানে গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান এস্তেহেইজেন। এই সিরিজ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা ব্যাটসম্যান করেন ৫৭ রান। ম্যাচজয়ী ইনিংসে সেরার পুরস্কার জয় করেন তিনি।
পরে বল হাতে তিনটি উইকেট নিয়ে নিউ জিল্যান্ডকে আটকে রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন জেরাল্ড কুটসিয়াও। ৩১ রান খরচায় তিনটি উইকেট নেন তিনি।
নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের বিশ্রাম ও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথামের চোটের পর এই ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেন জিমি নিশাম। প্রায় সাড়ে ১৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবার দেশকে নেতৃত্ব দিলেন এই অলরাউন্ডার।
অল্প রানের প্রথম ম্যাচে বোলারদের নৈপুণ্যে সিরিজে শুভসূচনা করা দক্ষিণ আফ্রিকা পরের দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।
ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে শুরুটা যদিও তাদের ভালো হয়নি। টস জিতে ব্যাটিংয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট ভিয়ান মুল্ডারকে হারায় তারা।
তবে দ্বিতীয় উইকেটে টনি ডি জর্জির সঙ্গে ৮০ রানের জুটিতে শক্ত ভিত গড়ে দেন এস্তেহেইজেন। সিরিজের প্রখম ম্যাচে, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ৪৫ রান করা এই ব্যাটসম্যান এবার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৫৭ রান করে নবম ওভারে ফিরে যান। ৩৬ বলের ইনিংসটি সাজান তিনি সাতটি চার ও তিনটি ছক্কায়।
পরের ওভারে ফিরে যান ডি জর্জিও (২১)। চতুর্থ উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৮ রানের জুটি গড়েন রুবিন হার্মান ও ডিয়ান ফরেস্টার (১৯)। ২৮ রান করে অপরাজিত রয়ে যান হার্মান।
রান তাড়ায় শুরুটা বেশ ভালোই করে নিউ জিল্যান্ড। প্রথম দুই ওভারেই ২৫ রান তোলে তারা। অভিষেকে তেমন কিছু করতে পারেননি কাটেনে ক্লার্ক, তৃতীয় ওভারে তার বিদায়ে ভাঙে জুটি। দ্রুত রান তোলা টিম রবিনসন ২২ বলে ৩২ রান করে ফিরে যান। চারটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি।
এরপর আর কেউ দলের হাল ধরতে পারেননি। তাই ১০ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান তুলে ফেললেও পরে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যের অনেক আগেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
বল হাতে কুটসিয়া ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ওটনিল বার্টম্যান, প্রেনেলান সুব্রায়েন ও কেশাভ মহারাজ। এই তিনজনই দুটি করে উইকেট নেন।
সিরিজের শেষ ম্যাচ মাঠে গড়াবে আগামী বুধবার, ক্রাইস্টচার্চে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৬৪/৫ (মুল্ডার ০, ডি জর্জি ২৩, এস্তারহুইজেন ৫৭, হার্মান ২৮*, ফরেস্টার ১৯, স্মিথ ১৯, লিন্ডা ১৪*; জেমিসন ৪-১-২৯-২, ফোকস ৪-০-৩৫-১, সিয়ার্স ৪-০-২২-১, নিশাম ৪-০-৪৯-০, ম্যাকনকি ৪-০-২৬-১)
নিউ জিল্যান্ড: ১৮.৫ ওভারে ১৪৫ (রবিনসন ৩২, ক্লার্ক ৯, ক্লেভার ২৬, কেলি ১৯, জ্যকবস ৩, নিশাম ৬, ম্যাকনকি ১০, ক্লার্কসন ১০, ফোকস ৭, জেমিসন ১৩, সিয়ার্স ২*; লিন্ডা ১-০-১৫-০, কুটসিয়া ৩.৫-০-৩১-৩, মুল্ডার ৩-০-৩০-১, বার্টম্যান ৪-০-৩০-২, সুব্রায়েন ৩-০-১৩-২, মহারাজ ৪-০-২২-২)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯ রানে জয়ী
সিরিজ: চার ম্যাচ শেষে সিরিজ ২-২ সমতায়
ম্যান অব দা ম্যাচ: কনর এস্তেহেইজেন।