Published : 30 Jun 2025, 09:16 PM
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস টেলিফোনে আলাপ করেছেন, যাতে উভয় দেশের দারুণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতিফলন থাকার কথা বলেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তারা ১৫ মিনিট ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়।
এতে বলা হয়, তাদের আলোচনা ছিল আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক, যা দুই দেশের মধ্যের দারুণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতিফলন।
টেলিফোনে দুই নেতার মধ্যে সংলাপের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, তাদের টেলিফোন কথোপকথনে উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (ইন্দো-প্যাসিফিক) অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুর্নব্যক্ত করেন।
এ ফোনালাপের বিষয়ে পরে রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্রে রূপান্তর প্রক্রিয়া সরাসরি দেখতে পারেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধান উপদেষ্টা। বলেন, "এটি আমাদের তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে।"
বিজ্ঞপ্তিতে টেলিফোন আলাপের কথা তুলে ধরে বলা হয়, তারা স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রয়োজনীয়তা এবং বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের মত ভূ-রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
তারা আলোচনাকালে উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য আলোচনা, চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া, গণতন্ত্রে রূপান্তর, আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তার বিষয়ে কথা বলেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
এতে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচি এবং আগামী বছরের প্রথম দিকে নির্বাচন আয়োজনের পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রধান গন্তব্য ও রেমিটেন্সের প্রধান উৎস হিসেবে তুলে ধরে উভয় নেতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে মার্কিন সম্পূরক শুল্ক আরোপের পর এ নিয়ে আলোচনা শেষ করার আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, ফোনকলে মুহাম্মদ ইউনূস মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন উপ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা দ্বিপক্ষীয সম্পর্ক জোরদারে প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছেন। প্রধান উপদেষ্টা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের উপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করায় ধন্যবাদ দেন। বলেন, ট্রাম্পের শুল্ক নিযে সমঝোতায় পৌঁছাতে একটি প্যাকেজ নিয়ে বাংলাদেশে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছে।
রুবিও এর সঙ্গে ফোনালাপে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চেয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। ইউনূস বলেছেন, আগামী বছরের শুরুর দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার আসবে। আগের সরকারের ‘ধ্বংস করা’ নির্বাচনি ব্যবস্থা পুনর্গঠনে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কঠোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তরুণরা জীবনে প্রথমবারের মত ভোট দেবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গাদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন ভালো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা সম্পূরক শুল্কের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা চূড়ান্ত করতে গত শনিবার আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা বলেছিল প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্যও দেয় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। সেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি।
সেই আলোচনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের খবর দিল প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।