Published : 09 Jul 2026, 09:06 PM
অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যা এবং পার্বত্য তিন জেলায় পাহাড় ধসের মারাত্মক ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় তথ্য আদান-প্রদান এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য পৃথক কন্ট্রোল রুম চালু করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিন পার্বত্য জেলায় ভারি বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতিতে যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে দুই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ওই দুই কর্মকর্তা হলেন- উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল (ফোন: ০১৭১২-৮৪০৮৩৭) ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম (মোবাইল নম্বর: ০১৭২৬-০০৭৬৯৩)।
অন্যদিকে বুধবার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সরদার উদয় রায়হান স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রে একটি দিবা-রাত্র (২৪ ঘণ্টা) কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে বলে তথ্য দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকার ৭২ গ্রিন রোডের পানি ভবনের (লেভেল: ২, কক্ষ নং: ২১৪) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রে এই কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে দেশের বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্যাদি দেওয়া হবে।
কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগের ফোন নম্বরগুলো হলো- ০১৩১৮-২৩৪৯৬২, ০১৩১৮-২৩৪৯৬৩, ০১৩২১-১৩৯৫৪২ এবং ০১৭০৯-৬৫৪৭৯১। ই-মেইল [email protected] এবং [email protected]
বুধবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, দেশের তিন জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি আরো বেশ কয়েকটি জেলা বন্যা ঝুঁকিতে পড়েছে।
কেন্দ্রের তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বন্যাক্রান্ত তিন জেলা বান্দরবান, কক্সবাজার ও হবিগঞ্জ। বন্যা ঝুঁকিতে রয়েছে আরো ১৪ জেলা। এগুলো হল- ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম।
একইদিন লঘুচাপের প্রভাবে আগামী এক থেকে দুই দিন সারাদেশে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে পাহাড়ি এলাকায় আবার ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে চট্টগ্রাম বিভাগে এ পর্যন্ত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে ১৯ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় ৫ জন করে এবং রাঙ্গামাটিতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।