Published : 08 Jul 2026, 03:48 PM
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমান প্রকাশ করলেন তার আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘লোকে বলে প্রেম আমি বলি জ্বালা’।
ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে মঙ্গলবার হয়েছে এর প্রকাশনা উৎসব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদি, রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপাসহ অনেকে।
সংগীতকে জীবনের সঙ্গে তুলনা করে বইটির নামকরণ করেছেন ফেরদৌসী রহমান। তার গাওয়া বিখ্যাত গানের চরণ থেকে বইটির নামকরণ করা হয়েছে।
বইটি নিয়ে ফেরদৌসী রহমান বলেন, "গানের প্রতি ভালোবাসাই হল প্রেম, আর এই ভালোবাসার জন্য যে কঠিন শ্রম ও সাধনা করতে হয়েছে, সেটিই হলো জ্বালা। নিজে বিশেষ কোনো কাজ করতে পেরেছি বলে মনে হয় না। তবে বইটিতে অনেকে মানুষের কথা আছে। অনেক বিষয় আছে। বিশেষ করে পুরনো দিনের ঢাকা কেমন ছিল, তখনকার পরিবেশ, অনেক খাদ্য, পুরনো দিনে ঢাকার কোথায় কি হতো যা এখন আর হয় না বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া অনেক আচার অনুষ্ঠান এসব আছে। বইটি পড়ে সেসব জানা যাবে।"
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ফেরদৌসী রহমানের বর্ণাঢ্য জীবন ও সংগীতের নানা দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তার দীর্ঘদিনের সহশিল্পী ও সংগীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদি।
তিনি বলেন, "১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে ভর্তি হওয়া এবং ১৯৬৫ সালে ‘ডাকবাবু’ চলচ্চিত্রে প্রথম দ্বৈত গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের দীর্ঘ পারিবারিক ও পেশাদার সম্পর্ক তৈরি হয়। বাবা আব্বাসউদ্দীন আহমদের কারণে উপমহাদেশের বড় বড় সংগীতজ্ঞদের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন ফেরদৌসী রহমান, যা তার সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে।"
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। ফেরদৌসী রহমানকে বাংলা সংগীতের ‘হিমালয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "আধুনিক, নজরুল সঙ্গীত, ধ্রুপদী ও পল্লীগীতিসহ সব মাধ্যমে তার সমান দক্ষতা উপমহাদেশে বিরল।"
অনুষ্ঠানের শুরুতে ফেরদৌসী রহমানের দুইটি গান ‘লোকে বলে প্রেম’ এবং ‘আমি সাগরের নীল নয়নে মেখেছি’ গেয়ে শোনান শিল্পী অনুপমা মুক্তি।
১৯৪১ সালের ২৮ জুন কুচবিহারের পশ্চিমবঙ্গে জন্ম নেন ফেরদৌসী রহমান। বাবা পল্লীগীতি সম্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমদের কাছেই তার সংগীতের হাতেখড়ি । ১৯৪৭ সালে মাত্র ছয় বছর বয়সে তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানে তার কন্ঠে গাওয়া গান প্রচার হয়।
সাতচল্লিশে দেশভাগের সময় বাংলাদেশে আসেন। ঋষিকেশ দাশ লেনে বসবাস শুরু করেন তারা।
১৯৬০ সালে ‘আসিয়া’ নামের চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম নেপথ্য কণ্ঠ দেন। ষাট ও সত্তরের দশকের বহু চলচ্চিত্রে তিনি নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তার প্লেব্যাক করা চলচ্চিত্রের সংখ্যা ২৫০টির কাছাকাছি।
১৯৬৪ সালে ঢাকা টেলিভিশন চালুর প্রথম দিনে গান পরিবেশন করে তিনি। বাংলা গান ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বজুড়ে। ভারত, মিয়ানমার, ইরাক, সিঙ্গাপুর, চীন, জাপান, আফগানিস্তান, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুগোস্লাভিয়া, যুক্তরাজ্যসহ আরো অনেক দেশেই শো করেছেন।
বিটিভিতে ‘এসো গান শিখি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশজুড়ে পরিচিতি পান তিনি। ১৯৭৭ সালে সেরা সংগীত পরিচালক হিসেবে প্রথমবার জাতীয় পুরস্কার পান ফেরদৌসী রহমান।
এ ছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, নাসিরুদ্দীন স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক পুরস্কার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, চুরুলিয়া নজরুল স্বর্ণপদকসহ আরও বহু পুরস্কার রয়েছে তার ঝুলিতে।