০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

মজুরি আন্দোলন: মিরপুর-গাজীপুরে গ্রেপ্তার ৪৯, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে অস্থির শিল্পাঞ্চল

এর মধ্যে সাভার ও আশুলিয়ায় ১৭৭টি এবং গাজীপুরে শতাধিক কারখানায় একদিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয় বলে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মজুরি আন্দোলন: মিরপুর-গাজীপুরে গ্রেপ্তার ৪৯, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগে অস্থির শিল্পাঞ্চল

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে বিক্ষোভরত পোশাক শ্রমিকদের টিয়ার গ্যাস মেরে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 07:33 PM

Updated : 01 Nov 2026, 08:48 PM

ন্যূনতম মজুরিসহ বিভিন্ন দাবিতে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার মিরপুর, সাভার ও আশুলিয়া এবং গাজীপুর শিল্পাঞ্চল অশান্ত হয়ে ওঠেছে।

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে রোববার সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে এসে অবরোধ তৈরি করেন।

এ সময় ঢাকার মিরপুর ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর, লাঠিপেটা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের তিন শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সাভার ও আশুলিয়ায় ১৭৭টি এবং গাজীপুরে শতাধিক কারখানায় একদিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয় বলে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অসন্তোষের মধ্যে মিরপুরে ২৯ জন এবং গাজীপুরে ২০ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

দুপুরে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানান ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান।

পরে ডিএমপির মিরপুর বিভাগ আরও ১৭ জনকে আটক করেছে বলে জানিয়েছেন এ বিভাগের উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার।

বিকালে ডিএমপির মিরপুর বিভাগ থেকে সব শেষ তথ্যে বলা হয়, সারা দিনে মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অপরদিকে শিল্প পুলিশ-২ গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. মুমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের স্থানে স্থানে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও পুলিশ লাঠিপেটা, কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাজীপুরের কোনাবাড়ি, শফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎসহ আশপাশের এলাকায় শ্রমিকরা সকাল থেকে রাস্তায় ছিল। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক-পুলিশ দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। দুপুরের দিকে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় এসব এলাকা।

উত্তেজিত শ্রমিকরা আগুন দিয়েছে পুলিশ বক্সে, ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি গাড়িও। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ছয় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

পুলিশ জানায়, আন্দোলনের একপর্যায়ে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। পরে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার সেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিকরা রোববার বিকাল ৩টার দিকে মহাসড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ার পর যানবাহন চলাচল শুরু হয়। আশপাশের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক আছে। পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ ছাড়া বিকালে কয়েকটি কারখানার শ্রমিক মিলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুরে সড়ক অবরোধ করেছেন। এ কারণে ওই পথে যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে মিরপুর ১১, ১২ ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়, যা চলে প্রায় দুপুর ২টা পর্যন্ত।

এ সময় মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ, যাত্রী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

দুপুরের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মিরপুর ১০, মিরপুর ১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সড়ক ও রেল—দুই পথেই যোগাযোগ ব্যাহত হয়।

এদিকে আন্দোলনের মধ্যে রোববার সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

পরে দুপুর ১টার দিকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।

পুরনো খবর:

শ্রমিক অসন্তোষ: সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরে ৩০০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা