Published : 13 Jun 2026, 02:59 AM
সবচেয়ে বড় মঞ্চে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম গোলের দেখা পেলেন ইয়োভো লুকিচ। তবে সেই ব্যবধান ধরে রাখতে পারল না বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ পারফরম্যান্সর পরও গোল পাচ্ছিল না কানাডা। অবশেষে বদলি নেমে দলকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন কাইল ল্যারিন।
টরন্টোয় শুক্রবার রাতে বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্টের স্বাদ পেয়েছে কানাডা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে কানাডা (৩১তম), যেখানে বসনিয়ার অবস্থান ৬১তম। মাঠে বল দখলে রাখায় ও আক্রমণেও এগিয়ে ছিল তারা।
৬০ শতাংশ সময় পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৩ শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখতে পারে কানাডা, বসনিয়ার আট শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।
ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা নিয়ে ম্যাচের প্রথম ভালো সুযোগটিও পায় কানাডা। পঞ্চদশ মিনিটে ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন জোনাথন ডেভিড, কিন্তু গোলরক্ষক বরাবর দুর্বল শট নিয়ে হতাশ করেন এই ফরোয়ার্ড।
এর ছয় মিনিট সেট পিসে গোল করে এগিয়ে যায় বসনিয়া। কর্নারে উড়ে আসা বল সতীর্থের মাথা ছুঁয়ে গোলমুখে পেয়ে হেডেই জালে পাঠান লুকিচ।
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলে অভিষেক হয় এই ফরোয়ার্ডের। এরপর প্রায় সাড়ে চার বছর আর সুযোগ পাননি তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে, সরাসরি জায়গা করে নেন বিশ্বকাপ দলে এবং দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পর, বিশ্বকাপে অভিষেকেই পেলেন প্রথম আন্তর্জাতিক গোলের দেখা!
বিরতির পর খেলার গতি বাড়ে, চলতে থাকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। এই অর্ধের শুরুতে পরপর দুই মিনিটে নিশ্চিত দুটি সুযোপ পায় দুই দল।
৫৩তম মিনিটে ডেভিডের শট গোলরক্ষককে কাটিয়ে লক্ষ্যেই ছিল, শেষ মুহূর্তে দারুণ ক্ষিপ্রতায় রুখে দেন দলের এগিয়ে যাওয়া গোলে অবদান রাখা ডিফেন্ডার সেয়াদ কোলাশিনাচ, তার ক্লিয়ারের প্রচেষ্টায় বল ক্রসবারে লেগে ফেরে। পরের মিনিটে পাল্টা আক্রমণে কানাডার গোলরক্ষককে একা পেয়ে যায় দেমিরোভিচ, ওয়ান-অন-ওয়ানে কোনোমতে আটকে দেন মাক্সিম ক্রেপো।
একটু একটু করে চাপ বাড়ানো কানাডা ল্যারিনের নৈপুণ্য ও কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়ায় ৭৮তম মিনিটে সমতায় ফেরে। প্রমিস ডেভিডের ওয়ান টাচ পাস ডি-বক্সের মুখে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাঝেই শরীরটা ঘুরে শট নেন দুই মিনিট আগেই বদলি নামা ল্যারিন এবং সামনে একজনের গায়ে লেগে দিক পাল্টে বল জালে জড়ায়।
শেষ দিকে একটানা চাপ ধরে রাখে কানাডা। শেষ মুহূর্তে ব্যবধান গড়ে দেওয়া সুযোগও পান ল্যারিন, যদিও শেষ পর্যন্ত গোলরক্ষকের পরীক্ষাও নিতে পারেননি তিনি। তবুও, ম্যাচের ফল দলটির জন্য ছোটখাটো উৎসবের উপলক্ষই বটে।
এর আগে দুইবার বিশ্বকাপ খেলেছে কানাডা, ১৯৮৬ ও ২০২২ আসরে। প্রতিবারই গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ করে সবগুলোয় হেরে বিদায় নেয় তারা। তবে কাতারে একটি প্রাপ্তি ছিল তাদের, দেখা পায় বিশ্বকাপে প্রথম গোলের।
আর এবার পেল প্রথম পয়েন্ট।