Published : 13 Jun 2026, 06:03 PM
একসময় প্রতিপক্ষ পেসারদের উৎকণ্ঠায় থাকত বাংলাদেশের ব্যাটাররা। বনের বাঘের আগে মনের বাঘে খেয়ে খেলার নজির তো কম নেই। সেই সময়টা দেখেছেন সৌম্য সরকার। দেখছেন এখনকার সময়টাও, যখন বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে খাবি খাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার মতো দল। দিনবদলের এই খেলা দারুণ উপভোগ করছেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
ঘরের মাঠে এ ববছর পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ওয়ানডে সিরিজে বল হাতে দাপটদেখিয়েছে বাংলাদেশ। কখনও নাহিদ রানা, তো কখনও তাসকিন আহমেদ, আবার কখন শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমানরা প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ঘায়েল করেছেন ম্যাচের পর ম্যাচে।
এই বছর ৮ ওয়ানডেতে ৫৪টি উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। এখানে তাদের ধারেকাছে নেই ক্রিকেট বিশ্বের আর কোনো দল। ৮ ম্যাচেই ৩৩ উইকেট নিয়ে দুইয়ে আছে নেপাল। ৬ ম্যাচে ৩২ উইকেট নিয়ে তিনে নিউ জিল্যান্ড।
এক সময় এই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়তো বাংলাদেশ। সেই দিনগুলির কথা অকপটেই বললেন সৌম্য। বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, বদলে যাওয়া সময়টা দারুণ আনন্দ দিচ্ছে তাকে।
“আমরাই যখন আগে খেলতাম শুরুর দিকে, তখন চিন্তা করতাম এই বোলারটাকে খেলব। আবার আরেকটা বোলার আছে, তাকেও আমার খেলতে হবে। যে কোনো একজন বোলারকে বেছে নিতে হতো, কাকে আক্রমণ করব আর কাকে দেখে খেলব। এখন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই জিনিসটা অন্যরা চিন্তা করছে। তারা চাপে আউট হয়ে যাচ্ছে। চাপে ভুল শট খেলে আউট হচ্ছে। এটা দেখতেও যেমন ভালো লাগে, নিজের কাছেও ভালো অনুভূতি হয়।”
পেসারদের জুটি গড়ে বল করা, নিজেদের মধ্যে মধুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, এসব এই পেস আক্রমণকে আরও ক্ষুরধার করে তুলছে বলে মনে করেন সৌম্য।
“এখন তাসকিন-মুস্তাফিজ বল করছে। তৃতীয় পরিবর্তনে রানা আসছে। যখন রানা একদিন একটু কম উইকেট পাচ্ছে, সেদিন মুস্তাফিজ নিয়ে নিচ্ছে। এটা খুব ভালো ব্যাপার।”
“দলের মধ্যে খুব ভালো সময় যাচ্ছে। আজকে রানা (উইকেট) নিচ্ছে, কালকে মুস্তাফিজ নিচ্ছে, এর পরের দিন তাসকিন নিচ্ছে। এটা খুবই ভালো। সবশেষ সিরিজে শরিফুলও অনেক ভালো বল করেছে। ভালো ইকোনমিতে বল করেছে, কিন্তু সে দলের একটা (কম্বিনেশন) ইস্যুর জন্য খেলতে পারছে না। এটা ভালো দিক দলের জন্য এবং ভবিষ্যতে যে খেলাগুলো হবে, সেগুলোর জন্যও।”
পেসারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট পুরো দল। সেটা স্পষ্ট পেসারদের নিয়ে পুরো দলের কথাবার্তায়। এই যেমন গত বৃহস্পতিবার তাসকিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের পেস বোলিংকে বিশ্বের সেরা তিনে দেখেন তিনি। সেই কথার সুরেই সৌম্য বলেন, বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিট বিশ্বের সেরাদের একটি।
“আমার দেখা মতে, যে কোনো কন্ডিশনে ও যে কোনো দেশে আমাদের পেস বোলিং ইউনিট অন্যতম সেরা। আমার মনে হয়, যে কোনো দল আমাদের বিপক্ষে খেলতে গেলে অবশ্যই আমাদের পেস বোলিং আক্রমণ নিয়ে চিন্তা করবে। বাইরে খেলতে গেলে, তখন তারা চিন্তা করবে পেস বোলিং উইকেট দেবে কিনা।”
“পেস বোলিংয়ে আমাদের জন্য এখন খুব ভালো সময় যাচ্ছে। তারা এত ভালো করছে।”
পেসারদের এমন ফর্ম বাংলাদেশকে দিচ্ছে বাড়তি সুবিধা। সাম্প্রতিক সময়ে ম্যাচজয়ী বোলিং স্পেলের দেখা মিলছে তাদের হাত ধরে। অথচ কিছুদিন আগেও জয় পেতে ভরসা করতে হতো স্পিনারদের উপরই। পেসারদের দারুণ ছন্দ ধরে রাখতে তাদেরকে যত্নে লালন করার তাগিদ জানান সৌম্য।
“জয়ের অনুপাতের দিক থেকে আগে স্পিন অনেক বেশি সাহায্য করত, এখন সেটা পেসাররা করছে। এটা খুবই ভালো দিক। আমার মনে হয়, তাদেরকে অনেক বেশি যত্ন করা উচিত। যত্নশীল হওয়া উচিত, যেন আরও লম্বা সময় তারা দলকে ভালোর দিকে নিয়ে যেতে পারে।”
সৌম্যর আশা, জাতীয় দলের আশেপাশে থাকা পেসাররাও নিজেদের আরও শাণিত করবেন এবং তাতে আরও সমৃদ্ধ হবে দেশের পেস ভাণ্ডার।
“ওদেরকে (বর্তমানে জাতীয় দলে থাকা পেসার) দেখে নিচের সারিতে যারা আছে, তারাও যেন নিজেকে তৈরি করে। আবার পাইপলাইনে যারা এখন আছে, তাদেরকে নক করতে পারে। তাহলে ভালো একটা প্রতিযোগিতা হবে। ভবিষ্যতেও এটার (পেস বোলার) ঘাটতি হবে না। একটা স্রোতে আমরা উপরের দিকে যেতে থাকব।”