মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন: ষষ্ঠ দিনে মিরপুরে গ্রেপ্তার ১৬
এদিন সকালেও মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাতের খবর এসেছে।
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে ১৬ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দিনভর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার।
তবে তাদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানাননি তিনি।
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটছে। আন্দোলনকারীদের অনেককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালেও মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাতের খবর এসেছে।
এদিন সকালে মিরপুর ১১ সেকশনে মেট্রো স্টেশনের নিচে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করতে দেখা যায়। এরমধ্যে কালশী রোডে এক পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে ‘লাইভ মনিটরিং’ জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান পোশাক শ্রমিকরা। সেদিন দুই দফায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বিকালে শ্রমিকরা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এরপর শনিবার মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেন। শুরুতে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ হলেও পরে তা সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।
সংঘাতের মধ্যেই এদিন সরকার ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। তাতেও অসন্তোষ কমেনি।
সোমবার আন্দোলনরত শ্রমিকদের মিরপুরের সড়কে নামতেই দেওয়া হয়নি। মিরপুর ১৪ এলাকায় শ্রমিকদের এক দফা ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়। পরে মিরপুর ২ এলাকায় আন্দোলনকারীরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।
