Published : 17 Nov 2025, 05:00 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারা প্রাণদণ্ড ঘোষণার পর টিএসসিতে উল্লাসে ফেটে পড়ে সেখানে উপস্থিত মানুষ।
সোমবার রায় ঘোষণার পর বেলা ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে মিষ্টি বিতরণসহ আনন্দ মিছিল করতে দেখা যায়।
সেখানে ‘রশি লাগলে রশি নে, হাসিনারে ফাঁসি দে’, ‘কুন্তি-কুদাল-বেলচা নে, হাসিনারে খবর দে’, ‘এ মুহুর্তে খবর এলো, হাসিনার ফাঁসি হল’সহ নানা ধরনের স্লোগান ধরেন অনেকে।
টিএসসিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, “আজকের যে রায় হয়েছে তা দুই হাজার শহীদ ভাইয়ের রক্তের বুদবুদ থেকে এসেছে। আজকে রায় পেয়েছি কিন্তু শুধু রায়েই সন্তুষ্ট নই। যতদিন পর্যন্ত না খুনি হাসিনাকে বাংলাদেশে এসে ফাঁসি দেওয়া না হবে ততদিন পর্যন্ত সবাইকৈ রাজপথে থাকতে হবে।”
মুহসীন হলের ভিপি সাদিক শিকদার বলেন, “আজকে এমন সময়ে উপণীত হয়েছি যার জন্য বহুল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অপেক্ষা করেছিলাম। যারা জুলাই অভ্যুত্থানে আহত, শহীদ হয়েছে তাদের পরিবারের আজকে খুশির দিন। আজকের এই রায় বিচার বিভাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

এরপর টিএসসির মেট্রোরেল স্টেশন থেকে আনন্দ মিছিল বের করেন তারা।
পরে মিছিলটি ভিসি চত্বর থেকে ব্যবসায় অনুষদ হয়ে ডাকসু ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে এক রিকশাচালক লতিফ মিয়া বলেন, “আমাদের হাসিনা অনেক কষ্ট দিছে। আমরা আজকে রায় ফেলাম। এটা হাসিনা যে মানুষ মারছে তার ফল। এবার হাসিনারে ফাসি দেয়ার পালা।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে সোমবার শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ।
সেখানে শেখ হাসিনা ছাড়াও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। তিনিও তার নেত্রীর মত ভারতে পালিয়ে আছেন।
এ মামলার তিন আসামির মধ্যে সেই সময়ের আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন। সেজন্য ট্রাইব্যুনাল তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়ছে ট্রাইব্যুনাল।