Published : 20 Jul 2026, 12:27 AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ বহিরাগত প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে বহিরাগতরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলা দেখানোর জায়গাগুলো রোববার রাতে খেলা শুরুর দেড় ঘণ্টা আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।
রাত ১টায় নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা হয়েছে।
পাশাপাশি মেয়েদের হলে প্রবেশের যে সময়সীমা, তা শীতিল করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের অনেকেই টিএসসি ও হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল এলাকায় খেলা দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশের কারণে কারো কানো অস্তস্তি রয়েছে।

রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী স্মৃতি আকতার বলেন, “আজকে ভাবছিলাম বাইরে খেলা দেখব। কিন্তু যখন দেখলাম পুলিশের বাধা পেরিয়ে বহিরাগতরা প্রবেশ করেছে, এখানে নিরাপদ মনে হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একদিনের জন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে, এমন আয়োজনের তো দরকার নেই।”
শামসুন্নাহার হলের আরেক শিক্ষার্থী আসমা আক্তার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এতটাই ভঙ্গুর তা জানতাম না। আমরা আজকে একটু খেলা দেখতে চেয়েছিলাম। সেখানে বহিরাগত ঢুকিয়ে ভরিয়ে ফেলেছে। এমনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীরা অনিরাপদ। সেখানে আজ এই অবস্থায় বাইরে থাকা একদম অনিশ্চিত।"
শনিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখগুলোতে বহিরাগত প্রবেশ সীমাবদ্ধ করার কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর অংশ হিসেবে রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশ মুখে পুলিশ ও বিএনসিসি মোতায়ন করা হয়।

তবে রাত ১১টার দিকে পুলিশ ও বিএনসিসির বাধা ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে বহিরাগতরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহবাগ মোড়ে দেখা যায়, পুলিশের ব্যরিকেড ভেঙে তারা ভেতরে প্রবেশ করছে।
রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টিএসসি, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, ভিসি চত্বর ও হল পাড়া এলাকায় খেলা দেখানোর স্থানগুলো কানায় কানায় পূর্ণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পাড়ায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। কেউ হল থেকে নিয়ে এসেছেন চেয়ার, আবার কেউ মাটিতে বসতে কাগজ বিছিয়েছেন।
নিরাপত্তায় বিষয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আছে কিনা জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।