Published : 08 Mar 2026, 10:15 PM
কর্মীদের হাতে গ্রাহক মারধর হওয়ার ঘটনায় আবার আলোচনায় এসেছে ‘স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’।
এবার রেস্তোরাঁটির পুরান ঢাকার জনসন রোডের শাখায় ইফতারের সময় এক গ্রাহককে বেশ কয়েকজন কর্মী মিলে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবারের এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বলছে, খেজুরের দাম নিয়ে বিতণ্ডার জেরে মো. কাওসার হাওলাদার নামে ওই গ্রাহককে মারধর করা হয়।
তবে গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা ভুক্তভোগী কাওসারের তরফে কোনো অভিযোগ না আসায় কোনো ‘ব্যবস্থা না নেওয়ার’ কথা বলেছেন সূত্রাপুর থানার ওসি মো. মতিউর রহমান।
রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ গ্রাহককে মারধরের বিষয়টিকে ‘অনাকাঙ্খিত’ বলেছে।
ওই শাখার ম্যানেজার টিপু সুলতানের দাবি, গ্রাহকদের তরফে গালাগালি ও মারধরের পর স্টাফরা ‘দুয়েকটা জবাব দিয়েছেন’।
এর আগে ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর ‘স্টার কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের’ বনানী শাখায় কাচ্চি বিরিয়ানিতে ‘পচা ও গন্ধযুক্ত’ টিক্কা কাবাব দেওয়ার প্রতিবাদ করায় এক গ্রাহককে মারধরের অভিযোগ ওঠেছিল।
সেদিন রাতে মোহাম্মদ রশীদ অলক নামের ওই গ্রাহক বনানী থানায় মামলা করেন। পরে সেখানকার ম্যানেজারসহ ১১ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
ওই সময় এক হাজার এতিমকে একবেলা খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মামলা থেকে রেহাই পেয়ে স্টার কর্তৃপক্ষ দুঃখপ্রকাশ করে বলেছিল, এমন ঘটনার ‘পুনরাবৃত্তি ঘটবে না’।
এর ১৭ মাসের মাথায় শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর আরেক প্রান্তে পুরান ঢাকা এলাকায় রেস্তোরাঁটির শাখায় গ্রাহককে মারধর করা হল।
এ মারধরের ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রেস্তোরাঁর ভেতরে একজন ক্রেতাকে ধাক্কাধাক্কি করছিলেন কয়েকজন কর্মী। একাধিক কর্মী চেয়ার দিয়ে ওই গ্রাহককে আঘাত করেন। কেউ কেউ চেয়ার নিয়ে তেড়ে যাচ্ছিলেন। কেউ চেয়ার ছুড়ে মারেন এবং গ্রাহককে টানা হেচড়া করে মারধর করছিলেন।
তখন অন্য কয়েকজন ক্রেতা কর্মীদের থামানোর চেষ্টা করলেও তারা চেয়ার নিয়ে বারবার ওই গ্রাহকের দিকেই তেড়ে যাচ্ছিলেন।
পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। তবে তারা নিজেরাই বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলে বলে জানান সূত্রাপুর থানার ওসি মতিউর রহমান।
তিনি বলেন, খেজুরের দাম নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে তারা নিজেরাই বিষয়টি মিটমাট করে এবং কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।
ঘটনার বিষয়ে রেস্তোরাঁটির ওই শাখার ম্যানেজার মো. টিপু সুলতান বলেন, “ওই কাস্টমারসহ একসঙ্গে তারা ছয়জন ছিলেন। তারা ইফতারের একটি প্ল্যাটার অর্ডার করেন, সেখানে প্রতি প্লেটে অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে দুই পিস করে খেজুর দেওয়া হয়েছিল।”
দুই পিস খেজুরের দাম ৩০ টাকা ধরার কারণে ওই গ্রাহক প্রথমে ‘যুক্তি’ দিলে তাকে বোঝানোর চেষ্টা হলেও না মেনে ‘গালাগালি ও কর্মীদের গায়ে হাত তোলেন’ বলে দাবি ম্যানেজারের।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিপিস খেজুর কেনা পড়েছে ১২ টাকার বেশি, সে হিসাবে আমরা ১৫ টাকা করে বিক্রি করছি। কিন্তু ওই গ্রাহক বলছিল সেগুলো ৭-৮ টাকা করে। এ নিয়ে তাকে আমরা বুঝিয়েছি, কিন্তু তিনি কোনভাবেই বুঝতে চাননি।”
তার অভিযোগ, ওই ব্যক্তিই প্রথমে কর্মীদের হায়ে হাত তোলেন।
“মাইর খাইলে সবাই দুয়েকটা জবাব দেয় বোঝেনইতো।”
স্টারের কাচ্চিতে 'বাসি টিক্কা', প্রতিবাদ করায় গ্রাহককে মারধর