Published : 23 Apr 2026, 12:13 AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের দেয়ালে ‘গুপ্ত’ লেখার সময় বাধা পেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
বুধবার সন্ধ্যায় বিজয় একাত্তর হলের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাধ্যক্ষ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, তাদের ‘দেয়াল লিখন কর্মসূচিতে’ বাধা দেন হল সংসদের পাঠকক্ষ সম্পাদক তারেক রহমান শাকিব। তিনি ছাত্রশিবিরের সমর্থনে হল সংসদে নির্বাচিত হন।
শাকিবের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের আহবায়ক তানভীর আল হাদী মায়েদ বলেন, “আমাদের হলের বাইরের দেয়াল পরিষ্কার থাকায় সেখানে কিছু লেখা নিষেধ। সেজন্য যেসব জায়গায় রঙ করা হয়নি, দেয়াল অপরিষ্কার সেখানেই আমরা দেয়াল লিখন করি।
“আমাদের ছেলেরা হল সংসদের কক্ষের সামনে দেয়াল লিখনের পর ছবি তুলছিল। এসময় হল সংসদের পাঠকক্ষ সম্পাদক শাকিব আমাদের ছেলেদের গালিগালাজ করেন। কে দেয়াল লিখেছে তা জানতে চান তিনি। ছবি তোলার সময় বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহরিয়ার নীড়ের ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন শাকিব।”

বিজয় একাত্তর হল সংসদের দরজার দুই পাশে কয়েক জায়গায় লেখা হয়েছে ‘গুপ্ত’। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রশিবিরের গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখনের জায়গায় এই ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখার জেরে উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে গ্রাফিতির নিচে লেখা ছিল ‘ছাত্র-রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। তবে কে বা কারা ‘ছাত্র-রাজনীতি’ থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি কালো কালি দিয়ে মুছে ওপরে ‘গুপ্ত’ লিখে তির চিহ্ন এঁকে দেন। এরপর সেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা লেখালেখি করেন, যার জেরে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ হয়।
পরবর্তীতে সিটি কলেজের সংঘর্ষ ও ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে জাতীয় সংসদ অধিবেশনেও। সিটি কলেজের ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘দেয়াল লিখন’ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল।
এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে ‘গুপ্ত’ লেখার সময় বাধা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন হল সংসদের পাঠকক্ষ সম্পাদক শাকিব। তবে ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
শাকিব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি হল সংসদে যাচ্ছিলাম। সেখানে একজন জুনিয়র ‘গুপ্ত’ লিখছিল। হলের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে যেন সহিংসতা না ছড়ায়, সেজন্য লিখতে মানা করেছি। ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ স্রেফ অপবাদ।”
বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক স ম আলী রেজা বলেন, “আমার কাছে এখনো কেউ অভিযোগ দেইনি। ছাত্রদলের দেয়াল লিখন কর্মসূচিতে হল সংসদের একজন প্রতিনিধি বাধা দিতে যায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সব পক্ষই ধৈর্য দেখিয়েছে।
এর আগে দুপুরে মাস্টারদা সূর্য সেন হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করেন।