Published : 23 Jun 2026, 08:36 PM
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মোট বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এর মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি চীনের সঙ্গে, ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির তথ্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশ ১৮ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারে।
ভারতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর আমদানি করেছে ৯ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এতে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। দেশটি থেকে বাংলাদেশ ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও রপ্তানি করেছে মাত্র ৫৬ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।
এ ছাড়া সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার, ব্রাজিলের সঙ্গে ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, কাতারের সঙ্গে ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি আছে বলেও তথ্য দেন আবদুল মুক্তাদির।
সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, মরক্কো ও জাপানসহ আরও দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর সম্ভাব্য শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা হারানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার এবং জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনের উদ্যোগ নিয়েছে।
“ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শুরু করতে ইউরোপীয় কমিশনের বাণিজ্যবিষয়ক মহাপরিচালকের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের কাছে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে এফটিএ আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।”
চীন সম্প্রতি তাদের ট্যারিফ লাইনের ৯৯ শতাংশ পণ্যে বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে বলে সরকার আশা করছে, বলেন বাণিজ্যমন্ত্রীর।
জামালপুর-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। একক খাতের ওপর নির্ভরতা কমাতে আরও আটটি খাতকে বিশেষ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
এসব খাত হল- চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধশিল্প, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্য। এসব খাতের রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সরকারি আদেশ জারি করেছে।