Published : 11 Jun 2026, 11:21 PM
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার ৮ উইকেটের ৬টিই শিকার করেছেন দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম ওয়ানডেতে তিন পেসারের উইকেট ছিল ৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ যে সংস্করণেই খেলুক না কেন, সেখানেই থাকে পেসারদের দাপট। এমন ধারাবাহিক দাপটে তাসকিনের বিশ্বাস, বিশ্বের সেরা তিন পেস বোলিং আক্রমণের একটি বাংলাদেশ।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। বরাবরের মতো এই ম্যাচেও পেসারদের হাত ধরে আসে ভালো শুরু। প্রতি ম্যাচেই পেসারদের এমন পারফরম্যান্স বারবারই প্রতিপক্ষকে বাধ্য করেছে বাংলাদেশের পেস বোলিং নিয়ে কথা বলতে। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা প্রতিটি ম্যাচের পরই প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন বাংলাদেশি পেসারদের।
তাসকিনের মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত করার সুযোগ হয়তো থাকবে সামান্যই, “আমার বিশ্বাস সেরা তিনের থাকার মতো আমরা (ভালো) করছি।”
তার বিশ্বাস প্রতিপক্ষ দলগুলিও এখন নিজেদের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে পেস উইকেট বানাতে খানিকটা হলেও ভাববে, “কিছুটা হলেও হয়তো চিন্তা করবে সিমিং উইকেট বানাতে।”
এক সময় বিদেশের মাঠে বাংলাদেশের জন্য থাকত পেস উইকেটই। তবে উইকেট যেমনই হোক, ধারাবাহিকতা আর ছন্দ ধরে রাখলে মানিয়ে নিতে কোন অসুবিধা থাকবে না বলে তাসকিনের বিশ্বাস।
“এটা বলতে পারছি না যে কন্ডিশনে যাব, তখন কে কেমন কন্ডিশন বানায়। কিন্তু আমাদের গ্রুপে ওই বৈচিত্র্যটা আছে। যেমনই কন্ডিশন হোক, মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা আছে। আল্লাহ যাতে সবাইরে সুস্থ রাখে, সবার ছন্দ ভালো থাকলে ভালো করা যাবে।”
ক্ষুরধার এই পেস আক্রমণে তাসকিনের প্রধান সঙ্গী মুস্তাফিজুর রহমান। তার মতো নতুন বলে সাফল্য পেয়েছেন এই বাঁহাতি পেসারও। এই ম্যাচে তার তিন উইকেটই পেয়েছেন নতুন বলে। ক্যারিয়ারজুড়ে যে কাজটি করতে পেরেছেন তিনি কমই।
সাধারণত নতুন বলে তাকে খুব বেশি ব্যবহার করে না বাংলাদেশ। তবে অভিজ্ঞতা দিয়েই তিনি এখন সব চ্যালেঞ্জের দাবি মেটাতে পারেন বলে মনে করেন তাসকিন।
“(মুস্তাফিজ) ফিজ তো সবসময়ই ‘চিল গাই’। আসলে অভিজ্ঞতা যে ভূমিকা রাখে সেটা ওর বোলিং দেখলে বোঝা যায়। যখন দলের প্রয়োজনে নতুন বলে আসে তার সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করে।”
“সে দারুণ বোলার। আমাদের জন্য দারুণ সম্পদ। ও চাইলে সব জায়গায় ও কন্ডিশনে বল করতে পারে।”
এ দিন প্রথম ওভারে তাসকিনের উইকেটের পর দ্বিতীয় ওভারে মুস্তাফিজ জোড়া ধাক্কায় টালমাটাল করে দেন অস্ট্রেলিয়াকে। রানের খাতা খোলার আগেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
মুস্তাফিজের সঙ্গে নতুন বলের জুটি সব সময়ই উপভোগ্য তাসকিনের কাছে।
“যে যখন খেলছে বা বল করছে, সবাই তো ভালো করছে। এটাই আসলে একটা ভালো পেস বোলিং গ্রুপের লক্ষণ। ফিজের সাথে বল করতে তো সবসময় উপভোগ করি। শুধু আমি নই, সবাই।”
এই পেস আক্রমণের নবীনতম সদস্যকে নিয়েই অবশ্য এখন তোলপাড় তুলনামূলকভাবে বেশি। শুধু বাংলাদেশে নয়, নাহিদ রানা আলোড়ন তুলেছেন গোটা ক্রিকেট বিশ্বেই। তরুণ সতীর্থের সেই সাফল্য আনন্দ দেয় তাসকিনকেও।
“এটা ভালো অনুভূতি। কারণ আমাদের পেস বোলিং ইউনিটেরই সবার নাম। সবার সব সময় এক যায় না। ঘুরেফিরে কেউ না কেউ নেতৃত্ব দিচ্ছে। সবারই অবদান থাকছে। সেটা উন্নতি করছে। এটা একটা ভালো অনুভূতি।”
“আল্লাহ যাতে ওকে (নাহিদ) আরও সাফল্য দেয়। আমাদের পেস বোলিংটাকে উপরে নিয়ে যায়।”
নাহিদের গতিময় বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের খাবি দেখেও দারুণ উপভোগ করেছেন তাসকিন।
“সে ভালো সম্ভাবনাময় এবং সুন্দর পাওয়া আমাদের দল এবং দেশের জন্য। রানার মতো একটা এক্সপ্রেস বোলার পেয়েছি। ওর বল খেলতে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরাও মিডল অর্ডারে ভয় পাচ্ছিল আসলে। এটা দারুণ অনুভূতি। বোলিং ইউনিট হিসেবে সবাই মিলে উন্নতি করছি, এটা সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা।”
যার নামই বেশি উচ্চারিত হোক, পুরো বিশ্ব বাংলাদেশের পেস বোলিং নিয়ে কথা বলছে, এটাকেই বড় পাওয়া মনে করেন তাসকিন।
“একটা সময়ে গিয়ে তো আমরা কেউ খেলব না। এটাই পাওয়া, এ রকম পেস বোলিং ইউনিট হয়েছে। এটা যাতে ভবিষ্যতে আমরা ওপরের দিকে নিয়ে যেতে পারি।”
“বিশ্ব কথা বলছে আমাদের পেস বোলিং গ্রুপ নিয়ে, এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।”