Published : 10 Jul 2025, 12:17 PM
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, নির্বাচন কর্মকর্তা আইন সংশোধনসহ আইনি সংস্কারের এক গুচ্ছ সুপারিশ চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আগারগাঁয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসির সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন ইসির অষ্টম কমিশন সভা এটি। সিইসি ছাড়াও চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন বৈঠকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপরিশ বাস্তবায়নে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবও রয়েছে।
ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বৈঠকরে পর এ কমিশন বৈঠকে বসেছে।
সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে- আরপিও (সংশোধন) অধ্যাদেশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর হলফনামা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা এবং বিবিধ বিষয়।

যেসব সংস্কার প্রস্তাব আলোচনায়
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) এক গুচ্ছ সুপারিশ রয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের।
আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্রবাহিনী যুক্ত করা, প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতায় নতুন কিছু প্রস্তাব, বিল-ঋণখেলাপির বিষয়, হলফনামাসহ নানা ধরনের বিষয় রয়েছে।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সার্বিক সুপারিশগুলো গুছিয়ে খসড়া চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েচেন নির্বাচন কর্মকর্তারা।
>>সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ও অনিয়ম করলে দায়ীদের সাজা বাড়ানোর প্রস্তাবসহ নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইনের সংশোধনীর প্রস্তাব রয়েছে।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ গুরুত্ব দিয়ে সংশোধন প্রস্তাব তৈরি করেছে ইসি সচিবালয়। নির্বাচনে আইনি ব্যত্যয় ঘটালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাজার পাঁচ বছর করার যে প্রস্তাব নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন।
>> নির্বাচন কর্মকর্তার সংজ্ঞায় রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিষয়টি স্পষ্ট করা করার প্রস্তাব রয়েছে।
>> নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইনের সংশোধনীতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের পৃথক সার্ভিস কমিশন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
>> জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা কার্যক্রম এ আইনের অন্তর্ভূক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
>> নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অনিয়ম বা অসদাচারণ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তার সাজা এক বছর থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ বছর সাজার প্রস্তাব করেছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন।
>> আর অর্থদণ্ড পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
>> প্রার্থীর হলফনামা পরিমার্জনের সুপারিশের পাশাপাশি তথ্য গোপন করলে ভোটের পরেও যাচাই বাছাই করার বিধান রাখার সুপারিশ রয়েছে সংস্কার কমিশনের; মিথ্যা তথ্য দিলে তার নির্বাচন বাতিলের প্রস্তাব রয়েছে।
সংস্কার: ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর সভা ডেকেছে ইসি
ফেরারি আসামিকে প্রার্থী হতে বাধা নয়, ঐকমত্য কমিশনকে ইসি
আরপিও: আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার প্রস্তাব ইসির
নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ১৫০ সুপারিশ কমিশনের
সংস্কার কমিশনের সুপারিশে আপত্তি জানিয়ে ঐকমত্য কমিশনে ইসির চিঠি
আরপিও-আচরণবিধিতে কী সংস্কার চায় ইসি