১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফেরার ম্যাচেই ক্ষুরধার টিকনার, অভিষেকে উজ্জ্বল রাই

চার পেসার মিলে অভিজ্ঞতা মাত্র সাত টেস্টের, এমন পেস আক্রমণ নিয়েও সফল নিউ জিল্যান্ড, ২৯ রানের মধ্যে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ফেরার ম্যাচেই ক্ষুরধার টিকনার, অভিষেকে উজ্জ্বল রাই
মাইকেল রাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন সতীর্থরা। ছবি: ব্ল্যাকক্যাপস ফেইসবুক।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Dec 2025, 06:13 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:17 PM

ম্যাট হেনরি, কাইল জেমিসন, উইল ও’রোক, ন্যাথান স্মিথ- সবাই ফিট থাকলে নিউ জিল্যান্ডের পেস আক্রমণ হতে পারত এরকম। কিন্তু নেই তারা কেউই। যে চার পেসার খেলছেন, তাদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা স্রেফ সাত টেস্টের। একাদশের সফলতম টেস্ট বোলার গ্লেন ফিলিপস (৩১ উইকেট), যিনি অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। দ্বিতীয় সফলতম বোলার কেন উইলিয়ামসন (৩০ উইকেট), যিনি নিজেও হয়তো ভুলে গেছেন, সবশেষ কবে হাত ঘুরিয়েছেন। তবে অনভিজ্ঞ সেই বোলিং আক্রমণই দুর্দান্ত বোলিংয়ে গুঁড়িয়ে দিল ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং।

আগের টেস্টে শেষ ইনিংসে মহাকাব্যিক লড়াইয়ে ম্যাচ ড্র করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই বীরত্বের পর আবার তারা ফিরে গেছে আপন চেহারায়। ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম দিনে ২০৫ রানেই শেষ ক্যারিবিয়ানদের প্রথম ইনিংস।

প্রায় তিন বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে গতি, বাউন্স আর সুইংয়ের মিশেলে দারুণ বোলিং করেন ব্লেয়ার টিকনার। চতুর্থ পেসার হিসেবে আক্রমণে এসে শিকার করেন তিনি চার উইকেট। তবে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে আগুনে বোলিং করেও শেষ পর্যন্ত দিনটি তার জন্য পরিণত হয় বিষাদে। ফিল্ডিংয়ের সময় কাঁধে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে স্ট্রেচারে। 

অভিষেকের দিনটি রাঙিয়ে মাইকেল রাই উইকেট নেন তিনটি। ৭০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৩০ বছর বয়সে টেস্ট খেলতে নামা পেসার প্রথম ওভারেই হজম করেছিলেন চার ও ছক্কা। পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ বোলিং করেন। 

চোট-জর্জর নিউ জিল্যান্ড আগের ম্যাচ থেকে পাঁচ পরিবর্তন এনে একাদশ সাজায়। রাইয়ের পাশাপাশি টেস্ট ক্যাপ পান কিপার মিচেল হে। বেসিন রিজার্ভের সবুজ উইকেটে টস জিতে বোলিং নেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তবে প্রথম উইকেটের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় অনেকটা সময়। 

প্রায় তিন বছর পর ফিরে চার উইকেট নিয়েছেন ব্লেয়ার টিকনার। তবে পরে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন স্ট্রেচারে। ছবি: ব্ল্যাকক্যাপস ফেইসবুক।

প্রায় তিন বছর পর ফিরে চার উইকেট নিয়েছেন ব্লেয়ার টিকনার। তবে পরে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন স্ট্রেচারে

তেজনারাইন চান্দারপলের চোটের কারণে সুযোগ পাওয়া ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল মিলে ভালো শুরু এনে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। প্রথম সাত ওভারে ৩৫ রান তোলেন দুজন। প্রথম ঘণ্টায় যোগ করেন ১৫ ওভারে ৬১ রান।

টিকনার নিজের দ্বিতীয় ওভারে এই জুটি ভাঙেন ৬৬ রানে। ৩৩ রান করে এলবিডব্লিউ হন কিং। টিকনারের পরের ওভারে বিদায় নেন একাদশে ফেরা কাভেম হজও (০)। ক্যাম্পবেলকে ৪৪ রানে ফিরিয়ে প্রথম টেস্ট উইকেটের স্বাদ পান রাই।

এরপর শেই হোপ ও রস্টন চেইস মিলে আরেকটি কার্যকর জুটি গড়ে তোলেন। ৩ উইকেট হারিয়ে দেড়শ পেরিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

জুটি থামাতে টানা শর্ট বলের কৌশল নেন টিকনার। কাজ হয় তাতে। ৪৮ রান করে বাউন্সারে বাজেভাবে আউট হন হোপ। 

তারপরও চা-বিরতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থা খুব নাজুক ছিল না, রান ছিল ৪ উইকেটে ১৭৫। শেষ সেশনে টপাটপ উইকেট হারাতে থাকে তারা।

টিকনারের বল ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক চেইসের (২৯) ব্যাটে লেগে ছোবল দেয় স্টাম্পে। আগের টেস্টে অবিস্মরণীয় ডাবল সেঞ্চুরি করা জাস্টিন গ্রেভসকে এবার ১৩ রানে ফেরান রাই। ক্যাচ নিয়ে টেস্ট ডিসমিসালের খাতা খোলেন মিচেল চে।

গ্রেভসের সঙ্গে বীরোচিত লড়াইয়ে ২২৩ বল খেলে ৫৮ রান করা কিমার রোচকে এবার শূন্যতেই ফেরান রাই।

ক্যারিবিয়ানদের লোয়ার অর্ডার ভেঙে পড়ে দ্রুতই। শেষ ৬ উইকেট হারায় তারা ২৯ রানের মধ্যে।

শেষ বিকেলে ৯ ওভার নিরাপদে কাটিয়ে নিউ জিল্যান্ডের দিনটি স্বস্তিতেই শেষ করেন টম ল্যাথাম ও ডেভন কনওয়ে। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৭৫ ওভারে ২০৫ (ক্যাম্পবেল ৪৪, কিং ৩৩, হজ ০, হোপ ৪৮, চেইস ২৯, গ্রেভস ১৩, ইমলাখ ১৬, রোচ ০, ফিলিপ ৫, সিলস ০*, শিল্ডস ০; ডাফি ১৯-৫-৩৩-১, ফোকস ১৫-৩-৪১-০, রাই ১৮-৪-৬৭-৩, টিকনার ১৬-২-৩২-৪, ফিলিপস ৭-১-১৯-১)।

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৯ ওভারে ২৪/০