গাজীপুরে শ্রমিক নিহতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, কাঁদুনে গ্যাস-সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ
এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে নিহত শ্রমিক তৌফিক হোসেন হত্যার বিচার দাবিতে গাজীপুরে মিছিল করেছেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা।
এ সময় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর-বাংলাবাজার সড়কের বাংলাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ নিয়াজ শিশির।
শ্রমিকরা জানান, সোমবার শ্রমিক আন্দোলনের ভিডিও করতে গিয়ে হামলার শিকার হন তৌফিক (৩৫)। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এরই প্রতিবাদে এদিন সকাল পৌনে ১০টার দিকে বাংলাবাজার এলাকায় এ্যাপিলিয়ন গার্মেন্টসের সামনে প্রথমে লায়লা স্টাইলস লিমিটেডের শ্রমিকেরা মিছিল বের করেন। পরে আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
এক পর্যায়ে মিছিলকারীদের সঙ্গে বহিরাগতদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেন। এতে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।
শ্রমিকদের অভিযোগ, এ সময় বহিরাগতদের হামলায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
লায়লা স্টাইলস লিমিটেডের শ্রমিক মনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের এক ভাই মারা গেছেন। তার মৃত্যুর প্রতিবাদে শ্রমিকেরা মিছিল বের করেন। এ সময় বহিরাগতরা মিছিলে বাধা দেন। আমাদের কয়েকজন শ্রমিককে আটকে রেখে নির্যাতন করে তারা। পরে তাদের অনেককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।”
মনিরা নামের আরেক শ্রমিক বলেন, “এখানে মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সমস্যা। সেখানে বহিরাগতরা কেন? আমাদের ভাই-বোনদের পশুর মতো মারধর করা হচ্ছে। পুলিশ এসে টিয়ার শেল ছোড়ে। এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।”
শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ নিয়াজ শিশির বলেন, “শ্রমিকদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সরিয়ে দিয়েছেন। তবে মারধরের ঘটনায় কোনো শ্রমিক আহত হয়েছেন কি-না, তা তার জানা নেই।”
এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকা, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিকরা তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।
