Published : 11 Jan 2026, 08:01 PM
‘চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রায় ২৫ কোটি টাকা’ আদায়ের পর তা পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলার বাকি তিন আসামি হলেন- আনিসুলের সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া তৌফিকা করিম, ব্যক্তিগত সহকারী মো. রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবন এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান। মামলার এজাহারে তোফিকা করিমের পরিচয় দেওয়া হয়েছে সাবেক আইনমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে।
রোববার ঢাকার ভাটারা থানায় মামলাটি করার কথা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলেছে সিআইডি।
‘তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে’ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এ মামলা করার তথ্য দিয়েছে পুলিশের এ বিশেষায়িত বিভাগ।
ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানের বরাতে মামলার অভিযোগে সিআইডি বলছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ আদায় করেছে। তারা ‘ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের’ গুলশান শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আট দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করার তথ্য দেয় পুলিশ। এরপর তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক।
সবশেষ গত ৭ জানুয়ারি জুলাই আন্দোলনের সময় বাড্ডায় এক যুবককে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এবং শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে আনিসুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
অপরদিকে ৫ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আনিসুলের তিনটি গাড়িসহ ৫৮৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ জমি জব্দের আদেশ দেয় ঢাকার একটি আদালত।
রোববার করা সিআইডির মামলায় অভিযোগ করা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মো. কামরুজ্জামান ২০১৫ সালে যোগ দেন। এর পর থেকে তিনি তৌফিকা করিমের আইনি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘সিরাজুল হক অ্যাসোসিয়েটসের’ সঙ্গে ‘নামমাত্র আইনি পরামর্শ’ চুক্তি করেন। এ চুক্তির আওতায় এরপর তিনি তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে নিয়মিত অর্থ স্থানান্তর করতেন।
সিআইডি বলছে, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পর্যন্ত শুধু ‘ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান’ থেকে মোট ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা আদায় করা হয়।
এছাড়া সিআইডির অনুসন্ধানে তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ‘চাঁদা আদায়ের তথ্য’ পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
সিআইডি বলছে, আনিসুল হক আইনমন্ত্রী হওয়ার পর তৌফিকা করিম ও রাশেদুল কাওসারকে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। একইসঙ্গে তিনি ‘লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স টু হেল্পলেস প্রিজনার অ্যান্ড পারসন্স’ নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান গঠন করে তৌফিকাকে চেয়ারম্যান, কাওসারকে সেক্রেটারি জেনারেল এবং নিজে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, “এই এনজিওর নামে সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় পরিচালিত হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদার অর্থ আদায় করা হত।”
সিআইডি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ২০১৫ সালের ১১ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তৌফিকার নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা মোট ২৬টি হিসাবে জমা করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা। সিআইডির অনুসন্ধান চলাকালে আদালতের আদেশে এ অর্থ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া এসব তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মামলাটি করেছে।
অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।