Published : 07 Feb 2026, 08:27 PM
শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ‘সহযোগী’ মেহেদী হাসান দীপু ওরফে বিপুকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন শনিবার রিমান্ডের আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই কামাল হোসেন রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার মধ্যবাড্ডা বেপারীপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে বিপুকে আটক করেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। তার কাছে ১১টি বিদেশি পিস্তল ও গুলি পাওয়ার কথা জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আটকের পর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে বাড্ডা থানায় মামলা করেন এসআই মো. হাসানুর রহমান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই সুমন মিয়া শনিবার আসামিকে আদালতে তুলে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, বিপুসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় দীর্ঘদিন গোপনে বাড্ডা-ভাটারা এলাকাসহ মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল। আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত আছে।
“অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উল্টা-পাল্টা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে বিপু। আসামি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির। মামলাটি তদন্তাধীন। জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
আবেদনে আরও বলা হয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণ কিংবা অন্য কোথাও বিক্রয় করেছে কিনা, আগ্নেয়াস্ত্র কোন কোন সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রয় করেছে, কোন কোন সন্ত্রাসীদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের অস্ত্রগুলো হেফাজতে রেখেছে, কোনো বড় ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সংঘটন এবং কাউকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজ হেফাজতে রেখেছে কিনা, মামলার অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করার জন্য তার সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
আদালতে বিপুর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
বিপুকে মামলায় সুব্রত বাইনের ‘সহযোগী’ বলা হলেও তাকে আসামি করা হয়নি।
প্রায় নয় মাস ধরে কারাগারে আছেন সুব্রত, যিনি ২৩ বছর আগে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
গত বছরের মে মাসে সুব্রত ও মোল্লা মাসুদকে পাঁচটি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন, ৫৩ রাউন্ড গুলি ও একটি স্যাটেলাইট ফোনসহ গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী।
মূলত ২০১২ সাল থেকে ভারতের কারাগারে ছিলেন সুব্রত। ভারতের কারাগার থেকে ৭৭ ফুট সুড়ঙ্গ করে পালিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন পরেই আবার ধরা পড়েন তিনি।
২০২২ সালে তাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তখন থেকে সুব্রত বাংলাদেশে ‘আয়নাঘর’ বলে পরিচিতি পাওয়া গোপন কোনো কারাগারে ছিলেন।
৫ অগাস্টের পট পরিবর্তনের পর আয়নাঘর থেকে তার মুক্তি মেলে। নয় মাসের মাথায় সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন সুব্রত।
গত ডিসেম্বরে বাবার সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন সুব্রতর মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথী।