রেলে অব্যবস্থাপনা: বৈঠকের পর কর্মসূচি স্থগিত করলেন রনি

তবে আমার আন্দোলন কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। ছয় দফা এখন দেশের মানুষের দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 July 2022, 06:28 PM
Updated : 25 July 2022, 06:28 PM

রেল সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে চার ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক শেষে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন রেলের অব্যবস্থাপনা নিয়ে টানা কর্মসূচি পালন করে আসা মহিউদ্দিন রনি।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার পর বিকালে রেল ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলোচনায় বসেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রাত সাড়ে নয়টায় বৈঠক শেষে ৭ জুলাই থেকে কমলাপুর স্টেশনে একা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া রনি ‘আপাতত’ কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, "আপাতত আমি আন্দোলন স্থগিত করেছি।"

রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা বন্ধের ছয় দাবিতে কমলাপুর স্টেশনে আন্দোলনরত রনি তার সহযোগীদের নিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।

এরপর রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার তাকে রেলভবনে বৈঠকে ডাকেন। গত মঙ্গলবার মহাপরিচালকের কাছেও স্মারকলিপি দিয়েছিলেন রনি।

রেলওয়ের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ জানিয়ে ছয় দফা দাবিতে ৭ জুলাই থেকে কমলাপুর টিকেট কাউন্টারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি। পরে তাকে স্টেশনে ঢুকতে না দিলে তিনি শাহবাগেও কর্মসূচি পালন করেন।

সোমবার রেল ভবনে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের রনি বলেন, "তবে আমার আন্দোলন কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। আমার কর্মসূচি স্থগিত করেছি। কারণ আমার কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষ যাতে বেশি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে।

“আমার যে ছয় দফা এখন শুধু এটা আমার একার না। এটা সারা বাংলাদেশের মানুষের দাবি।"

বৈঠক শেষে রেল সচিব হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, "রনির আবেগের জায়গাকে আমরা সম্মান করি। তিনি যে দাবিগুলো করেছেন, সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।

"রনি যে টিকেট হয়রানি নিয়ে বলেছে এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। বিষয়টিকে আরও কীভাবে জনবান্ধব করা যায়, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।"

রেলের টিকেট ইন্টিগ্রেশন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, টিকেট ব্যবস্থা জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে ইন্টিগ্রেটেড হয়ে যাবে। ফলে যে সমস্যাগুলো কথা বলা হচ্ছে সেগুলো আর থাকবে না। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র ভেরিফিকেশন ও চেকিং হয়ে যাবে। এছাড়া ই টিকিটিংয়ের ক্ষেত্রে পেমেন্ট নিয়ে আমরা সহজডটকমকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছি।

"ভবিষ্যতে আমরা ডিজিটাল টিকিটিং সিস্টেম এর জন্য অব্যাহতভাবে কাজ করে যাব।"

রেলের অংশীজন সভার প্রতিনিধি হবেন রনি

বৈঠকে রনির ছয় দফা দাবি নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি তাকে রেলের অংশীজন সভার প্রতিনিধি করা হয়েছে বলেন জানান সচিব।

তিনি বলেন, "আমাদের একটি কমিটি আছে। আমরা তিন মাস পর পর সভায় বসি। যেখানে মূলত যাত্রীদের কীভাবে সুবিধা বাড়ানো যায়, কিভাবে কাজ করা যায় এগুলো নিয়ে, সভায় আলোচনা করা হয়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি রনিকে আমরা সেই অংশীজন সভায় অন্তর্ভুক্ত করব।

“যার ফলে তিনি নিয়মিত সেই মিটিংয়ে আসতে পারবেন। তার এই যে দাবিগুলো রয়েছে, সেগুলোর নিয়ে তিনি সেখানে আলোচনা করতে পারবেন, এবং মনিটরিং করতে পারবেন।“

‘ব্লক চেকিংয়ের’ মাধ্যমে রেলের কালোবাজারি বন্ধের ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, “আমরা রনিকে অনলাইনে টিকিট যে ব্লক করা যায় না এটা বুঝিয়ে বলেছি। এরপরও আমরা এক্সপার্ট দিয়ে যাচাই করে দেখব এরকম কিছু আছে কিনা।"

রেলের টিকিট নিরিক্ষক বিষয়ক দাবিগুলো আমলে নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “যেহেতু উনি আমাদের অংশীজন সভার প্রতিনিধি হয়ে যাচ্ছেন, তিনি ভবিষ্যতে বিষয়টি দেখতে পাবেন। আমরা আইসিটি ডিভিশনের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। একটি স্মার্ট রেলে কীভাবে রূপান্তরিত করা যায় তা নিয়ে কাজ করছি।"

এসময় প্রস্তাব অনুসারে অংশীজন সভায় অংশ নেবেন কি না এমন প্রশ্নে রনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমাকে রেলপথ মন্ত্রণালয় আশ্বস্ত করেছে তারা আমার দাবির ব্যাপারে সচেতন। উনারা যে আমাকে অংশীজন কমিটির সদস্য বানাতে চাচ্ছেন, আমি সকলের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি এটা কিন্তু কোনো টাকা পয়সার বিনিময় না। কোন ব্যক্তি সুবিধা দেওয়া হবে না।

"আমার কিছু দাবি আছে যেগুলো কয়েক মাসের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব হলেও কিছু দাবি আছে, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাসহ একটি লম্বা প্রসেসে যেতে হবে।"

তিনি বলেন, "আমি রেলের অংশীজন সভায় অংশগ্রহণ করব। বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের, যারা ভুক্তভোগী আছেন তারা আমাকে জানাবেন। ভুক্তভোগীদের কথাগুলো এখানে বলার আমার একটা সুযোগ হয়েছে।“

আন্দোলন চালিয়ে সবার নজরে আসা এ শিক্ষার্থী বলেন, "দুদক যে রিপোর্ট দেবে আমি তার অপেক্ষায় থাকলাম‌‌। রেলের প্রত্যেকটি বিষয়ের হিসাব নিকাশ নেওয়া হবে।"

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক