Published : 27 Aug 2025, 06:31 PM
ঢাকার গুলশানে চাঁদাবাজির ঘটনায় হাতেনাতে গ্রেপ্তার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বহিষ্কৃত চার নেতাকে আরেক সাবেক এমপির কার্যালয়ে চাঁদাবাজির মামলায় রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
তেজগাঁওয়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের কার্যালয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে ৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলায় বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ্ ফারজানা হক তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে যাওয়া চারজন হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদ, ঢাকা মহানগর শাখার সাবেক আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম হোসেন এবং সাবেক সদস্য সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব।
রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন। রিয়াদের পক্ষে ছিলেন আক্তার হোসেন ভূঁইয়া, ইব্রাহিম হোসেনের পক্ষে দাঁড়ান আব্দুল্লাহ আল ফারুক। অপর দুই আসামির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন না।
প্রসিকিউটর শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছে।
২৬ জুলাই সমন্বয়ক পরিচয়ে গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন এই চারজন। এর বাইরে সেদিন অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ৩০ জুলাই রিয়াদের কলাবাগের বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চারটি চেক জব্দ করার তথ্য দেয় পুলিশ।
গুলশানে চাঁদাবাজির ঘটনায় ৩১ জুলাই রাতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ ১ অগাস্ট তার শ্যালক সাইফুল ইসলাম তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।
সে মামলায় ৯ অগাস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বহিষ্কৃত চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২০ অগাস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার ইন্সপেক্টর নাজমুল জান্নাত শাহ তাদের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন বুধবার ধার্য করেন।
এদিন শুনানিকালে রিয়াদসহ সেই চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলায় বলা হয়েছে, আবুল কালাম আজাদের একটি গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২৬ জুন বিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘আহ্বায়ক’ পরিচয় দিয়ে রিয়াদসহ অপর আসামিরা তেজগাঁও থানা এলাকায় তার কার্যালয়ে গিয়ে ‘খুন জখমের’ হুমকি দিয়ে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন।
আবুল কালাম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শেখ হাসিনার ‘দোসর’ আখ্যায়িত করে সেনাবাহিনী দিয়ে গ্রেপ্তার এবং মব সৃষ্টি করে রাস্তায় নামিয়ে বেইজ্জতির হুমকি দেন তারা।
তারপর এই আসামিরা ‘মব’ সৃষ্টি করে সাবেক এই এমপি কার্যালয়ের ড্রয়ার খুলে ১১টি চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেন, সেসব চেকে লেখা টাকার পরিমাণ ৫ কোটি টাকা। এরপর রিয়াদ তাকে ফোন করে হুমকি দিয়ে ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা করতে বলেন। না হলে, পুলিশ নিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
পুরনো খবর:
গুলশানে চাঁদাবাজি: রিয়াদের দোষ স্বীকার, ৪ আসামি কারাগারে
'চাঁদার' ৩ লাখ টাকা উদ্ধার, রিয়াদ-অপু গড়ে তুলেছিল 'সিন্ডিকেট': পুলিশ
চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার সেই রিয়াদের বাসা থেকে সোয়া ২ কোটি টাকার চেক জব্দ