Published : 08 Jan 2026, 08:47 AM
গত জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টির সফলতম ব্যাটসম্যান কে? চলতি বিপিএলে ৩৫ ছোঁয়া ইনিংসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট কার? দুটির উত্তর একই। খুব গভীরভাবে অনুসরণ করে না থাকলে উত্তরটি চমকে দিতে পারে অনেককেই—মাহমুদুল হাসান জয়!
দেশের ক্রিকেটে তার মূল পরিচয় টেস্ট বিশেষজ্ঞ। ২০টি টেস্ট বাংলাদেশের হয়ে খেলে ফেলছেন। সবশেষ টেস্ট সিরিজেও দুই ম্যাচেই ভালো খেলেছেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিন সংস্করণেই তিনি নিয়মিত মুখ। তবে একসময় যে সংস্করণে তার সীমাবদ্ধতা ছিল, সেখানেই এখন ছাপ রাখছেন দারুণ উন্নতির। সেটিরই প্রমাণ শুরুর সেই প্রশ্ন দুটির উত্তরে।
সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে বুধবার চট্টগ্রাম রয়্যালসের জয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছেন জয়। খুব বড় ইনিংস অবশ্য খেলতে পারেননি। তবে যে ইনিংসটি খেলেছেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যে কোনো প্রেক্ষাপটে যে কোনো জায়গায় তা কার্যকর ইনিংস। ২১ বলে করেছেন ৪৪ রান। স্ট্রাইক রেট ২০৯.৫২।
এবারের বিপিএলে ৩৫ ছোঁয়া ইনিংসগুলোর মধ্যে সেরা স্ট্রাইক রেট এটি। তার নিজের ৭৪ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে কোনো মানদণ্ড ছাড়াই সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের ইনিংস এটিই।
শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, ইনিংসটির পথে কয়েকটি শটে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের এক ওভারে দুটি ছক্কা ছিল চোখধাঁধানো। রুয়েল মিয়াকে টানা দুটি ছক্কাও ছিল দেখার মতো।
ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে দক্ষতার ছাপ এই মৌসুমে আগেও রেখেছেন তিনি। গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টিতে ৩২৩ রান করে তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ রান স্কোরার। আর কোনো ব্যাটসম্যান ওই আসরে ২২০ রানও করতে পারেননি।
তার ক্যারিয়ার স্ট্রাইক রেট এখন ১২১.৮৫। তখন ছিল আরও কম। কিন্তু ওই আসরে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫৫.২৮।
একটি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন, যেখানে ছক্কা মেরেছিলেন ৯টি। আরেকটি ম্যাচে ৭৮ রানের ইনিংসে ছক্কা ছিল ৫টি। পরিষ্কারভাবেই তার ছক্কার সামর্থ্য, শটের রেঞ্জ বেড়েছে বেশ।
অনেকে হয়তো জানেন না, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেখ হয়ে গেছে জয়ের। তবে সেটা জাতীয় দলের হয়ে নয়। ২০২৩ এশিয়ান গেমসে তিনটি ম্যাচ তিনি খেলেছিলেন।
তবে তখনও আসলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। এখনও তিনি ততটা প্রস্তুত নন নিশ্চিতভাবেই। তবে ঠিক পথ ধরেই যে ছুটছেন, তা স্পষ্ট।
সিলেটের বিপক্ষে ম্যাচ-সেরা হয়ে ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান বললেন, তাড়না আর প্রচেষ্টায় নিজেকে টি-টোয়েন্টির উপযোগী করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।
“চেষ্টা তো থাকবেই (টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ে উন্নতির), পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে চেষ্টা থাকবেই সব জায়গায় ভালো করার। এখন বিপিএল হচ্ছে, এখানে ভালো করার চেষ্টা করছি।”
“সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ করা তো হয়ই মাঝেমধ্যে। এবার এনসিএল (জাতীয় লিগ) টি-টোয়েন্টি ভালো গেছে। চেষ্টা করেছি, সেই ফ্লো এখানে ধরে রাখার।”
সিলেটের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ক্রিজে যাওয়ার পর থেকেই দারুণ আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ছুটতে থাকেন জয়। উইকেট ঠিকঠাক পড়েই এই পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনি।
“আমি ব্যাটিংয়ের যাওয়ার পরই মনে হয়েছে, খুব ভালো উইকেট। মারলে হয়তো লাগবে। চেষ্টা করেছি খারাপ বলগুলি কাজে লাগাতে, শট খেলতে। সেভাবেই হয়ে গেছে।”
জয়ের পাশাপাশি এ দিন কার্যকর ইনিংস উপহার দেন অ্যাডাম রসিংটন, শেষ দিকে ঝড় তোলেন শেখ মেহেদি হাসান। কেউই অবশ্য ফিফটি করতে পারেননি। তবু সবার সাম্মিলিত অবদানে স্কোর দাঁড়ায় ১৯৮, এবারের বিপিএলে যা দলীয় সর্বোচ্চ।
তবে জয় আক্ষেপ করলেন নিজের ইনিংস আরও বড় করতে না পারায়।
“খুব ভালো উইকেট ছিল। ইনিংসটা আরও বড় করা উচিত ছিল। বড় করতে পারলে আমার জন্য ভালো হতো, দলের জন্যও ভালো হতে। দুইশর বেশি স্কোর গড়ার সুযোগ থাকত, যদি আমি ইনিংস টেনে নিতে পারতাম।”