মজুরি আন্দোলনে ‘নেই’ সংগঠনগুলো, দেখাদেখিতে মাঠে শ্রমিকরা, ‘অচেনারাও’ আছেন
বিজিএমএইর এক নেতা বলেন, “আমরা সকালবেলা খুলতেছি। কারখানা চালানোর পরিস্থিতি নাই বলে শ্রমিকদের ছেড়ে দিতে হচ্ছে। কারণ কারখানার সামনে যখন ৫০টা লোকের মব আসতেছে তখন কারখানা বন্ধ করতে হচ্ছে। কারণ হাজার হাজার শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয় আছে।”
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শিবু মার্কেট এলাকায় মজুরি বাড়ানোর আন্দোলনে ছিলেন মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং মিল লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ তখনো শুরু হয়নি।
মঙ্গলবার দুপুরে ছয় লেন সড়কের মাঝখানে সহকর্মীদের সঙ্গে অবরোধে অংশ নেওয়া রেজাউল করিম বলছিলেন, আগের দিনের আন্দোলনেও তিনি ছিলেন। সকালে কারখানায় কাজে ঢুকলেও দুপুরের খাবারের বিরতি দেওয়ার পর তারা কাজ ছেড়ে বাইরে চলে আসেন। পাশের আরেকটি কারখানার শ্রমিকদের আহ্বানে আন্দোলনে জড়ো হন। এতে মালিকপক্ষ কোনো বাধা দেননি বলেও জানান এ শ্রমিক।
“গতকাল আমরাই শুরুতে নামছিলাম, পরে আশেপাশের শ্রমিকরা আসে। কিন্তু আজ পাশের আরেকটা কারখানা থেকে শ্রমিকরা নামার পর আমরা নামছি। প্রথমে পুলিশ বাধা দিছে কিন্তু আমরা রাস্তায় উঠে গেছি,” যোগ করেন তিনি।
তার মতো কারখানার মালিকপক্ষ কিংবা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বাধা না পাওয়ার কথা বলেছেন আরেকটি কারখানার শ্রমিক তাছলিমা।
“লাঞ্চ পর্যন্ত কাজ করছি। তারপর দেখি লোকজন আন্দোলনে যাবার কথা বলতেছে। আমরাও চলে আসছি। সবাই আন্দোলনে নামছে ন্যায্য দাবিতে। আমরা দাবি পুরা মানা ছাড়া সরব না। আর দশজনের যেই গতি, আমারও সেই গতি হইবো।”
ফতুল্লার এই দুই শ্রমিকের মতো রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকার অনেক কারখানা শ্রমিক চলমান আন্দোলনে নামার প্রধান কারণ হিসেবে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে সোচ্চার হওয়ার কথা বলেছেন। তারা বলছেন, মূলত সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ানোর পর থেকে তাদের মধ্যে বেতন নিয়ে কর্থাবার্তা বাড়তে থাকে।
এরপর মজুরি বোর্ড গঠন হতে দেরি হওয়ায় চড়া বাজারে পরিবারের খরচ পোষাতে না পেরে তাদের মধ্যে ক্ষোভ জমতে থাকে বলে তুলে ধরেন মিরপুরে আন্দোলনে নামা কয়েকজন শ্রমিক।
নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও বাড়েনি তাদের মজুরি। অনেক কারখানায় বেতন বকেয়া। কোথাও কোথাও কারখানায় শ্রমিকদের কালোতালিকাভুক্ত করার বিষয়গুলোও শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়েছে বলে তুলে ধরেন মিরপুরের কারখানায় কাজ করা বেশ কয়েকজন শ্রমিক।
সোমবার আন্দোলনের মধ্যে মিরপুরে ভাঙচুর করা হয় অন্তত দুটি কারখানা। এরমধ্যে সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “এক থেকে দেড়শ লোক এসে কারখানায় হামলা চালায়। তারা কারখানার কাচ ও বেশ কিছু যন্ত্রপাতি ভেঙেছে।”
কারখানাটির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের শ্রমিকরা কাজ করছিল। হুট করেই বাইরে থেকে আসা শতাধিক লোকজন এখানে হামলা ও ভাঙচুর করে। তারা যখন আসে, তখন আমাদের কারখানার শ্রমিকদের নামিয়ে দিই। তারপরও তারা ভাঙচুর চালায়।”
কারা এবং কী কারণে ভাঙচুর চালিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীরা সব কারখানা বন্ধ রাখতে চাইতে পারে। কোনো কারখানা চালু থাকলে এবং সেখানকার শ্রমিকরা আন্দোলনে না গেলে, অন্য শ্রমিকরা সেখানে হামলা বা ভাঙচুর চালাতে পারে বলে তাদের ধারণা।“
নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার শ্রমিকদের সঙ্গে সড়কে দেখা যায় সেখানকার একটি নিটিং কারখানার ব্যবস্থাপক শামীম হোসেনকে। শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, বেতন বাড়ানো উচিত। শ্রমিকদের যেকারণে এখনও বাধা দিচ্ছে না কারখানাগুলোর কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিকদের সংগঠিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, “সংগঠন আকারে শ্রমিকরা যাচ্ছে না। আসলে পাশের কারখানার লোকজন বেরিয়ে গেলে আমরা ছেড়ে দিতে বাধ্য হই। কারণ, আমাদের শ্রমিকদেরই বাবা, ভাই, মা, বোন কিংবা সন্তান আরেক কারখানায় কাজ করে। কেউ আন্দোলনে গেলে বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়ই।”
তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার কথাও তুলে ধরেন শামীম।
শ্রমিকদের এ আন্দোলনে পুরোপুরি ‘নিয়ন্ত্রণ’ না থাকার কথা বলেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা এমএ শাহীন। সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার এই সভাপতি সোমবার শ্রমিকদের আন্দোলনে গেলেও মঙ্গলবার তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে শাহীন বলেন, “লাঞ্চের পর শ্রমিকরা হঠাৎ নেমে গেছে। কোনো কন্ট্রোল নাই, কোনো নির্দেশনা নাই। এরমধ্যে আমরা বিশৃঙ্খলারও খবর পাই।
“দীর্ঘদিন যাবৎ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি। ইতোমধ্যে সরকার গঠন করেছে কমিশন। দ্রব্যমূল্য ও শিল্পমালিকদের সক্ষমতা অনুযায়ী বোর্ড গঠন করবে। আমরা মনে করি সময় দিতে হবে। শ্রমিকরা কিন্তু সেটি বুঝতেছে না।”
আরেক শ্রমিক নেতা বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, শ্রমিকদের দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া অসন্তোষের কারণে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূল মনে হচ্ছে না। শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন কোনো অন্যায় নয়, এটি তাদের সম্পূর্ণ ন্যায্য অধিকার। তারা খুব ভালো করেই জানে যে, মজুরি বোর্ড গঠনের অন্তত ছয় মাস পর নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার বিধান রয়েছে। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা চাচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই যেন তাদের এই মজুরি কার্যকর করা হয়।
তার ভাষ্য, “কারখানায় ভাঙচুর ও নৈরাজ্য চালিয়ে শ্রমিকরা নিজেদের রুটি-রুজির জায়গা কখনো ধ্বংস করতে পারে না। এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পেছনে হয়তো ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের লোক রয়েছে, কিংবা অন্য কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জড়িত।”
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্পশ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, পোশাক খাতে যখনই কোনো আন্দোলন দানা বাঁধে, তখনই এর পেছনে রাজনৈতিক বিষয় ও কারখানা মালিকদের নানা চক্রান্তের বিষয়টি সামনে চলে আসে। শ্রমিকদের মূল দাবি ছিল একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা, যা ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে।
এরপর আন্দোলন চলা নিয়ে তার অভিযোগ, “বর্তমানে যে আন্দোলন চলছে, তা মূলত কোনো সাধারণ শ্রমিক আন্দোলন নয়; এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং গার্মেন্টস মালিকদের ইন্ধনে পরিচালিত একটি আন্দোলন।
“শ্রমিকরা কখনোই নিজেদের কর্মসংস্থানের প্রতিষ্ঠান বা কারখানা ভাঙচুর করে না। কিন্তু দেখা যায়, শ্রমিকরা যখনই কোনো আন্দোলনে নামে, তখন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের মতো সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রমিক সেজে সেই মিছিলে এসে নানা স্লোগান দিয়ে এটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে এবং রাজনৈতিক রূপ দেয়।“
