২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশ্যে চলন্ত গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরি, ভাইরাল ভিডিও দেখে গ্রেপ্তার ১

“ইদানিং নোয়া স্কয়ার মাইক্রোবাসের এই বডি প্যানেলটা খুব চুরি হচ্ছে। আরও কিছু গাড়ির বডি পার্টস যেগুলোতে কোনো নাট-বল্টু নেই শুধু ক্লিপ দিয়ে বডির সাথে আটকানো থাকে, সেগুলোও খুব চুরি হচ্ছে।”

প্রকাশ্যে চলন্ত গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরি, ভাইরাল ভিডিও দেখে গ্রেপ্তার ১
গ্রেপ্তার মো. জাবেদ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Jun 2025, 01:27 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:13 PM

রাজধানীর গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট এলাকায় যানজটের মধ্যে ধীরে চলা অবস্থায় এক তরুণের একটি মাইক্রোবাসের সাইড প্যানেল খুলে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। 

পুলিশ বলছে, ২২ বছর বয়সী এই তরুণের নাম মো. জাবেদ। তাকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকার গাড়ি চালক ও মেকানিকরা বলছেন, টয়োটার নোয়া স্কয়ার মাইক্রোবাস, সিএইচআর এসইউভি, প্রিয়াস সেডানসহ কয়েকটি মডেলের গাড়ির কিছু ‘বডি পার্টস’ শুধু ক্লিপ দিয়ে বডির সাথে আটকানো থাকে। এগুলো টান দিয়ে খুলে ফেলা যায়। এগুলোই প্রচুর পরিমাণে চুরি হচ্ছে, চলন্ত অবস্থাতেই এগুলো খুলে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। 

এছাড়া বিভিন্ন মডেলের গাড়ির সামনে ও পেছনের গ্লাস রাবার, সাইড মিররের ঢাকনাও চুরি হচ্ছে হরদম। চুরির পরে কাকরাইলের স্কাউট মার্কেট বা ধোলাইখাল পুরনো যন্ত্রাংশের মার্কেট থেকে একেকটি পার্টস সংগ্রহ করতে হচ্ছে, গচ্চা যাচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

গত মঙ্গলবার ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও এক মটোভ্লগারের হেলমেটে বাঁধা ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেখানে দেখা যায়, যানজটের স্বল্প গতির মধ্যে কালো রঙের টয়োটা নোয়া স্কয়ার মাইক্রোবাসটি যখন ধীর গতিতে চলছিল, হঠাৎই এক তরুণ পাশ থেকে এসে গাড়িটির বাঁ পাশের টানা দরজার ওপরের প্যানেলটি খুলে নিয়ে যায়। 

লোকজন হইহই করতে করতে চোর পগাড়পার, গাড়ি থামিয়ে গতবাক চালক নিচে নেমে এলেও আর কিছু করার ছিল না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছেন, “এ ধরনের দুটি ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

পরে বৃহস্পতিবার রাতে ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার রাতে বিজয়নগরের হোটেল একাত্তরের সামনে থেকে জাবেদকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়। 

সেখানে বলা হয়, গত ১৬ জুন গুলিস্তান গোল চত্বরে চলন্ত মাইক্রোবাস থেকে পার্টস খুলে নিয়ে পালিয়েছিলেন জাবেদ। সেই ভিডিও ভাইরাল হলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জাবেদের বিরুদ্ধে ডিএমপি শাহবাগ ও বংশাল থানায় দুটি মামলা আছে।

ঢাকার আগারগাঁও এলাকার মোটর গ্যারেজের মালিক মিলন হোসেন বলছেন, “ইদানিং নোয়া স্কয়ার মাইক্রোবাসের এই বডি প্যানেলটা খুব চুরি হচ্ছে। আরও কিছু গাড়ির বডি পার্টস যেগুলোতে কোনো নাট-বল্টু নেই শুধু ক্লিপ দিয়ে বডির সাথে আটকানো থাকে, সেগুলোও খুব চুরি হচ্ছে। টয়োটার সিএইচআর, হ্যারিয়ারের মত এসইউভির ছাদের বিট রাবার, সামনের লোগো, হুডের কাভারসহ বেশ কিছু সৌন্দর্যবর্ধক পার্টস চুরির তালিকায় ওপরে রয়েছে। 

এভাবে জাবেদের গাড়ির পার্টস চুরির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। 

এভাবে জাবেদের গাড়ির পার্টস চুরির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

“প্রিয়াস গাড়ির কোম্পানির লোগো, সাইড মিররের ঢাকনা, পেছনের কাঁচের ওপরের ঢাকনা এসব চুরি হচ্ছে বেশি। এছাড়া করোলা এক্সিওসহ সব গাড়িরও কাঁচের রাবার, গ্লাসের ঢাকনা চুরি হচ্ছে।”

সম্প্রতি চুরির শিকার হয়েছেন প্রিয়াস গাড়ির মালিক বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা রিজভি আহমেদ। তিনি বলছেন, “ঈদের পরের দিন গাড়ি রেখে বন্ধুর বাসায় ঢুকেছিলাম। বের হয়ে দেখি গাড়ির পেছনের প্লাস্টিকের ঢাকনাটা নাই। এটা আবার লাগাতে ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।”

ফেইসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে গাড়ির মালিকেরা গাড়ি পার্ক করে রাখা এমনকি চলন্ত অবস্থাতেও চুরির শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। 

মোটর মেকানিক মিলন হোসেন বলছেন, নোয়া স্কয়ার গাড়ির ওইটুকু সাইড প্যানেল কিনতে গেলে ১০ হাজার টাকা লাগে। কয়েকদিন আগে তার এক গ্রাহক বিজয় নগরের স্কাউট মার্কেট থেকে ‘রিকন্ডিশন্ড’ বডি পার্টস হিসেবে কিনেছেন।

“ধোলাইখালেও এসব পাওয়া যায়। কালার মিলিয়ে পাওয়া গেলে ভালো, না হলে কালার করতে হয়। অনেকে এখন এসব গাড়ি কিনেই এসব জায়গায় রিপিট মেরে নিচ্ছেন। রিপিট না মারলেই চুরি। রিপিট থাকলে টান দিলে ভেঙে যায়। এ কারণে চোরেরা সেটা নেয় না।”

ঢাকা শহরে তিন দশক ধরে ট্যাক্সি ও ভাড়ার গাড়ি চালাচ্ছেন আশরাফ আলী। তিনি বলেন, “আগে খুব আয়না চুরি হইত। কখনো ভেতরের কাচের আয়নাটা খুইলা নিয়া যাইত, আবার কখনো পুরা আয়নাটাই টান দিয়া ভাইঙা-চুইড়া নিয়া যাইত। 

“যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার যখন হইতেছিল তখন নারায়ণগঞ্জ থিকা আসার সময় আমার হান্ড্রেড গাড়ির বাম পাশের আয়নাটা টাইনা নিয়া গেল। চুরি ঠেকাইতে ওই সময় অনেকে আয়নাগুলা রিপিট দিয়া পাত্তি মাইরা রাখত। মাঝখানে আয়না চুরি কমছে। এখন আবার চোরদের উৎপাত খুবই বাড়ছে।”