Published : 24 Dec 2025, 04:22 PM
যুবদল নেতা আরিফ সিকদার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খাদিজা ইয়াসমিন বিথী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, তার বাবা সুব্রত বাইন ‘অপরাধী হতে পারেন’, কিন্তু যে ঘটনায় পুলিশ তাকে ধরেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
তাকে কেন গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে পাঠানো হচ্ছে এই প্রশ্ন তিনি রেখেছেন আদালতের কাছে। বীথি বলেছেন, তাকে গ্রেপ্তার করার কারণে তার শিশু কন্যাকে তার প্রতিবেশীদের দেখভাল করতে হচ্ছে।
শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে বীথিকে হাতিরঝিল থানায় করা যুবদল নেতা আরিফ সিকদার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার সারাহ্ ফারজানা হকের আদালতে এই মামলার রিমান্ড শুনানিতে বীথিকে আদালতে হাজির করা হয়।
গত ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা কারাগারের সামনে থেকে বিথীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. মাজহারুল ইসলাম। তবে মামলার মুল নথি না থাকায় আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে ১৯ ডিসেম্বর রিমান্ড শুনানির দিন রাখা হয়। ওইদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে ফের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মাজহারুল ইসলাম।
শুনানি শেষে আদালত বীথিকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে বলে প্রসিকিউটর শামছুদ্দোহা সুমন জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, "আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসছেন। সামনে আামাদের জাতীয় নির্বাচন। সুতরাং এসব বিষয় নিয়ে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আছে। আসামি সুব্রত বাইনের মত সন্ত্রাসীর মেয়ে। এছাড়াও এ মামলায় তার কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। এজন্য তাকে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের প্রার্থনা করছি।”
বিথীর পক্ষে অ্যাডভোকেট লুৎফা বেগম পারুল রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
তিনি বলেন, “আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তারপরও আবারও রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। পুনরায় রিমান্ড চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তার বাচ্চা আছে। তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন চাচ্ছি।"
এরপর আদালতের কাছে কথা বলার অনুমতি চান বিথী।
অনুমতি দিলে বীথি বলেন, “মামলার বিষয়ে কোনো কিছুই আমি জানিনা। আমার বাচ্চা আছে। আমার বাবা অপরাধী হতে পারে। তার জন্য তো আমি দায়ী না, আমার উপর জুলুম করা হচ্ছে। আমার মেয়ে বাচ্চা আছে। তাকে এখন প্রতিবেশীরা লালন পালন করছে। আমার বাচ্চা কেন মানুষের কাছে থাকবে?
“আমি জব করি। কাজ করে খাই। আমি তো কোনো অন্যায় করি নাই। আমার বাবা তো আইনি হেফাজতে আছে। তাকে তো আমি দেখতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমাকে কেন গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে পাঠানো হচ্ছে? "
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানার নয়াটোলা মোড়ল গলির ‘দি ঝিল ক্যাফে’র সামনে যুবদল নেতা আরিফ সিকদারকে গুলি করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ এপ্রিল তিনি মারা যান।
আরিফ সিকদার ঢাকা মহানগর উত্তরের যুবদলের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে একসময় সহ-ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। তার ওপর হামলার পর বোন রিমা আক্তার বাদী হয়ে সুব্রত বাইনের সহযোগী মাহফুজুর রহমান বিপুসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে আরিফ মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। এ মামলায় সুব্রত বাইনকে গ্রেপ্তারের পর হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।