এবারের মজুরি বাড়ানোর আন্দোলন ঢাকার মিরপুরের পাশাপাশি গাজীপুর এবং সাভার ও আশুলিয়া হয়। তাদের দেখাদেখি সোমবার থেকে নারায়ণগঞ্জের কারখানাগুলোর শ্রমিকরা আন্দোলনে নামে।
নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শাহীন বলেন, “শ্রমিকদের আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু শ্রমিকরা তা মানছেন না। তবে আন্দোলনটা স্বতস্ফূর্ত হলেও এখন কিছু কিছু শ্রমিকদের আচরণ ভিন্নভাবে দেখছি আমরা।
“এ জাতীয় কিছু শ্রমিকদের অংশ বড় রোড দখল করবে বলেও চেষ্টা করছে। এই ধরনের চিন্তা তো আমাদের ছিল না। এইটা সন্দেহ তৈরি করে। মজুরি বৃদ্ধির স্লোগান দেবে। কিন্তু এখানে রাস্তায় নামার পর একটা উচ্ছৃঙ্খল অংশ ঢুকে পড়ছে। রাজনৈতিক অনেক ষড়যন্ত্র থাকলেও থাকতে পারে।”
একই রকম কথা বলেছেন মিরপুরে আন্দোলনে নামা কিছু শ্রমিকও।
আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর কাফরুলে বিআরটিএর পেছনে একটি জায়গায় সোমবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে জড়ো হতে দেখা যায় কয়েকটি পোশাক কারখানার ১২ থেকে ১৩ জন শ্রমিক। মিরপুরে কয়েক দিন ধরে চলা মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়ে কথা বলছিলেন তারা।
তাদের উদ্বেগ, আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে পড়া অপরিচিত লোকজনের কর্মকাণ্ডের দায় এসে পড়ছে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর।
তাদের কয়েকজনের ভাষ্য, তারা মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন, ভাঙচুর করতে নয়। কালশী ফ্লাইওভারের কাছে একটি ভবনে ঢিল ছোড়ার ঘটনায়ও শ্রমিকদের বাইরের লোকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলছেন তারা।
বৈঠকে থাকা রহমত আলী নামে এক শ্রমিক বলেন, “কালসি রোডে ১৪ তলা একটা বিল্ডিং আছে। ওই জায়গায় কিন্তু আমাদের লোকজনের সঙ্গে অপরিচিত কিছু লোকজন দেখছে। যারা ওই এলাকার শ্রমিক না। তারা ওই বিল্ডিংটায় ঢিল মারছে। এবং মেরেই তারা চলে গেছে।”
তার পাশে থাকা আজিজুল হাকিম বলেন উঠে, “এরা শ্রমিকও না, এরা এলাকারও না। কিন্তু এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর।”
বৈঠকে কয়েকজন শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা তো ভাঙচুর করতে আন্দোলন করেনি।”
মিরপুরের শ্রমিকদের এই উদ্বেগের মধ্যেই উঠে আসছে তাদের আন্দোলনের মূল কারণ। নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, কিন্তু বাড়েনি মজুরি। দীর্ঘদিনের এসব বঞ্চনা ও ক্ষোভ থেকেই শ্রমিকদের রাজপথে নামার কথা বলেছেন শ্রমিক ও শ্রমিক নেতারা।
তবে আন্দোলনের মধ্যে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ বা রাজনৈতিক ইন্ধনের চেষ্টা থাকার বিষয়টি সরকার ও অন্যদের মতো বাদ দিচ্ছেন না তারা। এটিকে আন্দোলনের প্রধান কারণ হিসেবে না দেখার অনুরোধ করে তারা বলেন, সেভাবে দেখলে শ্রমিকদের প্রকৃত সমস্যাগুলো আড়ালে থেকে যাবে।
রাজধানীর মিরপুরে গত বৃহস্পতিবার থেকে ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ আন্দোলনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। রোববার থেকে টানা তিন দিন তারা সড়কে নামেন।
আন্দোলনের কারণ জানতে চাইলে মিরপুর পল্লবীর কটন জুন লিমিটেডের শ্রমিক আশিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসল বিষয়টা হলো মজুরি নিইয়া। রাস্তার নামার পর অনেক ধরনের লোক জুটে যায়।
