Published : 03 Oct 2025, 06:54 PM
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর এখনও পুরোনো চেহারায় দেখা যায়নি নাসির হোসেনকে। তবে সেরা সময়ের কিছুটা ঝলক দেখালেন তিনি। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিলেন তিনি রংপুর বিভাগকে। জাতীয় সিলেটে লিগ টি-টোয়েন্টির আরেক ম্যাচে খুলনার বিভাগের রান তাড়ায় দারুণ ইনিংস খেলেন এনামুল হক।
চট্টগ্রামের প্রথম হার
চট্টগ্রাম বিভাগকে প্রথম হারের স্বাদ দিয়ে রংপুর বিভাগ ম্যাচ জিতে নেয় ৫ উইকেটে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে টস জিতে বোলিংয়ে নামা রংপুরের জয়ের ভিত গড়ে দেয় বোলাররাই। চট্টগ্রামকে আটকে রাখে তারা ১৩৮ রানে।
ফর্মে থাকা দুই ওপেনার মুমিনুল হক (১২) ও মাহমুদুল হাসান জয় (১১) এ দিন ভালো করতে পারেননি। ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারানো চট্টগ্রামকে এগিয়ে নেন ইরফান শুক্কুর। তাকে কিছুটা সঙ্গ দেন অধিনায়ক ইয়াসির আলি চৌধুরি (২২)।
৫৮ রানের এই জুটি ভাঙার পর ইরফানই এগিয়ে নেন দলকে। শেষ পর্যন্ত খেলে ৪৬ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন অভিজ্ঞ এই কিপার-ব্যাটার।
রান তাড়ায় রংপুর দ্রুত হারায় ওপেনার অনিক সরকার সেতুতে। তবে দ্বিতীয় উইকেটে জাহিদ জাভেদ ও নাসির হোসেনের ৭৮ রানের জুটি দলকে নিয়ে যায় জয়ের কাছে।
৩২ বলে ৩৯ করে আউট হন জাভেদ। বল হাতে একটি উইকেট নেওয়া নাসির ব্যাট হাতে করেন ৩২ বলে ৪৩।
পরে অধিনায়ক আকবর আলি ১৪ বলে অপরাজিত ২৬ রান করে দুই ওভার বাকি থাকতে জিতিয়ে দেন রংপুরকে।
পাঁচ ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে এখন পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে চট্টগ্রাম, পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে চারে রংপুর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চট্টগ্রাম বিভাগ: ২০ ওভারে ১৩৮/৭ (মুমিনুল ১২, জয় ১১, শাহাদত ৪, সৈকত ১৫, ইরফান ৬৪*, ইয়াসির ২২, নাঈম ০,রুবেল ৯, মেহেদি রানা ০*; মুশফিক ৩-০-২৬-২, সাকলাইন ৪-০-২১-৩, আলাউদ্দিন ৩-০-৩২-১, হাশিম ৪-০-১৪-০, নাসির ৪-০-৩৮-১, জাভেদ ২-০-৬-০)।
রংপুর বিভাগ: ১৮ ওভারে ১৪১/৫ (অনিক ৬, জাভেদ ৩৯, নাসির ৪৩, আল মামুন ৪, আকবর ২৬*, নাঈম ২, রুবেল ৪-০-১৫-১, নাঈম ৪-০-২৮-১, মুরাদ ৪-০-৩৮-২, শরিফ ৩-০-২২-০, মেহেদি রানা ৩-০-৩৬-১)।
ফল: রংপুর বিভাগ ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: নাসির হোসেন।
হারের চক্রেই বরিশাল
হারের বৃত্ত থেকে এই ম্যাচেও বের হতে পারল না বরিশাল বিভাগ। তাদেরকে আট উইকেটে উড়িয়ে দিল খুলনা বিভাগ।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বরিশালের শুরুটা খারাপ ছিল না। মৌসুমে প্রথম খেলতে নেমে ওপেনার আজমির করেন ১৭ বলে ২৪। আরেক ওপেনার ইফতিখার হোসেন ইফতি করেন ৩২ বলে ৩৪।
তিনে নেমে ফজলে মাহমুদ করেন ৩২। তবে বল খেলে ফেলেন তিনি ৩৫টি। তবু ভালো স্কোরের সম্ভাবনা ছিল বরিশালের। ১০ ওভার শেষ রান ছিল ১ উইকেটে ৭৭।
কিন্তু পরের ১০ ওভারে একের পর এক উইকেট হারিয়ে স্রেফ আর ৬০ রান করতে পারে তারা। আর কোনো ব্যাটসম্যান ভালো করতে পারেননি।
১৩৯ রান তাড়ায় খুলনা এগিয়ে যায় অনায়াসেই। ওপেনার ইমরানউজ্জামান ফিরে যান ২১ বলে ৩০ রান করে। আরেক পাশে এনামুলের ব্যাট ছিল উত্তাল।
তিনে নামা আফিফ যদিও ২১ রান করতে ২৪ বল খেলেন। তবে এনামুল ছিলেন বলেই কোনো বেগ পেতে হয়নি খুলনাকে।
৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৭ বলে ৭২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে ফেরেন এনামুল।
পাঁচ ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে খুলনা এখন পয়েন্ট তালিকার তিনে। কোনো ম্যাচ জিতে না পেরে তলানিতে বরিশাল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বরিশাল বিভাগ: ২০ ওভারে ১৩৭/৭ (আজমির ২৪, ইফতেখার ৩৪, ফজলে মাহমুদ ৩২, সালমান ১৫, অন্তর ৪, সোহাগ ১৫*, জাহিদউজ্জামান ৭, মেহেদি ০, মইনুল ০*; নাহিদুল ৪-০-৩১-১, টিপু ১-০-১১-০, রবিউল ২-০-১২-০, জীবন ৪-০-২৫-২, মৃত্যৃঞ্জয় ৩-০-২০-১, মুন্তাসির ৩-০-১৮-১, আফিফ ১-০-৬-০, জিয়াউর ২-০-১৪-২)।
খুলনা বিভাগ : ১৬.৩ ওভারে ১৩৮/২ (ইমরানউজ্জামান ৩০, এনামুল ৭২*, আফিফ ২১, মিঠুন ৮*; মেহেদি ২-০-১৪-০, রুয়েল ২-০-১৫-০, মইনুল ৩-০-২৫-১, জেহাদ ২.৩-০-২৭-১, সোহাগ ৪-০-২৩-০, ইফতেখার ২-০-২৩-০, অন্তর ১-০-৯-০)।
ফল: খুলনা বিভাগ ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: এনামুল হক।