Published : 11 Jul 2026, 10:41 PM
দেশের পাঁচটি নদীর পানি এখনো ছয় জেলার সাতটি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে থাকার তথ্য দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এসব নদীর পানি কোনো কোনো পয়েন্টে কিছুটা কমলেও অন্যান্য স্থানে বেড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
পানি বাড়ায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি নেত্রকোণা জেলাও বন্যার কবলে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্র করে।
সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়ে সাঙ্গু নদীর পানি। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় সাঙ্গুর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে এই পয়েন্টে বিকাল ৩টার তুলনায় পানি ১১ সেন্টিমিটার কমেছে।
বান্দরবানের লামা পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর পানি সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, যা বিকাল ৩টার চেয়ে ১৫ সেন্টিমিটার।
তবে চট্টগ্রামে সাঙ্গু নদীর পানি দোহাজারী পয়েন্টে আরো বেড়ে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বিকাল ৩টায় পানির উচ্চতা ছিল ৪ সেন্টিমিটার কম।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ১ সেন্টিমিটার বেড়ে সন্ধ্যায় ৬টায় বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি অপরিবর্তিত থাকলেও তা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি ৩ ঘণ্টায় ১১ সেন্টিমিটার কমলেও সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপরে ছিল। তবে এ অঞ্চলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে সোমেশ্বরী নদী।
৩ ঘণ্টায় ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় কলমাকান্দা পয়েন্টে নদীটি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুরমা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংস নদী অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে।
উত্তরাঞ্চলীয় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদী অববাহিকার নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি ইত্যাদি নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধীর গতিতে কমতে পারে। এতে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ধীর গতিতে উন্নতি হতে পারে।
“মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, ধলাই, খোয়াই ইত্যাদি নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধীর গতিতে কমতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ধীর গতিতে উন্নতি হতে পারে।”
মৌসুমী বায়ু ও নিম্নচাপের প্রভাবে গেল রোববার থেকে টানা বৃষ্টি ঝড়ছে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। এই বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যার কবলে পড়েছে দেশের আটটি জেলা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।