Published : 08 Jun 2026, 11:47 PM
অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে চলমান ভ্যাপসা গরমের মধ্যে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও হতে পারে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ।
সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে ৫১ মিলিমিটার।
পঞ্জিকার পাতায় আষাঢ়ের প্রথম দিন আসতে আরও পাঁচ দিন বাকি। এরইমধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (বর্ষা) বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সারাদেশে মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ঘটবে বলে তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সোমবার সন্ধ্যায় অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মৌসুমি বায়ু এখনো সারা দেশে পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি। তবে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে এটি মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। এ কারণে ওই অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
“আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বিস্তৃত হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হবে।”
উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টিম হওয়ার তথ্য দিয়ে শাহীনুল ইসলাম বলেন, “এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
“ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।”
এদিকে আগামী ১৩ জুনের মধ্যে বা কাছাকাছি সময়ে দেশের ভেতরে ও উজানে ভারি বর্ষণের প্রভাবে সংশ্লিষ্ট নদ-নদীর পানি বেড়ে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকারণ কেন্দ্র।
কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলো তথ্যের প্রেক্ষিতে, আগামী ১৩ জুন পর্যন্ত অথবা সন্নিহিত সময়ে সিলেট ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী (১৮৮ মিলিমিটার) বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বর্ণিত অঞ্চলে স্থানভেদে পাঁচ দিনে সর্বোচ্চ ২৫০ থেকে ৩০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
“আগামী ১১ জুন পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি সমতলও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সময়ে সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলো সিলেট জেলায় সর্তকসীমায়/বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল।
“একই সময়ের মধ্যে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানিসমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সময়ে তিস্তা নদী লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় প্রবাহিত হতে পারে সর্তকসীমায়।”