মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন: ফতুল্লায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সতর্ক পুলিশ-বিজিবি
সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের টানা তিন দিনের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কাঠেরপুল, রামারবাগ, শিবু মার্কেট ও নয়ামাটি এলাকায় পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দিতে দেখা যায়। সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কাঠেরপুল, শিবু মার্কেট ও নয়ামাটি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, এসআরবি মোতায়েন করা হয়েছে। শিবু মার্কেট থেকে বিভিন্ন সড়কে বিজিবি সদস্যদের টহল দিতেও দেখা গেছে।
এদিকে ফতুল্লার পাশাপাশি নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়াতেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চাষাঢ়ায় পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি), জলকামান, বিজিবির দুটি গাড়ি এবং শিল্প পুলিশের দুটি ভ্যান মোতায়েন রয়েছে।
সেখানে পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদেরও সড়কে দেখা গেছে। চাষাঢ়া শহীদ মিনারে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন অতিরিক্ত ডিআইজি।
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কয়েকদিন ধরেই ঢাকার মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে আন্দোলন করছিলেন পোশাক শ্রমিকরা। বিভিন্নস্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটছে।
এর ধারাবাহিকতায় সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কসহ কয়েক স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
এ সংঘাতের মধ্যেই সরকার ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। তাতেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ কমেনি।
বুধবার মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠকের পর ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়। তারপর থেকে শ্রমিক অসন্তোষ কমে আসে।
বাংলাদেশ ট্রাস্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এফ এম আবু সাঈদ বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শ্রমিক ভাইয়েরা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিয়ে কাজ করছেন।”
তবে শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কিছু দেশি-বিদেশি চক্রের কারণে মজুরি বোর্ডের একটি সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরও তাদের উসকানিতে শ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। কোনো শ্রমিক বা অন্য কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”
