Published : 09 Jul 2026, 10:00 PM
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন সম্পন্ন করতে তার জন্মভূমি মাশহাদে নেমেছে মানুষের ঢল। তাদের মুখে মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার স্লোগান।
ইরাক থেকে উড়োজাহাজে করে খামেনির কফিনবন্দি মরদেহ এরই মধ্যে মাশহাদে নেওয়া হয়েছে। শিয়া মুসলিমদের ইমাম রেজার মাজারে খামেনিকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
দীর্ঘ ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার তার মরদেহ চিরনিদ্রায় শায়িত করার মধ্য দিয়ে সব আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটতে চলেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর তার ছেলে মুজতাবা খামেনিকে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়।
একই হামলায় মুজতাবাও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এর পর থেকে তাকে এ পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি বাবা ও স্ত্রীর জানাজায় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মাশহাদে রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল নামে। মরদেহের কফিন আসার অপেক্ষায় থাকা ক্ষুব্ধ জনতা ট্রাম্পের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
মিছিলে অংশ নেওয়া নারীদের হাতে ‘ট্রাম্পকে হত্যা কর’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তারা স্লোগান দেয়, “সর্বোচ্চ নেতার রক্তের কসম, ট্রাম্প, আমরা আপনাকে মেরেই ছাড়ব।”
সমবেত পুরুষদের পরনে দেখা গেছে কালো শার্ট এবং নারীরা কালো চাদর পরে ছিলেন। অনেকের হাতেই ছিল শিয়া ঐতিহ্যের লাল পতাকা, যা সাধারণত হত্যাকাণ্ডের ‘প্রতিশোধ’ বা ‘রক্তের বদলা’ নেওয়ার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার হয়।
মাশহাদের এক বাসিন্দা বলেন, “এখানে উপস্থিত প্রতিটি মানুষের চোখে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে। আলোচনার টেবিলে কী চলছে বা সরকারের নীতি কী তা আমরা জানি না। আমরা সবাই লাল পতাকা হাতে পথে নেমেছি কেবল প্রতিশোধের দাবিতে।”
দাফনস্থলের কাছেই একটি হোটেলের দেয়ালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশাল ব্যঙ্গচিত্র ঝুলিয়ে তার মাথার দাম ঘোষণা করার পোস্টার দেখা গেছে। আরেক ব্যানারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবির নিচে ইংরেজিতে লেখা ছিল, ‘এখানে কেবলই রক্তপাত ঘটবে’।
খামেনির দেহ মাশহাদে নেওয়ার আগে গত এক সপ্তাহে খামেনি এবং তার সঙ্গে নিহত পরিবারের অন্য চার সদস্যের মরদেহ ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন নগরীতে নিয়ে যাওয়া হয়। তেহরান, কোম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালার জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়।
ইরাকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা দীর্ঘায়িত হওয়ায় বৃহস্পতিবার মাশহাদে ভোর ৬টার জানাজা পিছিয়ে দুপুর ২টায় শুরু হয়। এর মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরান ও মাশহাদের মধ্যকার একমাত্র রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পরই খামেনির মরদেহ ইরানের সবচেয়ে পবিত্র ও শ্রদ্ধেয় ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হচ্ছে। খামেনির জানাজার নামাজে ইমামতি করছেন দেশটির ১০১ বছর বয়সী প্রবীণ আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামেদানি।
খামেনির ব্যক্তিগত কার্যালয়ের প্রধান মোহাম্মদ মোহাম্মদি-গোলপায়গানি জানিয়েছেন, খামেনির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ীই তাকে মাশহাদের ওই পবিত্র স্থানে সমাহিত করা হচ্ছে। শতাব্দী প্রাচীন এই মাজারটিতে এর আগে বেশ কয়েকজন ইরানি শাহ ছাড়াও ২০২৪ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে দাফন করা হয়েছিল।