Published : 11 Jun 2026, 09:25 AM
অন্য যে কোনো আসরের চেয়ে এবার বেশি গোল হওয়া প্রায় নিশ্চিত, ম্যাচ যে বেড়েছে ৪০টি! সেই সঙ্গে এত বড় টুর্নামেন্ট ঘিরে পুরনো একটি প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর খুঁজতে চলছে আলোচনা- এবার কে জিতবেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট।’
ফিফা সময়ের সেরা ফরোয়ার্ডদের ১০ জনের একটা তালিকা দিয়েছে। সেখানে যেমন আছেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকা, তেমনি আছেন লামিনে ইয়ামালের মতো তরুণ সেনসেশন।
কিলিয়ান এমবাপে, ফ্রান্স
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৯৮ ম্যাচে ৫৬ গোল
বিশ্বকাপে ১৪ ম্যাচে ১২ গোল
থিয়েরি অঁরি ৩০ বছর বয়সে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন, অলিভিয়ে জিরু হয়েছিলেন ৩৬ বছর বয়সে। কিলিয়ান এমবাপে ২৭ বছর বয়সেই সেই রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার দুয়ারে। দেশের হয়ে সবশেষ ৪৯ ম্যাচে ৩৯ গোল করেছেন তিনি।
পিএসজির হয়ে ম্যাচ প্রতি প্রায় এক গোল করেছেন এমবাপে। বর্তমান দল রেয়াল মাদ্রিদেও প্রায় একই গতিতে ছুটছেন তিনি।
প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রান্স অধিনায়কের সামনে দুবার গোল্ডেন বুট জয়ের হাতছানি এবং সেটা টানা দুই আসরে! গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার মতো দারুণ সতীর্থ আছে এমবাপের। হায়ান শেহকি, উসমান দেম্বলে, দিজিরে দুয়ে ও মাইকেল ওলিসের উপস্থিতিতে ফের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার এই তারকা ফরোয়ার্ডের নাগাল থেকে বেশি দূরে নয়।
হ্যারি কেইন, ইংল্যান্ড
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১১৩ ম্যাচে ৭৯ গোল
বিশ্বকাপে ১১ ম্যাচে ৮ গোল
প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুবার গোল্ডেন বুট জয়ের হাতছানি হ্যারি কেইনের সামনেও।
দারুণ ছন্দে আছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ২০২৩ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর ম্যাচ প্রতি তিনি বুন্ডেসলিগায় একের বেশি গোল করছেন।
ইংল্যান্ডের হয়ে সবশেষ ৯ বছরে পাঁচবার ম্যাচ প্রতি অন্তত এক গোল করেছেন কেইন। গোলে সহায়তা করার জন্য তিনি পাশে পাচ্ছেন জুড বেলিংহ্যাম, এবেরেচি এজে, মার্কাস র্যাশফোর্ড, বুকায়ো সাকার মতো প্রতিভাবানদের।
মিকেল ওইয়ারসাবাল, স্পেন
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫৩ ম্যাচে ২৫ গোল
বিশ্বকাপে খেলেননি
দুই বছর আগেও শীর্ষ ২৫ ফেভারিটের মধ্যে ছিলেন না মিকেল ওইয়ারসাবাল। এখন তালিকায় কেবল দুই জন তার চেয়ে এগিয়ে আছেন।
গোলে সহায়তা করার জন্য তার পাশে আছেন পেদ্রি, লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামসের মতো দুর্দান্ত সব সতীর্থ।
দেশের হয়ে সবশেষ ১৩ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন ওইয়ারসাবাল।
আর্লিং হলান্ড, নরওয়ে
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫০ ম্যাচে ৫৫ গোল
বিশ্বকাপে খেলেননি
সত্যিকারের ‘গোল মেশিন।’ আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোলের পরিসংখ্যান বিস্ময় জাগানিয়া। গত অক্টোবরে মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে এবং গত ৫৩ বছরের মধ্যে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পঞ্চাশের কম ম্যাচে ৫০ গোল করেছেন তিনি।
ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির হয়েও গোলের পর গোল করে যাচ্ছেন হলান্ড। বিশ্বকাপে গোলে সহায়তা করার জন্য তার পাশে আছেন অস্কার বব, আন্তোনিও নুসা ও মার্টিন ওদেগোর। যে কোনো দলের বিপক্ষেই গোল করতে পারেন হলান্ড।
লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনা
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৯৯ ম্যাচে ১১৭ গোল
