Published : 03 Jun 2026, 02:06 PM
ব্যাট হাতে দুর্দান্ত। নেতৃত্বে দারুণ। রাজাত পাতিদারের এমন যুগলবন্দি দলের সাফল্যে বড় সহায়ক হয়েছে বলে মেনে করেন সাচিন টেন্ডুলকার। কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারে মতে, আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর টানা দ্বিতীয় শিরোপায় বড় ভূমিকা ছিল দলটির অধিনায়কের।
আইপিএলের ২০২৫ আসরের আগে যখন রাজাত পাতিদারকে অধিনায়ক করা হয়, চমকে গিয়েছিলেন অনেকেই। তারকাবহুল দলের অধিনায়ক হিসেবে তিনি কেমন করবেন, সংশয় ছিল প্রবল। কিন্তু সেই পাতিদারের নেতৃত্বেই ১৭ আসরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে প্রথমবার শিরোপার স্বাদ পায় দলটি।
প্রথম শিরোপার হাত ধরেই আসে দ্বিতীয় ট্রফি। গুজরাট টাইটান্সকে হারিয়ে এবারও আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় বেঙ্গালুরু।
প্রথম শিরোপায় নেতৃত্বে নজর কাড়লেও ব্যাট হাতে ততটা উজ্জ্বল ছিলেন না পাতিদার। এবার নেতৃত্বে যেমন তিনি ছিলেন আরও ক্ষুরধার ও প্রস্ফুটিত, তেমনি ব্যাট হাতেও দারুণ এক মৌসুম কাটান। মিডল অর্ডারে তার বিধ্বংসী ব্যাটিং প্রতিপক্ষ দলগুলির জন্য ছিল আতঙ্ক।
টুর্নামেন্ট শেষে ‘রেডিট’-এ লেখা কলামে টেন্ডুলকার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন পাতিদারের।
“প্রতিটি সফল দলই একটি টুর্নামেন্ট চলাকালীন নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলে। বেঙ্গালুরুর পরিচয়টি যেন গড়ে উঠেছিল সম্মিলিত দায়িত্ববোধকে কেন্দ্র করে। রাজাত পাতিদার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি ততটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল আরেকটি ব্যাপার, সে এমন একটি পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করেছিল, যেখানে অন্যরাও একই কাজ করতে পারত।”
“নেতৃত্ব এবং অবদানের মধ্যে এই ভারসাম্যই তাদের আরও একটি ফাইনালে পৌছানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।”
এবারের আইপিএল নিয়ে কিছূ লিখতে গেলে তো বৈভাব সুরিয়াভানশিনর প্রসঙ্গ না এনে উপায় নেই। ১৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানকে নিয়ে মুগ্ধতার কথা বেশ কবারই বলেছেন টেন্ডুলকার। কিশোর ব্যাটসম্যানের ব্যাটিংয়ের নানা দিকের বিশ্লেষণও করেছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম ব্যাটসম্যান তার এই কলামে তুলে ধরলেন সুরিয়াভানশির সামগিো্রক প্রভাবের দিকটি।
“বৈভাব সুরিয়াভানশির প্রভাব শুধু তার করা রানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা খেলার ওপর আরও গভীর প্রভাব ফেলত। প্রতিপক্ষরা তাকে নিয়ে ভাবছিল, দলগুলো তাকে নিয়ে পরিকল্পনা করছিল এবং সে ক্রিজে আসার অনেক আগে থেকেই ভক্তরা তার জন্য অপেক্ষা করছিল।”
“এলিমিনেটর ও কোয়ালিফায়ার, উভয় ম্যাচেই তার দ্রুত রান করার ক্ষমতা প্রমাণ করে যে, চাপ বাড়লেও তার মনোবল অটুট ছিল। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যতবারই সে মাঠে নামত, তার ব্যাটিং রাজস্থান রয়্যালসকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে দিত।”
টেন্ডুলকার আলাদা করে বললে আরেকটি দলের কথা। টুর্নামেন্টের প্রথম ভাগে সবচেয়ে দাপুটে ও আকর্ষণীয় ক্রিকেট খেলেছে পাঞ্জাব কিংস, প্রথম সাত ম্যাচে তারা ছিল অপরাজিত। কিন্তু পরে এতটাই মুখ থুবড়ে পড়ে যে, শেষ পর্যন্ত প্লেঅফে জায়গা করে নিতে পারেনি।
রিকি পন্টিংয়ের দলের খেলার ধরনের প্রশংসা করে টেন্ডুলকার তুলে ধরলেন আসরের দুই সময়ে পাঞ্জাবের পারফরম্যান্সে পার্থক্য কোথায় ছিল।
“পাঞ্জাব কিংস টুর্নামেন্টে চমৎকার প্রাণচাঞ্চল্য এনেছিল। তাদের ক্রিকেট ছিল ইতিবাচক, সাহসী এবং প্রায়শই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো।”
“দীর্ঘ টুর্নামেন্টে মোমেন্টাম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমন একটি দ্রুতগতির টুর্নামেন্টে শেষ পর্যন্ত ফলাফলের প্রতি আসক্ত না হয়ে প্রক্রিয়ার ওপরই সবকিছু নির্ভর করে। পাঞ্জাব প্রথমার্ধে প্রক্রিয়ার ওপর এবং দ্বিতীয়ার্ধে ফলাফলের ওপর বেশি মনোযোগ দিয়েছিল।