গ্রামীণ টেলিকম: আত্মসাৎ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দিতে আরও সময়

বৃহস্পতিবার এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ থাকলেও পুলিশ তা দিতে পারেননি।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Sept 2022, 10:25 AM
Updated : 15 Sept 2022, 10:25 AM

গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় প্রতিবেদন দিতে আরও একমাস সময় পেল পুলিশ।

 বৃহস্পতিবার এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ থাকলেও তদন্ত কর্মকতা তা দিতে পারেননি। সে কারণে ঢাকার মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ২০ অক্টোবর নতুন তারিখ রেখেছেন।

 আদালতের পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এস আই জালাল উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

 গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান (৩৭) এবং সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসানকে (৪২) গত ৫ জুলাই গ্রেপ্তার করার কথা জানায় গোয়েন্দা পুলিশ।

 মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ টেলিকমের প্রায় দুইশ শ্রমিক-কর্মচারী তাদের কোম্পানির লভ্যাংশ হিসেবে পাওনা ৪৩৭ কোটি টাকা আদায়ে আদালতে ১১০টি মামলা করেছিলেন।

কর্মীদের দাবি মেনে পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিলে সব মামলা প্রত্যাহার করা হয় বলে পরে জানিয়েছিলেন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের আইনজীবী ইউসুফ আলী।

কিন্তু ওই ১১০টি মামলা প্রত্যাহারের ঘটনায় ‘বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের’ অভিযোগ এনে মিরপুর থানায় গত ১ অগাস্ট মামলা করেন ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান।

সেই মামলায় গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে গত ৫ জুলাই রাজধানীর সেগুনবাগিচার আকরাম টাওয়ারের পাশ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা আদালতে ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দেন। 

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ গত ৬ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রামীণ টেলিকম এবং গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের মধ্যে যে চুক্তি হয়, সে অনুযায়ী চলতি বছরের ১০ মে ঢাকা ব্যাংক গুলশান শাখায় একটি সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। ২০১০ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রতি বছর কোম্পানির মোট লভ্যাংশের ৫ শতাংশ টাকা হারে কোম্পানি থেকে এই অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৩৭ কোটি টাকা জমা হয়।

“পরে এই টাকা ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি মাইনুল হাসানের যোগসাজশে অন্য দুটি ব্যাংকে স্থানান্তর করে ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ইউনিয়নের নিয়োজিত আইনজীবী অযৌক্তিক ও অতিরঞ্জিতভাবে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ফি-পারিতোষিক হাতিয়ে নেয়।”

গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মাইনুল ইসলামকেও এ মামলয় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

Also Read: গ্রামীণ টেলিকম: ইউনিয়নের গ্রেপ্তার দুই নেতা রিমান্ডে

Also Read: গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের আরেক নেতা গ্রেপ্তার

Also Read: গ্রামীণ টেলিকম: পাওনা পরিশোধের যৌথ প্রতিবেদন চেয়েছে হাই কোর্ট

Also Read: গ্রামীণ টেলিকম: আইনজীবীর কাছে ২৬ কোটি টাকার হিসাব চেয়েছে হাই কোর্ট

Also Read: গ্রামীণ টেলিকম পর্ষদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধানে দুদক

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক