Published : 20 Mar 2026, 02:14 PM
গত আইপিএলে বৈভাব সুরিয়াভানশির সবকিছুতে ছিল নতুনের রোমাঞ্চ। তাকে ঘিরে ছিল চমক আর বিস্ময়। এবারের বাস্তবতা ভিন্ন। আইপিএলের এই আসরে তাকে নিয়ে উন্মাদনা যেমন থাকবে প্রবল, তেমনি প্রত্যাশাও থাকবে আকাশছোঁয়া। তবে এই বিস্ময় বালকের ঢাল হয়ে উঠবে তার দল রাজস্থান রয়্যালস। সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ, লোকের কৌতূহল, প্রত্যাশার চাপ, সবকিছু থেকেই তাকে দূরে রাখা হবে বলে জানালেন অধিনায় রিয়ান পারাগ।
এবারের আইপিএল শুরুর আগের দিন বয়স ১৫ পূর্ণ হবে সুরিয়াভানশির। কিন্তু এর মধ্যেই তিনি হয়ে উঠেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের বড় তারকা। বয়সভিত্তিক ও আঞ্চলিক নানা ক্রিকেটে তিনি আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন আগেই। তবে তারকা হয়ে ওঠার শুরু গত আইপিএল থেকে।
সাঞ্জু স্যামসনের চোটের কারণে খেলার সুযোগ মিলেছিল তার। অভিষেকে লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে প্রথম বলেই ছক্কা মেরে দেন তিনি এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে। ২০ বলে ৩৪ রানের ইনিংস দিয়ে তার যাত্রা শুরু। পরের ম্যাচে বিদায় নেন দুটি ছক্কা মেরেই। তৃতীয় ম্যাচে তাক লাগিয়ে দেন ৩৫ বলে সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে। এরপর দুই ম্যাচে দ্রুত বিদায়ের পর আবার টানা দুই ম্যাচে করেন ১৫ বলে ৪০ ও ৩৩ বলে ৫৭।
সব মিলিয়ে প্রথম আইপিএল আসরে ২৫২ করেন তিনি ২০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে। পরে ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে খেলেন ১৫ ছক্কায় ৪২ বলে ১৪৪ রানের ইনিংস। সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে করেন ঝড়ো সেঞ্চুরি।
ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়েও বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে রান আর ছক্কার জোয়ার চলতে থাকে তার ব্যাটে। ইংল্যান্ড সফরে ৯ ছক্কায় ৩১ বলে ৮৬ রানের ইনিংস খেলার পরের ম্যাচেই ১০ ছক্কায় করেন ৭৮ বলে ১৪৩। যুব এশিয়া কাপের এক ম্যাচে ১৪ ছক্কায়য় করেন ৯৫ বলে ১৭১। জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের এক ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ১০ ছক্কায় ৭৪ বলে ১২৭।
যুব বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ৩৩ বলে ৬৮ রান করার পর ফাইনালে করেন ১৫ ছক্কায় ৮০ বলে ১৭৫। ফাইনালের সেরা ও টুর্নামেন্টের সেরা, দুটি পুরস্কারই জিতে নেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
সব মিলিয়ে গত এক বছরে রান আর রেকর্ডের বন্য বইয়ে দিয়ে এবারের আইপিএলে নামছেন সুরিয়াভানশি। পাদপ্রদীপের আলো এবার তার ওপর থাকবে তীব্রভাবেই।
তার দলও সেটা উপলব্ধি করতে পারছে। অধিনায়ক রিয়ান পারাগ তাই কিশোর ব্যাটসম্যানকে সুরক্ষিত থাকার পধ বাতলে দিয়েছেন।
“এ বছর তাকে ঘিরে চাপ ও হাইপ স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি থাকবে। তবে অধিনায়ক হিসেবে আমি ওকে বলব, (ইয়াশাসভি) জয়সওয়ালকে সব চাপ নিয়ে নিতে দাও। এসব সামলাতে জয়সওয়াল এখন অভ্যস্ত। বৈভাবের জন্য ভূমিকা হবে, মাঠে নেমে স্রেফ বলে হিট করা, ব্যস। কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই ওর।”
“অধিনায়ক হিসেবে ওকে বলব সংবাদ সম্মেলন খুব বেশি না করতে, সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে খুব বেশি সম্পৃক্ত না হতে, বলব স্রেফ উপভোগ করে যেতে। (সংবাদমাধ্যমেরর প্রতি অনুরোধ) ওর ম্যানেজারকে ফোন করবেন না, কথা বলতে চাইবেন না। ওকে স্রেফ ক্রিকেট খেলতে দিন।”
আগামী ৩০ মার্চ গুয়াহাটিতে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আইপিএল শুরু করবেন সুরিয়াভানশি-পারাগরা।