Published : 15 Jan 2026, 08:19 PM
নতুন শক্তির কথা বলে একটি ‘ক্ষুদ্র’ ও ‘উগ্র গোষ্ঠীর’ কাছে অনেকক্ষেত্রেই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ‘জিম্মি’ হয়ে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
এমন বাস্তবতায় এ সরকার ‘নিরপেক্ষভাবে’ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবেন কি না সেই প্রশ্ন ওঠার কথা বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘আগামী সরকারের জন্য নির্বাচিত নীতি সুপারিশ ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি’ শীর্ষক সংবাদ বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এসডিজি বাস্তবায়নে গঠিত নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ এ বিফ্রিংয়ের আয়োজন করে। দেবপ্রিয় এ প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক; যিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা জানতে গঠিত অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ছিলেন।
চব্বিশের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে বিফ্রিংয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “এই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের কথা বলল এই সংস্কারকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে যে সক্ষমতা, যে অংশীজনের অংশগ্রহণ দরকার পড়ে, যে উন্মুক্ততা দরকার পড়ে; সেটা ওনারা দেখাতে পারলেন না।
“সেহেতু শেষ পর্যন্ত ওনারা নতুন শক্তির কথা বলে শেষ বিচারে যেয়ে একটি ক্ষুদ্র এবং উগ্র গোষ্ঠীর কাছে অনেক ক্ষেত্রে জিম্মি হয়ে গেলেন। সেই জন্য উনারা (কার্যকর) আচরণও করতে পারলেন না। উনারা নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে পারলেন না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ওনারা কী নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনটাও করতে পারবেন কি না ঠিকমত সেই প্রশ্ন এসেছে।”
একই সঙ্গে পুরনো বন্দোবস্ত না ভাঙার পেছনে আমলাতন্ত্রকে দায়ী করে এর দায়ও দেন বর্তমান সরকারকে।
তার ভাষ্য, “যখন নতুন বন্দোবস্তর কথা বলা হল, আমার কাছে পরিতাপের বিষয় যারা এটা বললেন তারা এতখানি উপরি কাঠামোর ওপর নজর দিলেন এবং এই সনদ (জুলাই সনদ) তার একটা অভিপ্রকাশ। সেইটার সাথে উনারা জনমানুষকে জমায়েত করার ক্ষেত্রে কিন্তু সেইভাবে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে মনোযোগ দিলেন না। ওটার সাথে অন্য অংশীজনদের কিন্তু উনারা যুক্ত করলেন না।
“ওনারা যে সংলাপ করলেন জাতীয় সংলাপ, শুধুমাত্র রাজনীতিবিদদের নিয়ে এবং একটা অংশকে হয়তো এটার সাথে জড়িত থেকে ওনারা করেছেন। অর্থাৎ একটা জাতীয় উত্থান, জাতীয় জাগরণ, জাতীয় অংশগ্রহণের ভেতরে অংশীজনদের নিয়ে এই নতুন বন্দোবস্তের চিন্তাকে সামনে উপস্থিত করা; সেটা করলেন না। এবং এইটা একটা বড় সমস্যা হল।”
এতে করে কী হল তা তুলে ধরতে গিয়ে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো বলেন, “এই বড় সমস্যাতে দুটো ফলাফল হল। একটা ফলাফল হল- যারা নতুন বন্দোবস্তর যারা কারিগর হতে চেয়েছিলেন তারা পুরোনো বন্দোবস্তর অংশ হয়ে গেলেন। তারা নির্বাচনি প্রক্রিয়ার ভেতরে ঢুকে গেলেন। ওই ব্যয়বহুল নির্বাচনের অংশ হয়ে গেলেন। বড়জোর ওনারা ক্রাউড ফান্ডিং করে হয়তো টাকা তুললেন কিন্তু টাকার খরচ কমানোর ক্ষেত্রে কিন্তু আর পারা গেল না। সেহেতু ওনারা ওই পুরোনো বন্দোবস্তর অংশগ্রহণ করেই ওনারা মনে করলেন আগামী দিন হয়তো কিছুটা আগানো যাবে।
“আর কি হল? এই সুযোগে যে কায়েমী স্বার্থগুলো ছিল, যারা পুরোনো বন্দোবস্তের ধারক-বাহক ছিল তাদের কিন্তু আবার উত্থান হল। ওই যে বলছেন ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেল, রাজনীতিবিদরা আত্মগোপন করল আর ‘আমলারা ফিরে আসল’। কারণ এই পুরোনো বন্দোবস্তের ‘সবচেয়ে বড় রক্ষক’ হল ওই আমলাতন্ত্র। ওই আমলাতন্ত্র তখন আবার ফিরে আসল। আর শেষ কথা আমার হল- এই আমলাতন্ত্রকে ফিরে আসার সবচেয়ে বড় সুযোগ করে দিল বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।”
অনুষ্ঠানে আগামী সরকারের জন্য ১২টি নীতি বিবৃতি ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়।
সুপারিশগুলো তুলে ধরেন সিপিডির আরেক সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান।
এতে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপের সদস্য সুলতানা কামাল, আসিফ ইব্রাহিম, রাশেদা কে চৌধুরী, শাহীন আনাম।