Published : 15 Apr 2026, 09:23 PM
রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার দুপুরে কলেজের মূল ফটকের সামনে এ ঘটনার পর আহত দুই সাংবাদিককে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
আহত বিপ্লব শেখ ডেইলি ক্যাম্পাসের কলেজ প্রতিনিধি। তিনি বলেন, দুপুরে ক্যাম্পাস গেটে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব সমর্থিত দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। তা দেখে সোনালী নিউজের কলেজ প্রতিনিধি ওবায়দুল হকসহ সাংবাদিক সমিতির কয়েকজন এগিয়ে যান। এ সময় ছাত্রদল কর্মীদের হাতে রড ও ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল।
“এ সময় দুইজনকে রক্তাক্ত দেখে আমি সংবাদ সংগ্রহের জন্য ভিডিও করি। বিষয়টি দেখে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাকে ভিডিও ধারণে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে মোবাইল নিয়ে আমি আবার ভিডিও করতে গেলে কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাকিব হাসান রকি আমার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। আমি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর গালাগাল করে বলে, ‘তুই ভিডিও করছিস কোন সাহসে?’ বলেই, রড দিয়ে আমার হাতে ও পায়ে আঘাত করে।”
আহত আরেক সাংবাদিক সোনালী নিউজের প্রতিনিধি ওবায়দুল হক বলেন, “ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসের ভেতরে হাতাহাতি করতে দেখে আমি ভিডিও করতে যাই। এ সময় ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক রকি আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আমাকে ঘুষি মারা শুরু করে। একপর্যায় আমার মাথায় ও পায়ে রড দিয়ে আঘাত করা হয়।”
ঘটনার বিষয়ে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম বলেন, “আমাদের জুনিয়র কিছু ছেলেরা নিজেদের মধ্যে মতবিরোধে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সাংবাদিকরা সেখানে এসে ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলেন। তখন সেখানে তাদের সঙ্গে ওই জুনিয়রদের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। আহতদের খোঁজ খবর নিচ্ছি।”
এদিকে দুই সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কবি নজরুল সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতি।
সংগঠনের সভাপতি আতিক হাসান শুভ বলেন, “আমরা ঘটনাটি শুনে সঙ্গে সঙ্গে আহত সাংবাদিকদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সাংবাদিক বিপ্লব শেখ ও ওবায়দুল হকের ওপর যারা হামলা করেছে তাদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুপুরে যখন ঘটনাটি ঘটে তখন আমার কক্ষে অতিথি ছিলেন। বাইরে বিশৃঙ্খলার তথ্য জানিতে পারি। একবার শুনি তাদের (ছাত্রদল) নিজেরা নিজেরা মারামারি করেছে। আবার শুনি সাংবাদিক আহত হয়েছে। পরে সাড়ে ৪টার দিকে বাসায় আসার পর জানতে পারি সাংবাদিকরা লিখিত অভিযোগ দিয়ে গিয়েছেন।”
এ ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে প্রশ্ন করলে অধ্যক্ষ বলেন, “ছাত্রদলের কারা অভিযুক্ত সেটা আগে নিশ্চিত হতে হবে। এরপর বিষয়টা যদি আমার হাতে থাকে তবে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আর যদি নাগালের বাইরে থাকে, তবে দেশে আইন আদালত আছে, থানা আছে, তারা ব্যবস্থা নেবে।”
৬ নেতাকর্মীকে ছাত্রদলের নোটিস, তদন্ত কমিটি
দুই সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় ৬ কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে কলেজ শাখা ছাত্রদল।
কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের (দপ্তর সম্পাদক) সই করা বিজ্ঞপ্তিতে যাদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে তারা হলেন- সংগঠনের দুই যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হাসান রকি, সাব্বির আহমেদ ইভান, দুই সদস্য সাইফ, মাশরাফি এবং দুই কর্মী উজ্জ্বল ও জীবন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কলেজ ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আপনাদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে আগামী ২৪ ঘণ্টার ভিতরে কলেজ শাখার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হল।”
এছাড়া ঘটনা খতিয়ে দেখতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কেন্দ্রীয় সহ সভাতি শাকির আহমেদ ও এই এম আবু জাফরকে নিয়ে গঠিত এই কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।