Published : 31 Jul 2025, 11:45 PM
গুলশানে চাঁদা আনতে গিয়ে আটক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদের বাসা থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ বলছে, এই অর্থ সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসা থেকে ‘চাঁদা নেওয়া’ ১০ লাখ টাকার একটি অংশ।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত নেতা রিয়াদের বাসার একটি কক্ষ থেকে টাকাগুলো উদ্ধারের কথা বলেন গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, “বুধবার রাতে রিমাণ্ডের সময় সে স্বীকার করে বাড্ডাতে তার একটি ভাড়া করা বাসা রয়েছে। এরপর ভোরে সেখানে গিয়ে ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উদ্ধার হয়।”
রিয়াদের সঙ্গে নাম আসা অপু গুলশান থানার মামলার দুই নম্বর আসামি বর্তমানে পলাতক।
গুলশান থানার ওসি বলেন, তারা এদিন রিয়াদের বাড্ডার বাসার খোঁজ পান। পুলিশের হাতে গত শনিবার গ্রেপ্তারের আগে বাড্ডার তিন কক্ষের ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষেও থাকতেন রিয়াদ। অন্যান্য রুমে ৪/৫ জন করে থাকেন।
রিয়াদের রুমটি ‘আধুনিক জিনিসপত্র’ দিয়ে সাজানো, যোগ করেন তিনি।
এর আগে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান রিয়াদের আরেকটি বাসা থেকে সোয়া দুই কোটি টাকার চারটি চেক উদ্ধারের তথ্য দেন। এই চেকগুলো ‘ট্রেড জোন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া।
প্রাপকের নাম ও তারিখবিহীন এই চেকগুলোর দুইটি এক কোটি করে এবং একটি ১০ লাখ ও অপরটি ১৫ লাখ টাকার চেক।
এই বাসাটি পশ্চিম রাজাবাজার এলাকার এবং ট্রেড জোন অফিসটি কলাবাগান এলাকায়।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময়কার কথা তুলে ধরে গুলশান থানার ওসি হাফিজুর বলেন, “রিয়াদ যেসব দামি পোশাক পরতো এ ধরনের পোশাক তার আগের বাসায় পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসার এক পর্যায়ে সে বাড্ডার এ বাসার কথা স্বীকার করে।”
জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তিনি বলেন, সাবেক সংসদের বাসা থেকে তারা যে ১০ লাখ টাকা ‘চাঁদা নিয়েছিল’ তার মধ্যে ৫ লাখ টাকা ভাগে পেয়েছিল রিয়াদ। এ কাজে তার মূল অংশীদার কাজী গৌরব অপুসহ অন্যরা বাকি টাকা নেয়।
“আমরা চাঁদার ১০ লাখ টাকার মধ্যে ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উদ্ধার দেখাব।”
সাত দিনের রিমান্ডের চার দিন শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার। রিয়াদ ও রিমান্ডে থাকা অন্যদের কাছ থেকে আরও তথ্য বের করার চেষ্টার কথা তুলে ধরে ওসি হাফিজুর বলেন, রিয়াদের সাউথইস্ট ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। এটির লেনদেনের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রিয়াদ ও অপু মিলে একটি গ্রুপ করে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করত। তারা জমি দখলের পাশাপাশি মব সন্ত্রাসের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করত। এটাই তাদের ‘পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছিল’।
চেক উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়নি
পুলিশ বলছে, ট্রেড জোন রংপুরের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এই অফিসে গিয়ে রিয়াদ ভয়ভীতি দেখিয়ে চেকগুলো নিয়ে আসে।
তবে পুলিশ জানতে পেরেছে ‘ট্রেড জোন’ থেকে চারটি নয় মোট পাঁচ কোটি টাকার ১১টি চেক নিয়ে আসে। কিন্তু ব্যাংকে যথেষ্ঠ টাকা না থাকায় তারা চেকগুলো ক্যাশ করতে পারেনি।
উপ কমিশনার তালেবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, চেকের ঘটনায় কলাবাগান থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে একদিন অতিবাহিত হলেও এই মামলা হয়নি।
এ ব্যাপারে কলাবাগান থানা ওসি ফাজলে আশিক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুধু শুনছি, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে চেকের ঘটনায় কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেননি।”
এ ব্যাপারে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং তার প্রতিষ্ঠানের ব্যব্স্থাপক সাইফুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি। বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
গত শনিবার সন্ধ্যার পর গুলশান ২ নম্বরে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের বাসায় চাঁদা নিতে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ (২৫), মো. সাকাদাউন সিয়াম (২২), সাদমান সাদার (২১) ও মো. ইব্রাহিম হোসেন (২৪)। এদের মধ্যে একজন শিশু। পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
এ ঘটনার পর সাংগঠনিক নীতিমালা ও শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম ও সাদাবকে সাংগঠনিক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
পাশপাশি কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সারা দেশের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার সেই রিয়াদের বাসা থেকে সোয়া ২ কোটি টাকার চেক জব্দ
এত কম বয়স, কেন কোটি কোটি টাকা দরকার: গুলশানে গ্রেপ্তারদের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