Published : 31 Oct 2022, 08:57 AM
কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
রোববার জাতীয় সংসদে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অগাস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠী, বিশেষ করে আরকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘাত চলছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে মর্টারের গোলা বিস্ফোরণ, আকাশসীমা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে।
“তবে মিয়ানমারের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ এখনও পর্যন্ত ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আগ্রহী। এ কারণে মিয়ানমারের আচরণের প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে চারবার তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানোর কথা সংসদে জানান মোমেন।
বিজিবি-বিজিপি বৈঠক: আকাশসীমা লঙ্ঘনে মিয়ানমারের দুঃখ প্রকাশ
মিয়ানমার থেকে গোলা আসা বন্ধ না হলে জাতিসংঘে তুলব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মর্টার শেল: মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব, কড়া প্রতিবাদ ঢাকার
মিয়ানমারের গোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, হতাহতের খবর
পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত আসিয়ান রাষ্ট্রদূত এবং অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের জন্য কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ের আয়োজনের কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূতকে আলাদা করে ডেকে ব্রিফ করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ দূতাবাস, ইয়াংগন থেকে সীমান্তে বিরাজমান পরিস্থিতি বিষয়ে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ মিয়ানমার সরকারকে অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বিষয়ক তিনটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও দপ্তরতে তাগিত দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জাতিসংঘের ৭৭তম অধিবেশনের সাইডলাইনে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান মোমেন।
ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৩ বছরে বাংলাদেশে ‘অভাবনীয় সাফল্য’ এসেছে। একে টেকসই করতে হলে রাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক ‘স্থিতিশীলতা’ প্রয়োজন। এ কারণে রাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিচ্ছে; যাতে আর্থসামাজিক, ধর্মীয় উন্মাদনা বা সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে রাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত না হয়।