Published : 19 Jul 2026, 08:43 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শ্রেণিকক্ষে রোববার সকালে শিক্ষক ঢোকামাত্রই বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রসঙ্গ ওঠে।
শনিবার রাতের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের কথা টেনে শিক্ষক প্রশ্ন করেন, “ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে কী খেলা হল এটা? এটা কি মেসির কাছ থেকে গোল্ডেন বুট কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা?”
প্রশ্ন শেষ না হতেই আর্জেন্টিনার পক্ষ নিয়ে ফারদিন রহমান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “মেসি আজ চমক দেখিয়ে দিবে; হ্যাট্রিক করে এমবাপেকে ছাড়িয়ে যাবে; ফিফার সব অপচেষ্টা রুখে দেবে।”
এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে ফাইয়াজ উদ্দিন স্বরণ নামে এক শিক্ষার্থী বলে ওঠেন, “মিশর আর আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচে যেভাবে রেফারি কাজ করেছেন, সেটা করলে সম্ভব।”
এভাবে শ্রেণিকক্ষে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলে অন্তত ২০ মিনিট।
শুধু শ্রেণিকক্ষ নয়, টিএসসি থেকে শুরু করে চায়ের দোকান কিংবা রাস্তাঘাঁট— ঢাকা বিশ্ববদ্যালয়ের সবখানেই লেগেছে ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের হাওয়া।
ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে রোববার রাত ১টায় মুখোমুখি হবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যাচ্ছে, ফাইনালে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের পাল্লাই ভারি। স্পেনের সমর্থক তুলনামূলক কম। অবশ্য ব্রাজিলসহ বাদ পড়া অন্যান্য দলের অনেকেই আর্জেন্টিনার পরাজয় দেখতে চান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে কথা হয় বোরহান উদ্দিন নামে একজনের সঙ্গে, যিনি নিজেকে পরিচয় দেন একজন গবেষক হিসেবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আর্জেন্টিনার একজন ভক্ত হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, আজ আর্জেন্টিনা জিতবে। ক্যাম্পাসে দুইটা ওয়ার্ল্ড কাপ দেখলাম, দুইটার ফাইনালেই আবার আর্জেন্টিনা! দ্বিতীয়বারের মত রেকর্ড করবে মেসি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী ফাহমিদুল ইসলাম অবশ্য আর্জেন্টিনার জয় দেখতে পাচ্ছেন না।
তার বক্তব্য হলো, “স্পেনের মত শক্তিশালী দলকে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা যেভাবে দেখছেন, তা দেখে মনে হয় তারা মৌসুমি সমর্থক। কারণ, লামিন ইয়ামালের মত উদীয়মান স্টারকে মাথায় না নেওয়া আর্জেন্টিনার ভুল। আজ ইয়ামাল প্রমাণ করে দিবে, সে-ই আগামীর তারকা।”
এবার বিশ্বকাপ ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ স্থানে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু)।
স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠ, হলপাড়া, ভিসি চত্বর ও জগন্নাথ হলের উপসনালয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ক্যাম্পাসের বাইরের ফুটবলভক্তরাও আসছেন এসব স্থানে খেলা দেখতে।
বিশ্বকাপের হাওয়া লেগেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনেও। নিজেদের ফেইসবুক পেইজে বিশ্বকাপ ফাইনালের সময়সূচি পোস্ট করেছে জনসংযোগ দপ্তর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখার সময় নারীদের হেনস্থা করার অভিযোগও উঠেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ নামের একটা গ্রুপে অন্তত ১০ নারী শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগ তোলেন।
তাদের একজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি মুহসীন হল মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখছিলাম। হঠাৎ একটা ছেলে পেছন থেকে এসে আমার গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে।“
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থী বলেন, “আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার যদি এমন অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়! প্রশাসনের ভূমিকা বেশ হতাশ করে।”
টিএসসিতে খেলা দেখার সময় হেনস্তার কথা আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “আমি খেলা দেখছিলাম, পেছন থেকে ঢাকা কলেজের এক ছেলে আমাকে ভিডিও করছিল। এটা আমার এক সিনিয়র দেখতে পেয়েছিলেন। পরে আর খেলা দেখতে যাইনি।”
ফাইনাল ঘিরে এ ধরনের পরিস্থিতে এড়াতে ক্যাম্পাসে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, রোববার সন্ধ্যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখগুলোতে বিএনসিসি ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আজ কোনো বহিরাগত প্রবেশ করতে পারবে না। আমাদের কাছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সবার আগে।”