Published : 24 Mar 2026, 09:14 PM
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কলেজ গেইট এলাকার সাতটি বেসরকারি ক্লিনিক পরিদর্শন করে চারটির বিরুদ্ধে 'ব্যবস্থা' নেওয়ার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার কলেজ গেট এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১-এর সাতটি বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংকে পরিদর্শনে যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার দুটি বিশেষ পরিদর্শন টিম।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, অভিযানে বিভিন্ন ‘অনিয়ম ও অসঙ্গতি’ পাওয়ায় দুটি ক্লিনিক বন্ধ, দুটি ক্লিনিক আংশিক বন্ধ এবং বাকি তিনটিকে সতর্ক করে দেওয়া হয়।
সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশসহ নানা অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় চারটি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শন প্রতিবেদন অনুযায়ী, যমুনা হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২২-২৩ অর্থ বছরেই শেষ হয়ে গেছে। ২০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও সেখানে ১৯টি শয্যা পাওয়া যায় এবং আইসিইউ ও এনআইসিইউতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা প্রয়োজনীয় প্রোটোকল অনুসরণ করা হচ্ছিল না।
হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর হওয়ায় এর ইনডোর ও আইসিইউ সেবা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন ৪ জন রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
টিজি মাল্টি-স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের মেয়াদ ৩ বছর আগেই উত্তীর্ণ হয়েছে। সেখানে কর্তব্যরত কোনো ডাক্তার বা নার্সের নিয়োগপত্র পাওয়া যায়নি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই আইসিইউ ও এনআইসিইউ পরিচালনা করা হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটির সকল ক্লিনিক্যাল কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রাইম অর্থোপেডিক ও জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে রোগীদের ভুল তথ্য দিয়ে আইসিইউতে ভর্তি রেখে ‘অপচিকিৎসার’ মাধ্যমে ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পায় পরিদর্শন টিম।
এছাড়া অপারেশন থিয়েটারের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা, যা রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করছিল। প্রতিষ্ঠানটির আইসিইউ, এনআইসিইউ এবং ওটি কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আর রয়্যাল মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওটি ও ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ তারা অনুমোদিত ১০ শয্যার বিপরীতে ১৮ শয্যার কার্যক্রম পরিচালনা করছিল এবং ওটির অবস্থান ছিল ত্রুটিপূর্ণ।
ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতালেও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং দক্ষ জনবলের অভাব দেখেছে পরিদর্শন দল।
এছাড়া প্রাইম ব্লাড ব্যাংক পরিদর্শনের সময় বন্ধ পাওয়ায় তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেডিয়াম ব্লাড ব্যাংক অ্যান্ড টিসিকে জনবল সংক্রান্ত তথ্যে অসংগতি ও কালার কোডিং না থাকায় শোকজ করার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
পুরনো খবর