Published : 11 Jun 2026, 09:18 PM
নতুন অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম ‘সামান্য বাড়ানো হয়েছে’ বলে মনে করছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং ‘অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স’ (আত্মা)।
সংগঠন দুটি বলছে, বাজেটে বিড়ি, গুল ও জর্দার দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে ‘তামাক ব্যবহারজনিত অসুস্থতা ও মৃ্ত্যু বাড়বে’ এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ ‘হাতছাড়া হবে’।
বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর বিজ্ঞপ্তিতে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে প্রজ্ঞা ও আত্মা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সিগারেটের মূল্য স্তর সংখ্যা কমানো, সুনির্দিষ্ট শুল্কের প্রচলনসহ কর কাঠামোয় কোসো ধরনের সংস্কার আনা হয়নি।…মূল্যস্ফীতি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি হিসাবে আনলে এসব তামাকপণ্যের প্রকৃত দাম কমে যাবে।”
সংগঠন দুটি বলছে, বর্তমানে সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই নিম্ন স্তরের দখলে রয়েছে, যার প্রধান ভোক্তা মূলত দরিদ্র ও তরুণ জনগোষ্ঠী।
“প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্ন স্তরের প্রতি প্যাকেট দশ শলাকা সিগারেটের দাম ২ টাকা বৃদ্ধি করে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেট কার্যকর হলে এই স্তরে সিগারেটের দাম বাড়বে মাত্র ৩.৩৩ শতাংশ, যা ১০.২৭ শতাংশ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম।
“ফলে নিম্ন স্তরের সিগারেটের প্রকৃত দাম ব্যাপকভাবে কমবে এবং তরুণ ও নিম্ন আয়ের জনগণের মধ্যে কম দামি সিগারেটের ব্যবহার আশঙ্কাজনকহারে বাড়বে।”
সিগারেটের মধ্যম স্তর, উচ্চ স্তর এবং প্রিমিয়াম বা অতি উচ্চ স্তরের দামবৃদ্ধি নিত্যপণ্যের দামবৃদ্ধির তুলনায় ‘খুবই সামান্য’ বলছে প্রজ্ঞা ও আত্মা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সিগারেট কর কাঠামোয় কোনো সংস্কার না করায় বর্ধিত দামের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ কোম্পানির পকেটে চলে যাবে এবং বাড়তি মুনাফা তামাক ব্যবসা প্রসারে ব্যবহৃত হবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।
“তামাকবিরোধীদের প্রস্তাব অনুযায়ী সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের সঙ্গে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো হলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৪ লাখ অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।”
বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে তামাকপণ্য আরো বেশি সস্তা এবং সহজলভ্য হবে। তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহারে বিশেষভাবে উৎসাহিত হবে, তামাক ব্যবহারজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু বাড়বে।”