Published : 13 Jun 2026, 11:35 PM
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে তার কার্যালয়।
শনিবার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন শাহবাগ থানায় এ জিডি দায়ের করেন।
এর পেছনে দপ্তরের কিছু চাকরিচ্যুত ও অভিযুক্ত কর্মচারীর ইন্ধন থাকতে পারে বলে জিডিতে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।
তবে জিডিতে ‘Adv Abm Ibrahim Khalil’ (অ্যাডভোকেট এ বি এম ইব্রাহিম খলিল) নামের একটি ফেইসবুক আইডির কথা তুলে ধরা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি চিঠি শেয়ার করার কথা স্বীকার করেছেন।
অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের বিরুদ্ধে একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে।
জিডিতে বলা হয়, গত ১১ জুন সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল দেখতে পান যে, উক্ত ফেইসবুক আইডি থেকে তার মানহানি করার উদ্দেশ্যে একটি ভিত্তিহীন অভিযোগপত্র আপলোড করা হয়েছে। পরবর্তীতে ‘সৈনিক প্রথম সংবাদ’ এবং ‘Jurocon’ নামের বেশ কিছু ফেইসবুক পেইজ ও অনলাইন পোর্টালে সেটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
“চিঠিতে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে জানুয়ারি মাসে একটি মামলায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চলতি বছরের ২৫ মে।”
এতে বলা হয়, “উক্ত চিঠিতে প্রধান বিচারপতি, চেম্বার-জজ এবং সুপ্রিম কোর্টের কার্যধারা ও কজলিস্ট বিষয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।”
জিডিতে নাম আসার বিষয়ে অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম খলিল দাবি করেন, বিভিন্ন পেইজে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ‘চিঠিটির’ অভিযোগের বিষয়ে ‘সত্যতা জানতেই’ তিনি সেটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
চিঠিটির সত্যতা নিজে যাচাই করেছিলেন কি না–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভেরিফাই করার জন্যতো ওনার (অ্যাটর্নি জেনারেল) কাছে জানতে চাই যে, কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা? এটা আসলে কী? এটা বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন অনলাইন পেইজে, বিভিন্ন জায়গায় এটা করছে, ঘটনাটা কী?”
ছড়িয়ে পড়া ওই চিঠিতে অভিযোগকারী হিসেবে জনৈক ‘ফিরোজুর রহমান’ বা ‘ফিরোজপুর রহমান’ নামের এক ব্যক্তির স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়।
তবে ওই নম্বরের প্রকৃত ব্যবহারকারী রাজধানীর গুলস্তানের ফুলবাড়িয়া জাকের সুপার মার্কেটের ফিরোজ আহম্মেদ। তিনি নিজের নম্বর জালিয়াতির অভিযোগ এনে গত ১০ জুন বংশাল থানায় আলাদা একটি জিডি করেন।
তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার অনুরোধ জানান।
এ জিডির বিষয়ে বংশাল থানার এসআই মো. পলাশ বলেন, “ফিরোজ নামের এক ব্যক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল সম্পর্কিত একটি জিডি করেছিলেন গত ১০ তারিখে। মূলত তার পরিচয় ব্যবহার করে অন্য একটি ফোন নম্বর থেকে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছিল।”
প্রতারণার ধরন ও তদন্তের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “ওই ব্যক্তি প্রতারণা করার জন্য পরিচয় ব্যবহার করেছেন। এমনকি অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে টাকা-পয়সা নেওয়ার মত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছিলেন।”
অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে ফেইসবুকে ছড়ানো সেটি চিঠিটি লেকা হয় আইনমন্ত্রীর কাছে। চিঠিতে ফিরোজুর রহমান নামের এক ব্যক্তির সই রয়েছে, তবে নামের জায়গায় লেখা হয়েছে ‘মোঃ পিরোজপুর রহমান’।
তার পরিচয়ে লেখা হয়েছে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, জাকের সুপার মার্কেট, ফুলবাড়িয়া, ঢাকা।