গাজীপুরে সাউন্ড গ্রেনেডে ভণ্ডুল নিহত পোশাক শ্রমিকের গায়েবানা জানাজা
“আমাদের গায়েবানা জানাজা পড়তে না দিয়ে হামলা করা হয়েছে।”
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় শ্রমিক আন্দোলনে নিহত শ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজার প্রস্তুতি নেয় এনসিপি।
ওই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বুধবার বেলা পৌনে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার এস এম আশরাফুল আলম জানিয়েছেন।
ওই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলায় আহত হন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তৌফিক মিয়া (২০)। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওই শ্রমিকের রূহের মাগফিরাত কামনায় গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় এনসিপির পূর্বঘোষিত গায়েবানা জানাজার প্রস্তুতি চলছিল।
তারা বলছেন, জানাজার আগে এনসিপি ও শ্রমিক শক্তির বেশ কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষ করে তারা গায়েবানা জানাজা আদায়ের উদ্যোগ নিলে পুলিশ বাধা দেয়।
তখন বাধা উপেক্ষা করে জানাজা আদায়ের চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিজিবি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা এস এম আশরাফুল আলম বলেন, “গাজীপুর মহানগরের চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে গায়েবানা জানাযার নামায উদ্দেশ্যে কিছু লোক জড়ো হয়।
“পরে নানা বক্তব্য দেওয়া শুরু করে। প্রথমে তাদের মহাসড়ক থেকে সরে যেতে অনুরোধ জানালেও তারা সরেননি।”
তিনি বলেন, “কে কোন উদ্দেশ্য জড়ো হয়েছে তা তো জানা যায় না। তাই তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে।”
এনসিপির মুখ্য সংগঠক আলী নাসের খান বলেন, “পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা প্রদান করেছে। আমরা পোশাক শ্রমিক তৌহিদ হত্যার বিচার দাবি করছি।
“সেইসঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাই। আমাদের গায়েবানা জানাজা পড়তে না দিয়ে হামলা করা হয়েছে।”
