১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিডিআর হত্যা তদন্তে নাম আসায় আইজিপির পদত্যাগ দাবি পিন্টু সংসদের

“প্রতিবেদনে বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের নাম দেখে আমরা হতবাক,” বলেন পিন্টু সংসদের রফিক আহমেদ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Dec 2025, 08:00 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:16 PM

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের নাম আসার পর তার পদে বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ‘শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ’।

ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শনিবার এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন সেলিম বলেন, “তখনকার এসবি প্রধান ছিলেন বাহারুল আলম। বিডিআর ঘটনায় তার দায় কতটুকু সেটা স্বাধীন তদন্ত কমিশন বের করেছে।”

মানববন্ধনে বক্তব্যের পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “তদন্তে নাম আসার পর বাহারুল আলম গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন না। তার পদত্যাগ করা উচিত ছিল।”

শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদের সভাপতি রফিক আহমেদ ডলার মানববন্ধনে বলেন, “স্বাধীন তদন্ত কমিশন বিএনপি–জামায়াত বা এনসিপি গঠন করেনি। অন্তবর্তী সরকারের গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনে সাবেক এসবিপ্রধান ও বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের নাম দেখে আমরা হতবাক।

“নতুন বাংলাদেশের পুলিশপ্রধান হিসেবে তার নাম আসা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।”

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে রক্তাক্ত বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।

ওই সময় পুলিশের বিশেষ শাখার নেতৃত্বে ছিলেন বাহারুল আলম। তিনি বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা।

হত্যাকাণ্ডের দেড় দশক পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে এলে ওই ঘটনা পুনঃতদন্তের দাবি ওঠে। পরে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। সেই কমিশন গত ৩০ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে ‘দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার’ জন্য নাম এসেছে বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের।

শনিবারের মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাহারুল আলমের পদত্যাগ দাবি করেন ‘শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ’ এর নেতারা।

সংগঠনের সভাপতি রফিক আহমেদ ডলার বলেন, “আইজিপিকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া না হলে আমরা সকলে কঠোর আন্দোলনে নামব।”

সাবেক এমপি নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর স্মরণে গঠন করা হয় ‘শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ’। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর নাসির উদ্দিন পিন্টুকে ‘মিথ্যা মামলায়’ জড়ানো হয়েছিল।

সভাপতি আলমগীর বলেন, “আমাদের সাবেক নেতা পিন্টু ভাইকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলায় জড়িয়ে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে। বিডিআর ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার বিচার যেমন চাই, তেমনি পিন্টু ভাইয়ের হত্যার বিচারও চাই।”

মানববন্ধন কর্মসূচিতে শতাধিক ছাত্রদল ও যুবদলের শতাধিক নেতা অংশ নেন।