Published : 10 Jun 2026, 07:30 PM
শুরুটা ব্রাজিলের কোচ আর্থুর ইলিয়াসের বহিষ্কার দিয়ে। পরে লাল কার্ড দেখলেন তার কোচিং স্টাফের আরও তিন জন ও চার খেলোয়াড়। ম্যাচের ফল ছাপিয়ে আলোচনায় এখন রেফারিং ও মাঠের চরম এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।
নারী ফুটবলে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে ফর্তালেজায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ব্রাজিলের ১-০ গোলে হারা প্রীতি ম্যাচের ঘটনা এটি। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার এক বিস্ময়কর প্রদর্শনীতে স্প্যানিশ রেফারি পাওলা সেবোয়াদা লোপেস ব্রাজিলিয়ান কোচিং স্টাফের চার সদস্য এবং চার খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন।
আগামী বছর ব্রাজিলে হবে নারীদের বিশ্বকাপ। সেই আসরের ভেন্যুগুলোর একটি ফর্তালেজা। ৫৫ হাজারের বেশি দর্শক উপস্থিত হয়েছিল এই ম্যাচে।
বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয় ব্রাজিলের কোচ ইলিয়াসকে দিয়ে। জার্সি নিয়ে মতপার্থক্যের জন্য প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। ৭৭তম মিনিটে বল লাথি মেরে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হন।
পরে তার কোচিং স্টাফের তিন জনকে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি। ম্যাচের যোগ করা সময়ে এবং শেষ বাঁশির পরও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
যোগ করা সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমিলি সনেটকে ধাক্কা দেওয়ার জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রাজিল ফরোয়ার্ড বিয়া জানেরাত্তো। একটু পর দলটির ডিফেন্ডার তার্সিয়ানি লাল কার্ড দেখেন উইলসনকে কনুই দিয়ে আঘাত করায়।
শেষ বাঁশি বাজার পর রেফারির মুখোমুখি হয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলের আরেক ফরোয়ার্ড কেরোলিন। ব্যঙ্গাত্মকভাবে রেফারির উদ্দেশ্যে হাততালি দিয়ে একই পরিণতি ভোগ করেন আরেক ফরোয়ার্ড লুদমিলা।
উত্তেজনা এতটাই চরমে পৌঁছায় যে, ম্যাচ অফিসিয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দাঙ্গা-প্রতিরোধী পোশাকে সজ্জিত পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলতে বাধ্য হয় এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে।
ম্যাচের পর রেফারি ও প্রতিপক্ষের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়রা। মিডফিল্ডার আঞ্জেলিনা কোনো রাখঢাক না রেখে মাঠে যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। ভিএআর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
“সত্যি বলতে, আজ এখানে যা ঘটেছে তা চরম হতাশাজনক।”
“চতুর্থ রেফারির কোনো ধারণাই ছিল না মাঠে কী ঘটছে, ভিএআর কাজ করেনি। কিছুই যাচাই করা হয়নি। আমাদের একজন খেলোয়াড়ের পা মাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং কেউ তা পর্যালোচনা করেনি। এরপর এখানে ধাক্কাধাক্কি হয়, আর রেফারি হঠাৎ করেই আমাদের খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে বের করে দেন। পরিস্থিতি সত্যিই খুব কঠিন হয়ে পড়ে।”
রেফারিকে উদ্দেশ্য করে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড মার্তা বলেন, “তিনিই ম্যাচের মূল আকর্ষণ হতে চেয়েছিলেন।”
“এত দর্শক খেলা দেখতে এসেছিল, আর তিনি এমন একটা কাণ্ড ঘটালেন। এই ধরনের রেফারিং হতে পারে না, বিশেষ করে ব্রাজিল বনাম যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে।”