Published : 22 May 2026, 08:14 PM
রক্তমাখা কাফনে মোড়া প্রতীকী শবদেহ, পাশে রাখা নিহত শিশুর ছবি আর স্কুল ব্যাগ; তাতে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়েছেন আয়োজক ও দর্শনার্থীরা আর জানিয়েছেন ফুলেল শ্রদ্ধা।
শুক্রবার জাতীয় সংসদে দক্ষিণ পাশে মানিক এভিনিউয়ের রাস্তায় এমন প্রতীকী উপস্থাপনা আর চিত্র প্রদর্শনীতে স্মরণ করা হয়েছে ইরানের মিনাব শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত ১৬৮ জন শিশুকে।
‘বাংলাদেশের সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ’ নামের সংগঠনের ব্যানারে এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে যোগ দেন ঢাকায় ইরান দূতাবাসের কর্মকর্তারাও।
‘শিশুদের রক্তে রঞ্জিত মিনাব’ শিরোনামে ওই আয়োজনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতবিক্ষত শ্রেণিকক্ষ, গণকবরে শতাধিক শিশুর দাফন এবং পবিরারের আহাজারির চিত্র স্থান পায়।
সাদা কাপড়ে রক্তরঙ্গা হাতের ছাপে ইরানি শিশুদের উপর চালানো নৃশংস হামলাকে স্মরণ করেন দর্শনার্থীরা; আর কাপড়ের ক্যানভাসে লেখেন প্রতিবাদের ভাষা।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালসহ বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরের ওই স্কুলে হামলাটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।
যুদ্ধ শুরুর প্রথমদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার হয়েছিল বলে উঠে এসেছে গণমাধ্যমে, ক্লাস চলাবস্থায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের শিক্ষক আর স্কুলে কর্মীরাও পড়েন ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিশানায় বেসামরিক মানুষ পড়ার দৃষ্টান্ত হিসেবে মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবা স্কুলের ওই ঘটনাকে বড় করে দেখাতে চাইছে ইরান সরকার।
যে উড়োজাহাজে চড়ে এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য পাকিস্তানের ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন ইরানের প্রতিনিধিরা, সেই ফ্লাইটের নাম দেওয়া হয়েছিল ’মিনাব১৬৮’।
স্কুলটিতে হামলা নিয়ে সমালোচনা আর প্রশ্নের মুখে পড়েন ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা; ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করার কথা বললেও দায় নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে আসছেন তারা।
কোমলমতি শিশুদের ওপর ‘হৃদয়বিদারক ও অমানবিক’ হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানাতে এই আয়োজন করার কথা বলেছেন ‘বাংলাদেশের সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ’-এর মুখপাত্র শাহ মো. আলী আব্বাস।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভয়ঙ্কর হামলাটি হয়েছিল এমন একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেখানে বড়রা নয়, প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুরা ছিল। ক্লাস চলাকালীন অবস্থাতে এই হামলা হয়েছে, শহীদ হয়েছে ১৬৮ জন, যার প্রায় সবাই শিশু।
“এমন হতবাক করা হামলা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে, যা কোনোভাবে কাম্য নয়। আমরা সে কথাই এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বলে আসছি।”
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “হামলা নিয়ে বাংলাদেশ যে অবস্থান প্রকাশ করেছে, তা লজ্জাজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন অনেক মানুষ। বাংলাদেশকে অবস্থান স্পষ্ট করার কথা বলেছেন ইরানের রাষ্ট্রদূতও। বাংলাদেশ সরকার শিশুদের ওপর এই নৃশংস হামলার বিষয়ে প্রতিবাদ অন্তত জানাতে পারত।”
প্রদর্শনীতে সংহতি জানান ঢাকায় ইরান দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদীসহ কর্মকর্তারা।