“পে-স্কেল দেওয়ার পর থেকেই শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভ ছিল। সবকিছুর দাম বেড়েছে। এগুলো নিয়ে কারখানাগুলোতে আলোচনাও চলছিল। কিন্তু মজুরি তো বাড়েই নাই। নতুন মজুরিও ঘোষণা করে নাই।”
আরেক শ্রমিকের অভিযোগ, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও তাদের মজুরি সেই তুলনায় বাড়েনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেতন বকেয়া, ব্ল্যাকলিস্টিং ও কারখানায় নিপীড়নের ঘটনা।
প্রগতিশীল সাত সংগঠনের জোট গার্মেন্টস অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক মোশরেফা মিশুর মতে, শ্রমিকদের এই ক্ষোভের কারণগুলো আড়াল করে আন্দোলনকে কেবল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা কোনো দলবিশেষের উসকানি হিসেবে উপস্থাপন করা শ্রমিক স্বার্থবিরোধী।
শ্রমিকদের রাজপথে নামার পেছনের কারণ তুলে ধরতে গিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “অনেক কারখানার ভিতরে দেড় লক্ষ শ্রমিক এখন বেকার ব্ল্যাকলিস্টিং এর শিকার। এছাড়া অনেক কারখানায় দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রাখা হচ্ছে। ছুটি না দিয়ে অতিরিক্ত কাজের চাপ দেওয়ায় আশুলিয়া ও গাজীপুরে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। অন্যদিকে ১২ হাজার ৫০০ টাকায় তার জীবন চলে না।
“সবকিছু মিলিয়ে শ্রমিকের ক্ষুব্ধতা। অথচ এই ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কথা নাই। মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো কথা নাই। যার জন্য শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে মাঠে নেমেছে।”
সাধারণত পাঁচ বছর পরপর নতুন মজুরি বোর্ড গঠন ও বেতন পুনর্নির্ধারণের সময় শ্রমিকদের আন্দোলন তীব্র হয়। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নতুন আইন করে তিন বছর পর মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ছিল। সেই হিসাবে চলতি বছরের মে মাসেই বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন পোশাক খাতসহ ১৯টি শ্রমিক সংগঠনের জোট ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “চলতি বছর ডিসেম্বরে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করতে হলে গত মে মাসেই মজুরি বোর্ড গঠন করা দরকার ছিল। সেটি না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে একধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়।
“আমরা শ্রমিকদের মজুরি ৩২ হাজার টাকা দাবি করেছি। তবে এখনই আন্দোলনের সময় নয়। মাত্র মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে। সরকারকে সময় দেওয়া দারকার।”
তবে বোর্ড গঠনে দেরি হলেও আগামী মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার মতে, সাধারণত প্রস্তাবিত মজুরি ঘোষণার পর শ্রমিকদের মজুরি আন্দোলন তীব্র হয়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ওদের পক্ষে আছি। তবে সাধারণ মজুরি আন্দোলন তীব্র হয় প্রস্তাবিত মজুরি ঘোষণার পরে। তবে এই আন্দোলনের নেতৃত্বে আমরা নেই।”
নেতৃত্বহীন আন্দোলনে ‘বহিরাগত’?
গণসংহতি আন্দোলনের শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ গামেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতারের অভিযোগ, “একটি পক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। গণঅভ্যুত্থানের বিরোধী ও পরাজিত শক্তি শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।”
দীর্ঘদিন ধরে মজুরি আন্দোলন গড়ে তোলা শ্রমিক সংগঠনগুলোও এই আন্দোলনে সরাসরি নেতৃত্বে নেই। তাহলে প্রশ্ন উঠেছে এই আন্দোলন শ্রমিকদের স্বাতঃস্ফূর্ত নাকি তৃতীয় পক্ষের উসকানি?
মিরপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেন শ্রমিক নেতা অনুপ। মামলা ও নিপীড়নের ভয়ে সংগঠনের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ইব্রাহিমপুরের দিকের শ্রমিকরা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাদের দাবি নিয়ে নামছে।
“একটাও নির্বাচিত ইউনিয়ন নাই। নির্বাচিত বা অনির্বাচিত কিছুই নাই। কোনো কার্যকর ইউনিয়ন না থাকায় মালিকপক্ষ ও শ্রমিক উভয়ের জন্যই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শ্রমিকরা নিজের মতো করে আন্দোলনে নেমে যাচ্ছে। নেতৃত্ব দেওয়ার লোক নেই।”
কার্যকর ইউনিয়ন না থাকায় শ্রমিকদের আন্দোলনে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ফলে শ্রমিকরা নিজের মতো করে আন্দোলনে নামছেন, আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগের উসকানির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিজের পর্যবেক্ষন তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটি কোনো ব্যাপক (ম্যাসিভ) রূপ নেয়নি।
“আওয়ামী লীগের লোকজন তারা কি দেশের বাইরে সবাই চলে গেছে? না কিছু তো দেশে আছেই। এবং আমরা যেমন যাচ্ছি তারাও তো এরকম আসতে আসবে এটা স্বাভাবিক। পলিটিক্যাল কাজের অংশ হিসেবে আসতে পারে। তাদের আত্মীয় স্বজন চাকরি করতে পারে সেই হিসেবে আসতে পারে। কিন্তু মেসিভ আকারে এইটা আমি দেখি নাই।”
এদিকে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের বিষয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থার ২৯ নভেম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কাফরুল থানাধীন সেনপাড়া পর্বতা এলাকার আইডিএস গ্রুপ ফ্যাশন লিমিটেড, ভিশন অ্যাপারেলস লিমিটেড, জকি ফ্যাশন লিমিটেড ও লোড স্টার ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করছেন।
“তারা নিজ নিজ গার্মেন্টসের সামনে থেকে মিরপুর মডেল ও কাফরুল থানাধীন মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্তর এলাকায় জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আশপাশে থাকা গার্মেন্টসগুলোতে সরকারবিরোধী লোকজন উসকানি দিয়ে মিরপুর ১০ নম্বরে জড়ো করার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।”
আশুলিয়ায় সন্ধ্যার পর আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন
মিরপুর ও গাজীপুরের মতো আশুলিয়াতেও এবার টানা কয়েকদিন থেকে আন্দোলন চলছে। সাধারণ সেখানে দিনের বেলাতেই আন্দোলন চলে। তবে আশুলিয়ায় এবারের মজুরি আন্দোলন শুরু হয় সন্ধ্যার পর।
জিরাবোর নিশ্চিতপুরে আল-মুসলিম আ্যাপারেলস, অনন্ত গার্মেন্টস ও নিউ ওয়েব গার্মেন্টস এর আশেপাশে থেকেই সন্ধ্যার পর আন্দোলনের শুরু হতে দেখা গেছে।
গার্মন্টেস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের আশুলিয়া থানার সভাপতি খোরশেদ আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা শ্রমিক আন্দোলন করছে সারাজীবন দিনে। তাহলে রাত্রে আন্দোলন করলো কারা?
“কিন্তু ওই তিনটা ফ্যাক্টরি আশপাশ থেকেই সন্ধ্যার শুরু হয়েছে। শ্রমিকরা সন্ধ্যার পরে কোনো আন্দোলন শুরু করে? কোন ইতিহাস আছে? রাতে আন্দোলনে করে তো শ্রমিকদের কোন ফায়দা নেই।”
আশুলিয়ায় কারখানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাধারণ শ্রমিকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন আশুলিয়ার শ্রমিকরা।
নিউ ওয়েব কারখানার শ্রমিক ইয়াসমিন আকতার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শ্রমিকরা নিরীহ। আমরা ৩০ হাজার টাকা চায়। দিনেই আন্দোলন করেছি। আমাদের হাতে ভাতের বাটি (টিফিন ক্যরিয়ার) ছাড়া তো কিছু নাই। কিন্তু আন্দোলনে বাঁশ-ইট-আগুন আসছে কোথ্তকে? আমরা কর্ম নষ্ট করিনি। কারো গাড়ি ভাঙচুর করিনি।”
তার দাবি, “আন্দোলনের ভিতরে কিছু লোকের কারণে আমাদের আন্দোলনটা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।”
আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করে এবং তার কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা তুলে ধরে খোরশেদ আলম একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নাশকতায় আওয়ামী লীগের দায় দিচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগতো আমি রোডঘাটে দেখি না, খুব কম। আমার পরিচিত যত আছে তাদের তো দেখি না। আওয়ামী লীগের কিছু তৎপরতা থাকতে পারে, কিন্তু মূল আন্দোলনকে বিপথগামী করার কাজটি অন্য পক্ষ করছে।”
গাজীপুরের চিত্র
এদিকে গাজীপুরে কয়েকদিন ধরে চলা আন্দোলন সোম ও মঙ্গলবার তীব্র রূপ নেয়। কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক এবং গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী, নাওজোর ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিক মহাসড়কে অবস্থান নেন। মঙ্গলবারও সেখানে আন্দোলন চলে। শ্রমিক ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় গাজীপুরের নাওজোর মোড়ে গলায় কারখানার আইডিকার্ড ঝুলিয়ে মজুরি আন্দোলনে অংশ নেন ৩৫ বছর বয়সি আবদুল হাকিম। বলেন, “মজুরি না বাড়ালে না বাড়ুক। দাম কমাক।
“যে বাসা ভাড়া আমরা তিন হাজার দিই, সেই বাসা ভাড়া কেন আমরা ছয় হাজার টাকা দিই। এই আন্দোলন চলাকলীন সময়েও অনেক বাড়িওয়ালা সিগনেল দিতেছে আরো ৫০০/১০০ হাজার টাকা বাড়াবে। কেনো বাড়িয়ে দিতে হবে? দ্রব্যমূল্যের দাম বাসাভাড়া কমাতে হবে। এই বিষয়ে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
গাজীপুরে অনেক কারখানা বন্ধ থাকলেও চৌধুরী বাড়ি এলাকার পেনাসিয়া ক্লোথিং লিমিটেড মঙ্গলবারেও খোলা ছিল। তবে কয়েক ঘণ্টা চলার পর সকালে সেই কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
ওই কারখানার শ্রমিক আসাদুল কারখানা থেকে বের হয়ে যোগ দেন বিক্ষোভে। তিনি বলেন, “মজুরি বোর্ড যে গঠন হইছে এরা বইসা সমাধান করে না কেন? কিছুটা তো আশ্বাস দিব। এই আশ্বাসটা তো শ্রমিকরা পাচ্ছে না।"
পর্যাপ্ত আশ্বাস ও সমাধানের পথ না পেয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করার কথা বলেছেন গাজীপুর ও আশুলিয়ার আরও এক ডজনের মত শ্রমিক।
কী বলছেন শ্রমিক নেতারা
দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ বিশ্বাস।
শ্রমিক আন্দোলন তীব্র রূপ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, "সোমবারে গার্মেন্টস বন্ধ ছিল, সেটা অনেক শ্রমিকই জানেন না। ফলে তারা সকালেই কারখানা উদ্দেশ্য রাওনা দেয়। গিয়ে দেখে তারা কারখানা বন্ধ। তারা আর বাসায় না ফিরে আন্দোলনেই যুক্ত হয়ে যায়।"
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া অভিজ্ঞতা বিডিনিউজের কাছে তুলে ধরে তিনি বলেন, "দিন রাত খেটে ওভারটাইমসহ মাসে ১৮/১৯ হাজার টাকা পায় শ্রমিকরা। আর এই এলাকায় ছোট্ট একটা রুমের বাসাভাড়া ৫ /৬ হাজার টাকা। কথায় কথায় ছাঁটাই, কারখানার ভিতর নির্যাতন এগুলো স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তাদের ভেতর পুষে ছিল। সুযোগ পেয়েই তারা আন্দোলনে নেমে গেল।”
আওয়ামী বা অন্যপক্ষের ইন্ধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায়। তার মাঝে কিছু লোক এই সুযোগ নিচ্ছে। উসকাবেই। কারণ তাদের নেতৃত্ব নেই।
"আওয়ামী লীগের সময় নামকোয়াস্তে হলেও মালিক ও আওয়ামী লীগের তৈরি করা ইউনিয়ন ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে সেটাও নেই। গার্মেন্টস মালিকরা কারখানায় ইউনিয়নও করতে দেয়নি। ফলে তাদের নিয়ন্ত্রণ করার মতো নেতৃত্বও ছিল না। ফলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও দ্রব্যমূল্যের উধ্বগতির ক্ষোভ থেকে তার স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেমে গেছে।"
শ্রমিকদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ আড়াল করে চলমান আন্দোলনকে কেবল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা কোনো দলবিশেষের উসকানি হিসেবে উপস্থাপনের বিরোধিতা করেছেন গার্মেন্টস অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক মোশরেফা মিশু। এ ধরনের অবস্থানকে তিনি সরাসরি ‘শ্রমিক স্বার্থবিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি বলেন, "ক্ষোভ -বিক্ষোভের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে সুযোগ সন্ধানীরা সুযোগ নিবেই । এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু শুধুমাত্র আওয়ামী লীগই করাচ্ছে এইভাবে যদি দেখি তাহলে শ্রমিক আন্দোলনকে ‘আন্ডার মাইন্ড’ করা হয় এবং শ্রমিক আন্দোলনকে শ্রমিক বিরোধী অবস্থা হয়ে যায়।”
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও আন্দোলনে ‘তৃতীয় পক্ষের’ উসকানি রয়েছে বলে মনে করেন আইবিসির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের কথা আমরা সরসরি বলছি। তৃতীয় পক্ষ উসকানি দিচ্ছে। তারা বহিরাগত কিছু লোক কারখানায় বাইরে থেকে ঢিল ছুড়ে কারখানার শ্রমিকদের রাজপথে নিয়ে আসছে।
“বোর্ড গঠনের পরও শিল্পে অরাজকতা চলমান থাকায় কোনো তৃতীয় পক্ষ শ্রমিকদের স্বার্থকে ব্যবহার করছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় থাকা বাংলাদেশের পোশাকশিল্প চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।”
দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি নির্ধারণের কাজ শেষ করে জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
শঙ্কায় বিজিএমইএ
চলমান মজুরি আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি মো. রিজওয়ান সেলিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমককে বলেন, “আমাদের সরকার বলেছে এটা মজুরির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এটাকেই অ্যাড্রেস করা হইছে। এখন বলা হচ্ছে এটা রাজনৈতিক সমস্যা। এটাতো সরকারকে সমাধান করতে হবে।”
রাজনৈতিক সমস্যা বলতে সরকার কি বোঝাচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা মনে করতেছি পোশাক খাতকে ব্যবহার করে এই আন্দোলনগুলো করতেছে।“
পোশাক খাতে যেকোনো আন্দোলনে দীর্ঘদিন ধরে যেসব নেতাকে দেখা যায়, এবারের মজুরি আন্দোলনে সেই পরিচিত মুখগুলো দেখা যাচ্ছে না। ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিকে যৌক্তিক মনে করলেও নেতৃত্বের জায়গায় ওইসব সংগঠনের নেতা ও কর্মীরা নেই।
তবে এমন তথ্য মানতে নারাজ বিজিএমইএর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান সেলিম।
তিনি বলেন, “মুখে বলছে তারা নেই। কিন্তু মন্টু ঘোষ, জনি তালুকদার, রুহুল আমিন ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে আন্দোলনকে উসকাচ্ছে। এখানে ভিন্ন লোকের ভিন্ন ভূমিকা আছে।”
কিছুদিন পর ফের আন্দোলনের আশঙ্কা করে তিনি বলেন, “সাতদিন ধরে কারখানাগুলোতে কাজ হয়নি। সাত তারিখের পর বেতন দেওয়ার সময় হযে যাবে। কিন্তু মালিকরা বেতন দিতে পারবে না। তখন আরেকটা ঝামেলা হবে।
“আমরা সকালবেলা খুলতেছি। কারখানা চালানোর পরিস্থিতি নাই বলে শ্রমিকদের ছেড়ে দিতে হচ্ছে। কারণ কারখানার সামনে যখন ৫০টা লোকের মব আসতেছে তখন কারখানা বন্ধ করতে হচ্ছে। কারণ হাজার হাজার শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয় আছে।”
আরও পড়ুন
মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন: গাজীপুরে আহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক মারা গেছেন
মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন: সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরে ৪০০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা
‘এখন আর দশটা মানুষের মত বাঁচতে চাই’
মাসে ১৪,৫০০ টাকা বেতন, ছেলের এসএসসির ফরমও পূরণ করতে পারেননি পোশাক শ্রমিক নাসিমা
মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন: ইন্ধনদাতাদের তথ্য আছে, বলছে পুলিশ
মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন: গাজীপুরে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ-সহিংসতায় ৩ মামলা: আসামি ৪ হাজার, গ্রেপ্তার ৩০
মজুরি আন্দোলন: মিরপুর-গাজীপুরে গ্রেপ্তার ৩৯, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে অস্থির শিল্পাঞ্চল
মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন: ফতুল্লায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
মজুরি বৃদ্ধির দাবি: আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ
[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি সৌরভ হোসেন সিয়াম, সাভার প্রতিনিধি সেলিম আহমেদ ও গাজীপুর প্রতিনিধি]