বিশ্বকাপে ২৬ ম্যাচে ১৩ গোল
বিশ্বের সবচেয়ে দুর্দান্ত ফরোয়ার্ডদের একজন লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের মাঝে ৩৯তম জন্মদিনের কেক কাটবেন। এই বয়সেও নিয়মিত গোল করে চলেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
আর্জেন্টিনার হয়ে সবশেষ ৩৭ ম্যাচে তিনি করেছেন ৩৫ গোল। গোলের ধারা ধরে রেখেছেন তিনি ইন্টার মায়ামিতেও।
যে অল্প কিছু ব্যক্তিগত পুরস্কার তিনি জিততে পারেননি, তার একটা বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট। তিনি কেবল দুই জন ফুটবলারের একজন, যারা ৬ গোল করেও এই পুরস্কার জিততে পারেননি।
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, পর্তুগাল
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২২৬ ম্যাচে ১৪৩ গোল
বিশ্বকাপে ২২ ম্যাচে ৮ গোল
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখনও গোল করেই চলেছেন। দেশের হয়ে সবশেষ ৩০ ম্যাচে তিনি করেছেন ২৫ গোল।
২০২২ আসরে ফের্নান্দো সান্তোসের কোচিংয়ে বেশি সময় খেলার সুযোগ পাননি না রোনালদো। রবের্তো মার্তিনেসের কোচিংয়ে সময়টা বেশ বেড়েছে।
রোনালদোর গোলে অবদান রাখার জন্য পর্তুগাল দলে আছেন রাফায়েল লেওয়া, পেদ্রো নেতো, বের্নার্দো সিলভার মতো খেলোয়াড়রা।
বিশ্বকাপে নিজের আগে সেরা অবশ্যই ছাড়িয়ে যেতে চাইবেন রোনালদো। রাশিয়ায় ২০১৮ আসরে তিনি করেছিলেন চার গোল।
লামিনে ইয়ামাল
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২৫ ম্যাচে ৬ গোল
বিশ্বকাপে খেলেননি
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার ছয় দিন আগে ১৯ বছর পূর্ণ হবে স্পেনের এই উইঙ্গারের। সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে গোল্ডেন বুট জিতে নেওয়ার সামর্থ্য আছে তার।
রেকর্ডটি এখন হামেস রদ্রিগেসের। কলম্বিয়ার এই ফরোয়ার্ড খেলবেন চলতি আসরেও। ২০১৪ বিশ্বকাপে ২৩তম জন্মদিনের এক দিন পর গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তিনি।
গোল তৈরি করে দেওয়াতেই বেশি পারদর্শী ইয়ামাল। তবে দূরপাল্লার বাঁকানো শটে জালও খুঁজে নিতে পারেন তিনি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে তিনি করেছেন ১৮ গোল।
উসমান দেম্বেলে, ফ্রান্স
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫৯ ম্যাচে ৭ গোল
বিশ্বকাপে ১১ ম্যাচে শূন্য গোল
পরিসংখ্যান দেখে বোঝার উপায় নেই এই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে থাকতে পারেন তিনি। কিন্তু ফরাসি এই তারকা আছেন। কারণ, ক্লাব পর্যায়ে গতিময় উইঙ্গার থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন দুর্দান্ত একজন স্ট্রাইকারে। গত দুই মৌসুমে পিএসজির হয়ে তিনি করেছেন ৫৫ গোল।
গোলের জন্য মূলত কিলিয়ান এমবাপের দিকেই তাকিয়ে থাকবে ফ্রান্স। দেম্বেলে হয়তো তার পেছনে কিংবা উইংয়ে খেলবেন।
ভিনিসিউস জুনিয়র, ব্রাজিল
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৪৯ ম্যাচে ৯ গোল
বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচে ১ গোল
ব্রাজিলের হয়ে ভিনিসিউস জুনিয়রের যে পরিসংখ্যান তাতে এই তালিকায় তার উপস্থিতি কিছুটা চমক জাগানিয়াই। তবে ক্লাব ফুটবলে বেশ ধারাবাহিক তিনি। সবশেষ পাঁচ মৌসুমে তিনি রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে অন্তত ২০টি করে গোল করেছেন।
রাফিনিয়া, ব্রাজিল
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৩৮ ম্যাচে ১১ গোল
বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচ খেলে গোল পাননি
ব্রাজিলের হয়ে পরিসংখ্যান তেমন আকর্ষনীয় নয় রাফিনিয়ার। তবে ক্লাব বার্সেলোনার আক্রমণে তার ভূমিকা দারুণ। গতিময় উইঙ্গার ২০২৪-২৫ মৌসুমের শুরু থেকে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের হয়ে ৯০ ম্যাচে করেছেন ৫৫ গেল।
ব্রাজিলের হয়ে পেনাল্টি ও ফ্রি কিকগুলো নিতে পারেন তিনি।