Published : 07 Jul 2026, 10:14 PM
বিদেশি বিনিয়োগে আবার বেহাল দশা দেখা দিয়েছে; চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে ৪৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম।
জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ৪৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলার; আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারি-মার্চের তিন মাসে মোট ১১০ কোটি ৪৩ লাখ (১.১০ বিলিয়ন) ডলারের এফডিআই এসেছে দেশে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ৬৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার ফেরত নিয়ে গেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। সেই হিসাবে নিট এফডিআই ৪৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।
অপরদিকে ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের প্রথম তিন মাসে মোট ১৫৭ কোটি ৮৩ লাখ (১.৫৮ বিলিয়ন) ডলারের এফডিআই এসেছিল দেশে। এর মধ্যে ৭৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার ফেরত নিয়ে গিয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা। ওই হিসাবে নিট এফডিআইয়ের পরিমাণ ছিল ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।
বছর কয়েক ধরে দেশে এফডিআইয়ের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমার মধ্যেই ২০২৫ সালে নিট এফডিআই ৩৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়েছিল। পুনর্বিনিয়োগ ও আন্ত:কোম্পানি ঋণের ওপর ভর করেই মূলত বিদেশি বিনিয়োগে ওই বড় লাফ দেখা দেয়।
২০২৫ সালে ১৭৭ কোটি ৪ লাখ ডলারের নিট এফডিআই এসেছিল। ২০২৪ সালে যা ছিল ১২৭ কোটি ৪ লাখ ডলার; অর্থের হিসাবে বেড়েছিল ৫০ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে মোট এফডিআইয়ের মধ্যে নিট ইক্যুইটি এসেছে ৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৬ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। আর নিট এফডিআইয়ের ৩৪ কোটি ২৯ লাখ ডলার এসেছে পুনর্বিনিয়োগ আয় থেকে। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৯ কোটি ১২ লাখ ডলার।
অপরদিকে আন্ত:কোম্পানি ঋণ থেকে এসেছে ২ কোটি ৬১ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৪ কোটি ১৫ লাখ ডলার।
শুধু এ প্রান্তিক নয়, বাংলাদেশের এফডিআইয়ের বড় অংশই আগে থেকে দেশে বিনিয়োগ করা কোম্পানির আয় পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে আসে।
‘নতুন সরকার এসেছে, এখন বাড়তে পারে’
বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করে অর্থনীতির বিশ্লেষক এম মাসরুর রিয়াজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে বিদেশি বিনিয়োগে খারাপ অবস্থা। গত বছর যেটা বেড়েছিল সেটার কিন্তু ভিন্ন কারণ ছিল।
“কয়েক বছর দেশে যে পরিস্থিতি গেছে, তাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার কোনো কারণ ছিল না। দেশে বিনিয়োগ সহায়ক অনুকূল পরিবেশ ছিল না; রাজনৈতিক অস্থিরতা-অনিশ্চয়তা ছিল। তাই দেশি বিনিয়োগেরও ছিল দুরাবস্থা। সে অবস্থায় বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার কোনো কারণ আমি দেখি না।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের এই চেয়ারম্যান বলেন, “নতুন সরকার এসেছে। রাজনীতিতে স্থিতিশীলতার আভাস দেখা যাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি খান সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে এখন বিদেশি বিনিয়োগ বাড়তে পারে।”
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো সবচেয়ে বেশি জরুরি। নতুন বিনিয়োগ বাড়াতে হলে লজিস্টিকস, অবকাঠামো সুবিধা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নীতির ধারাবাহিকতা ঠিক করা দরকার।”
বার্জার বাংলাদেশের এই এমডি বলেন, বাংলাদেশ সস্তা শ্রম ছাড়া অন্যান্য সুবিধার দিক থেকে প্রতিযোগী দেশের তুলনায় পিছিয়ে। দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সে জন্য আগে অন্য অসুবিধাগুলো দূর করতে হবে।
২০২৫ সালে বেড়েছে ৪৫%, তবুও ‘উগান্ডা-ঘানার’ চেয়ে কম: আঙ্কটাড
এদিকে মঙ্গলবার জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’ প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ১৭৮ কোটি ডলার এফডিআই এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৪ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালে বিনিয়োগ এসেছিল ১২৩ কোটি ডলার।
আঙ্কটাডের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ ৪৪ দশমিক ৭১ শতাংশ বাড়লেও আফ্রিকার দেশ উগান্ডা, ঘানা ও কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) মতো দেশগুলোর চেয়ে কম এসেছে।
২০২৫ সালে উগান্ডা ৩৪০ কোটি ডলার, ঘানা ১৯০ কোটি ডলার এবং ডিআর কঙ্গো ১৯০ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালে ভারত পেয়েছিল ৩৮ দশমিক ৮৯ (৩ হাজার ৮৮৯ কোটি) বিলিয়ন ডলারের এফডিআই; বেড়েছিল ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। পাকিস্তানে এসেছিল ১৮৫ কোটি ডলার; কমেছিল ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ। আর শ্রীলঙ্কা ১০৪ কোটি ডলারের এফডিআই পেয়েছিল; বেড়েছিল ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ।