Published : 09 Jul 2026, 11:33 PM
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত; এখন বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ভর করবে সংসদের ওপর।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পাশাপাশি সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।
একটি রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওই সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করে হাই কোর্ট।
এ বিষয়ে আপিল শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের রায় বহাল রেখেছে।
এর ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সংবিধানের ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “হাই কোর্ট রায়ে কিছু বিষয় সংসদের বিবেচনার জন্য ছেড়ে দিয়েছিল। সংবিধানের যেসব ক্ষেত্রে আরও পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যেহেতু আপিল বিভাগ হাই কোর্টের রায় বহাল রেখেছে, তাই সরকার বা সংসদ চাইলে হাই কোর্টের রায় ধরেই অগ্রসর হতে পারে।
“তবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হবে এবং সংসদ চাইলে সেই রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারে। এটি সংসদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।”
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আদালতের রায়ে শুধু এ ব্যবস্থা বাতিলের বিধানই বাতিল হয়নি বরং হাই কোর্টের রায়ে এটি পুনর্বহালও করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির পরিবর্তনের আলোকে এ ব্যবস্থার কাঠামো নতুনভাবে নির্ধারণ করার ক্ষমতা সংসদের থাকবে।”
তিনি বলেন, পার্লামেন্ট যদি মনে করে আগের কাঠামোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন, তাহলে সেই ক্ষমতা সংসদের রয়েছে। তবে সংসদের কোনো সিদ্ধান্ত যেন আদালতের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সেটিই ‘প্রত্যাশিত’।
ভবিষ্যতে আবার সংবিধান পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “সংবিধান ও আইনের ব্যাখ্যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয় এবং ভবিষ্যৎকে স্থায়ীভাবে বেঁধে রাখার মত কোনো আইনি ব্যবস্থা কারো হাতে নেই।”
তিনি বলেন, “ক্ষমতায় এসে নিজেদের সুবিধামতো সংবিধান সংশোধন করলে তা চিরস্থায়ী হয় না—ইতিহাস সেটাই দেখিয়েছে। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু করা হলে শেষ পর্যন্ত তার কুফল ভোগ করতেই হয়।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় বিচার বিভাগকে যুক্ত করা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “আমি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে কেবল আইনের বিষয়েই কথা বলতে পারি, রাজনৈতিক বা পক্ষপাতদুষ্ট কোনো মন্তব্য করব না।”
কী ছিল হাই কোর্টের রায়ে
২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাই কোর্ট বেঞ্চ পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে রিট মামলার রায় ঘোষণা করে।
ওই রায়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
পাশাপাশি পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া সংবিধানে গণভোটের বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা বাতিল ঘোষণা করে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়।
আদালত রায়ে বলা হয়, পঞ্চদশ সংশোধনী আইনটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, বরং বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারবে।
২০২৫ সালের ৮ জুলাই প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে হাই কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরে।
সংবিধানের ৭ (ক) অনুচ্ছেদ সম্পর্কে আদালত বলে, অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তির যে বিধান যুক্ত করা হয়েছিল, তা অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং ‘ভিন্নমত দমনের’ একটি হাতিয়ার। এটি নাগরিকদের বাকস্বাধীনতার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে।
৭ (খ) অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি চিরতরে সংশোধন অযোগ্য করার বিষয়টিকে আদালত ‘সংবিধান পরিপন্থি’ বলে সিদ্ধান্ত দেয়, কারণ এটি ভবিষ্যৎ সংসদের ক্ষমতা খর্ব করার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষমতাকেও বাধাগ্রস্ত করে।
এছাড়া ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল করার যুক্তিতে আদালত বলে, হাই কোর্টের ক্ষমতা অন্য কোনো আদালতকে দেওয়ার বিধানটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থি।

‘বাকি দায়িত্ব সংসদের’
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহসানুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালত সম্পূর্ণভাবে তাদের এখতিয়ারের মধ্যে থেকেই এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এটি অত্যন্ত সুষ্ঠু একটি রায় এবং আমার মতে, এটি একটি সুষম রায়।”
রায়ের বিভিন্ন দিককে নীতিগত বা ‘পলিসি ম্যাটার’ হিসেবে বর্ণনা করে আদালত ও সংসদের সাংবিধানিক ভূমিকার পার্থক্যও তুলে ধরেন এ আইনজীবী।
তিনি বলেন, “আইন প্রণয়ন, সংশোধন কিংবা বাতিল করার একচ্ছত্র ক্ষমতা সংসদের। সংসদ কী করবে বা করবে না, সেটি তাদের নিজস্ব এখতিয়ারের বিষয়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনও সংসদের মাধ্যমেই ঘটবে। অন্যদিকে আদালতের দায়িত্ব হল সংসদ প্রণীত আইন সংবিধানসম্মত ও আইনসঙ্গত কি না, তা পর্যালোচনা করা। এখন যদি এসব বিষয়ে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটি সংসদকেই করতে হবে।”
পঞ্চদশ সংশোধনী মামলায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রায়ের আইনি দিকগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, হাই কোর্ট যে চারটি বিষয় অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল, তা আপিল বিভাগেও বহাল থাকল।
“যার মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ৭-এর ক ও ৭-এর খ বাতিল, গণভোট পুনঃপ্রবর্তন, নিম্ন আদালতকে রিটের ক্ষমতা দেওয়ার বিধান বাতিল এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা।
“এছাড়া যেগুলো রাষ্ট্রের পলিসি, রাষ্ট্রের নীতি, যেমন সংবিধানের প্রস্তাবনা, আর্টিকেল ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ২৫ সহ যেগুলো নীতিকথা, এই নীতির বিষয়গুলো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পরিপূর্ণভাবে সংসদের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “নতুন জেনারেশন আসবে, আন্ডারস্ট্যান্ডিং হবে, এডুকেশন হবে। এইজন্য সংবিধানকে বলা হয় একটা লিভিং ডকুমেন্ট। এটি সময়, যুগ জিজ্ঞাসার পরিবর্তনের সাথে এখানে পরিবর্তন আনতে হয়।”
সুজনের সম্পাদক ও রিটকারী বদিউল আলম মজুমদার দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “আমরা বহু চড়াই-উতরাই পার করে আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে উপনীত হয়েছি। ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ের অপব্যাখ্যার মাধ্যমেই মূলত দেশে দলীয় সরকারের অধীনে একতরফা নির্বাচন ও রাতে ভোট আয়োজনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল। এই রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসায় রাতের ভোট রাতে হওয়ার সম্ভাবনাটা অতি ক্ষীণ।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামোতে বিচার বিভাগকে জড়ানোর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “আর কেউ চায় না যে প্রধান বিচারপতি বা সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মত ব্যক্তিরা কোনোভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকুক। অন্তত আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা চাই না। আমি আশা করি যে বর্তমান সংসদ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।”
রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর সমালোচনা করে বলেন, “৭ এর খ এর মাধ্যমে সংবিধানকে জনগণের প্রয়োজনে সংশোধন করার অধিকারকে ধ্বংস করে দেওয়া হয় এবং পুরো সংশোধনটাই ছিল জনবিরোধী একটা সংশোধনী।”
তবে রায়ে কিছু কারিগরি ও সাংবিধানিক জটিলতা রয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “হাই কোর্টের রায়ে সবগুলো বিধান বাতিল হয়নি। কিছু কিছু বিধান আরো বাতিল করা প্রয়োজন ছিল, যেমন উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টার শপথ নেওয়া সংক্রান্ত বিধান সংবিধানে ফিরে আসেনি।”
সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সময়ের অসামঞ্জস্যতা নিয়ে তিনি বলেন, “এই জিনিসটা সুরাহা এখন সংসদের করতে হবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় দেখলে এ ব্যাপারে আরও নিশ্চিতভাবে এবং সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে।”
আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার কবির পুরো সংশোধনী বাতিলের বিরোধিতা করার কারণ তুলে ধরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই যে জাতির পিতা, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, এগুলো সব হচ্ছে পলিটিক্যাল ডিসিশন। এই পলিটিক্যাল ডিসিশন যদি কোর্ট বলে দেয় যে এটা ঠিক না ওটা ঠিক না, এটা নিয়ে পরে কোর্টের উপর মানুষের আস্থা কমে যাবে।”
তিনি বলেন, “এই সংশোধনী আনা হয়েছিল একটা জাজমেন্ট ঘিরে। এটা এইভাবে বলা যায় যে, বাকশাল কায়েমের একটা অপচেষ্টা করছিলেন এই সংশোধনীর মাধ্যমে। পুরো আইন বাতিল করলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকত না এবং ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার বৈধতা তৈরি হত।”
ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে চূড়ান্তভাবে সংবিধানে অনুসমর্থন দিতে হবে।
“সে কারণে অষ্টাদশ সংশোধনী এখন অনিবার্য। বর্তমানে সংসদ বিদ্যমান থাকায় সরকারি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে আলোচনার মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করে অষ্টাদশ সংশোধনীর সময় প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরিবর্তনও একসঙ্গে আনতে পারবে।"
রায়ের সামগ্রিক সাংবিধানিক ও আর্থ-সামাজিক প্রভাব নিয়ে জাহেদ ইকবাল বলেন, "এই রায়ের ফলে দেশের শাসন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হবে। এখন থেকে জাতীয় নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি আবার কার্যকর থাকবে।
“পাশাপাশি সংবিধানের ৭ বা ১৪২ অনুচ্ছেদের মত মৌলিক বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যথেষ্ট হবে না। জনগণের মতামত জানতে গণভোটও প্রয়োজন হবে। এই বিধান আবার ফিরে এসেছে। এর মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থা ও সাংবিধানিক অভিযাত্রায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।"
রিট আবেদনকারী একপক্ষের আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা উৎখাতের কথা তুলে ধরে বলেন, “সংবিধানের ৭এ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে তথাকথিত 'সাংবিধানিক রাষ্ট্রদ্রোহ' অপরাধ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এছাড়া নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির বিধানকেও আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে নির্বাচিত সরকারগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম হবে।”