সূর্যমুখী ও ক্যানোলা তেল আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার
এসব তেলে ভিন্ন মান অনুযায়ী ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক ছিল। একই সঙ্গে ৫ শতাংশ হারে আগাম কর দিতে হত।
ভোজ্যতেলের বাজারে সরবরাহ বাড়াতে এবার অপরিশোধিত সূর্যমুখী ও ক্যানোলা তেল আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুটি আলাদা প্রজ্ঞাপনে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর।
একটি প্রজ্ঞাপনে এসব তেল আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কমিয়ে শূন্য করা হয়েছে।
আরেক প্রজ্ঞাপনে অপরিশোধিত এবং অপরিশোধিত নয় এমন সূর্যমুখী ও ক্যানোলা তেল আমদানির ক্ষেত্রে সব আমদানি শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণ শুল্ক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এসব তেলে ভিন্ন মান অনুযায়ী ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক ছিল।
ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি আট টাকা বাড়ানোর পর বাজারে সরবরাহ বাড়াতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার সয়াবিনসহ সব ভোজ্যতেলে ভ্যাট ছাড়ের সময় আরও তিন মাস বাড়ায় এনবিআর।
ওই প্রজ্ঞাপনে আগের মতই সব ভোজ্যতেলে ভ্যাট ৫ শতাংশ রাখার সময় ১৫ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৩১ মার্চ করেছে।
রোজাকে সামনে রেখে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ওই দিন সয়াবিন ও পাম তেলের সঙ্গে অপরিশোধিত সানফ্লাওয়ার ও অপরিশোধিত ক্যানোলা তেলের ক্ষেত্রেও একই সুযোগ দেওয়া হয়।
আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ছাড় ও আগাম কর অব্যাহতির দুই দিনের মাথায় এবার সানফ্লাওয়ার ও ক্যানোলা তেলের আমদানির ক্ষেত্রে অন্যান্য শুল্ক-কর থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হল।
বাজারে সরবরাহ সংকটের মধ্যে বিশ্ববাজারে বাড়তি দামের কারণে সরকারের সঙ্গে পরামর্শের পর গত ৯ ডিসেম্বর সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৮ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় পরিশোধনকারীরা। এরপরও বাজারে তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
এমন প্রেক্ষাপটে সরবরাহ বাড়ানোর সহায়ক হিসেবে কর ছাড়ের এসব ঘোষণা এল বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
লিটার প্রতি ৮ টাকা বেড়ে এখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা ঠিক হয়েছে ১৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ও খোলা পাম তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হবে ১৫৭ টাকা; পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাবে ৮৫২ টাকায়।
